১৯শে নভেম্বর, ২০১৮ ইং | ৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ১১:২১

কালীগঞ্জে রাতের আধাঁরে নাম্বার বিহীন ইট দিয়ে চলছে রাস্তা পাকাকরনের কাজ

রংপুর প্রতিনিধিঃ

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে একটি রাস্তা পাকা করণের কাজে  নিম্নমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার  করার অভিযোগ উঠেছে। কাজের সময় এলজিইডির প্রকৌশলীদের অনুপস্থিতি এমনকি ওইসব নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করা হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এলজিইডির লোকজনকে ‘ম্যানেজ’ করেই সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তবে ব্যবহার অযোগ্য খোয়া অপসরাণ করতে ইতোমধ্যে দুটি চিঠি দিয়েছে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীর দপ্তর। উপজেলার শ্রীখাতা(সোনামারি) থেকে খোদরপাড়া পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটারের সড়ক নির্মাণে উঠেছে এসব অভিযোগ। সড়কটি পাকা করণে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮০ লাখ টাকা।

এলজিইডি সূত্র মতে, সড়কটি পাকাকরণ কাজের দরপত্র আহবান করা হয় গত বছরের ১৯ নভেম্বর। আর এর কার্যাদেশ দেওয়া হয় ওই বছরের ডিসেম্বরে। কাজটি পায় জেলার আদিতমারী উপজেলার ঠিকাদার আব্দুল হাকিম। তবে আব্দুল হাকিমের লাইসেন্সে কাজটি কালীগঞ্জের ইটভাটা ব্যবসায়ী আতাউর রহমান ওরফে মাঝি করছেন বলে জানা গেছে। আতাউর মাঝি কাজ করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, পুরো রাস্তার সাববেজ(নিচের স্তর) শেষ করে শুরু হয়েছে ডাব্লিউবিএম(দ্বিতীয় স্তর)। ইতোমধ্যে অর্ধেকের বেশি ডাব্লিউবিএম শেষ হয়েছে। তবে পুরো ডাব্লিউবিএমের জন্য ব্যবহৃত খোয়া অত্যন্ত নিম্নমানের । সেইসাথে গাড়ি ভর্তি করে সড়কে এনে ফেলতে দেখা গেছে ব্যবহার অযোগ্য ইটের খোয়া, যা স্থানীয়ভাবে রাবিস হিসেবে পরিচিত। এসকল উপকরন দিয়ে রাতেও চলছে রাস্তার কাজ।  এখন পর্যন্ত যে  ইট  ব্যবহার করা হয়েছে তাহা নিম্নমানের।  এই সমস্ত ইট হাতের তালুতে নিয়ে চাপ দিলে গুড়ো হয়ে যায়। দেখে মনে হচ্ছে ইট আকৃতির চুলার মাটি। রাস্তা পাকাকরনের কাজে যে ইট ব্যবহার হচ্ছে তা পা দিয়ে পাড়া দিলেই গুঁড়ো হয়ে যাচ্ছে ।  এতে শুধু ইট গুঁড়ো হচ্ছে না, এর সঙ্গে ভেঙে চুরমার হচ্ছে সোনামারী ও খোদরপাড়া এলাকার মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন। নিম্নমান ও নম্বরবিহীন এসব ইটের খোয়া ব্যবহার করে  কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ঠিকাদার আর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন চোখের সামনে ভেস্তে যাচ্ছে সোনামারী ও খোদরপাড়া এলাকাবাসীর।

এলাকাবসীর প্রশ্ন আসলে আতাউর মাঝির খুটির জোর কোথায়?

গত শনিবার  রাতে ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের মাঝখানে স্তুপ করে নাম্বার বিহীন  ইটের গুড়া মিশ্রিত ব্যবহার অযোগ্য খোয়া রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসীন্দা পবিত্র রায়, মলিন চন্দ্রসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই দায়সারা ভাবে রাস্তার কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। উল্টো ‘সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার’ অভিযোগে এলাকাবাসীকে হুমকিও দিয়েছেন আতাউর মাঝি।

জানা গেছে, ওই সড়কের পাশেই ওই মাঝির বিবিএমসি নামের ইটভাটা আছে। মূলত তার ভাটায় থাকা গত মৌসুমের অবিকৃত খোয়া-রাবিস দিয়েই তিনি সড়ক নির্মাণের কাজ করে যাচ্ছেন। আর ভাটার সাথে রাস্তাটি হওয়ায় এতে তার সুবিধাও হয়েছে বেশ। মাস দেড়েক আগে উপজেলার অপর একটি সড়ক বাবুড়হাট থেকে মাধবপাড়া  পাকা করণের কাজেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল ওই মাঝির বিরুদ্ধে। সে সময়ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষ নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণের জন্য চিঠি দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে।

সড়কটির কাজ ঠিকাদার আব্দুল হাকিম নিজে করছেন না দাবি করে বলেন, ‘আমার লাইসেন্স ব্যবহার করে বাস্তবে কাজটি কে করছে তা আমি জানিনা’।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের সার্ভেয়ার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এমন কথা স্বীকার করে আইনুল হক বলেন, ‘ মূল ঠিকাদার আব্দুল হাকিমের লাইসেন্সে কাজটি করছে সাফ ঠিকাদার আতাউর মাঝি। পর পর দুটি ঠিঠি দেওয়া হলেও তা কোনো ভাবেই মানছেন না। নিম্নমানের কাজ করে যাচ্ছেন সাফ ঠিকাদার ওই মাঝি।

এ বিষয়ে  আতাউর মাঝির সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অত্র এলাকার সচেতন মানুষের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে শিডিউল অনুসারে উপকরণ দিয়ে যেন রাস্তার কাজ হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

 

প্রকাশ :  অক্টোবর ১৪, ২০১৮ ১২:২৫ অপরাহ্ণ