২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৩:০৩

মনোনয়ন নামের সোনার হরিণ কে ধরবে?

গলাচিপা(পটুয়াখালী)প্রতিনিধিঃ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালী -৩ আসনটির বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ একটি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ সহ প্রায় সবগুলো দলই তাদের নমিনেশন প্রার্থীদের নিয়ে চিন্তার রোষানলে আছেন। কেননা প্রতিটি দলেই রয়েছে একাধিক প্রার্থী।দলগুলো প্রার্থী  নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে পর্যবেক্ষন ও চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই কেবল বিজয়ের লক্ষ্যে মনোনয়ন দিবেন। কিন্তু মনোনয়ন এর ক্ষেত্রে জনগনের কাছে সর্বাধিক  গ্রহনযোগ্য, জনপ্রিয় ও সৎ ব্যাক্তিদেরকেই বিবেচনার সর্বোচ্চ মান্দন্ডে স্থান দেয়া হবে।অর্থাৎ তারাই নমিনেশন পাবেন।
কিন্তু কে কে পাচ্ছেন বড় দুই দলের ডজন খানেক নেতার মধ্যে মনোনয়ন নামের সোনার হরিণ?
এই প্রশ্নের উত্তর খুজতে আমরা সাধারন মানুষের চাওয়া পাওয়া কেই বেশি প্রাধান্য দিবো।কেননা সাধারন মানুষের আস্থাভাজন ব্যাক্তিই পাবেন এবারের নমিনেশন। গলাচিপা -দশমিনায় ডজন খানেক নেতা থাকলেও  বি,এন,পির প্রার্থীদের ৩জন এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ও ৩জন প্রার্থী বেশ এগিয়ে।বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান খান যেমন এগিয়ে অন্যদিকে তরুন নেতা হাসান আল-মামুন ও পিছিয়ে নেই।যে যেভাবেই পারছেন তৃনমূলে নেতাকর্মীদের নিয়ে রীতিমত মাঠ গরম করছেন। যদিও আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মূল দলের অংশ গ্রহণ করা না করা নিয়ে তৃনমূল থেকে শুরু করে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এখনও সন্দিহান। কেননা বর্তমানে দলটি নেতৃত্বহীনতায় ভুগছে। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষমতায় থাকা আওয়ামীলীগ ও এর তৃনমূলের নেতাকর্মীরা বেশ শক্ত অবস্থানে  আছেন।

দলের নমিনেশন প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমানে নমিনেশন পাওয়ার জন্য বেশ দৌড়ঝাপ চলছে।আ.খ.ম জাহাঙ্গীর হোসাইন (বর্তমান এম পি) দলীয়ভাবে নমিনেশন প্রার্থী থাকলেও তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগ রয়েছে দলীয় নেতাকর্মী এবং সাধারন মানুষের।কেননা সরকার উন্ননের জন্য ব্যাপকভাবে কাজ করলেও পটুয়াখালী-৩ এ এমপি জাহাঙ্গীর এর দলীয় ছাড়া এমপি হিসেবে তার তেমন কোনো ভূমিকা নেই বললেই চলে।কেননা সরকারের থেকে বরাদ্ধকৃত বিভিন্ন প্রকল্প থেকে তার দূর্নীতির ও  চাঁদাবাজির প্রভাব রয়েছে।সুতরাং নমিনেশন এর ক্ষেত্রে সাধারন মানুষেরও চাওয়া এবং কেন্দ্রীভাবে নেতাদের সিদ্ধান্তই এক হবে কারন দলীয়ভাবে এবং সাধারন মানুষের চাওয়া এবার নতুনত্ব আসবে অধিকাংশ আসনের ক্ষেত্রে। সেই হিসেবে পটুয়াখালী-৩ এ আওয়ামী লীগের নতুন মুখ হচ্ছেন -“শাহাজাদা সাজু”, তরুন এই নেতা বর্তমান নির্বাচন কমিশনারের ভাগ্নে হওয়ায় অনেকেই মনে করছেন তিনি হয়তো নমিনেশন পেতে পারেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় নেতাগন  এই বিষয়ে ভালোভাবেই খোজ নিচ্ছেন যে একেবারেই নতুন হওয়ায় জনগনের কাছে তার গ্রহন যোগ্যতা কতটুকু হবে বা নির্বাচন কমিশনারের ভাগ্নে হওয়ায় তাকে নমিনেশন দিলে দলের ইমেজ নিয়েও টানাটানি পরবে কি না।সুতরাং দলীপ্রধানগন যা করবেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ভেবেচিন্তেই করবেন।

অন্যদিকে সাধারন জনগন এবং দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগের  সবচেয়ে গ্রহনযোগ্য ব্যাক্তিত্ব ও  আস্থার প্রতীক হিসেবে বেশ এগিয়ে (সাবেক সংসদ সদস্য) আলহাজ্জ্ব গোলাম মাওলা রনি। তৃনমুলীয় আওয়ামীলীগ এবং সাধারন মানুষের চাওয়া এবার নমিনেশন তিনিই পাক।কেননা গোলাম মাওলা রনি ক্ষমতায় থেকে এবং না থেকেও সাধারন মানুষের জন্য এবং এলাকার উন্ননের জন্য যতটুকু করেছেন অন্য নেতারা তা করতে পারেননি।সাধারন মানুষদের থেকে জানা যায় গোলাম মাওলা রনি সাহেব এমপি থাকাকালীন এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।রাস্তা-ঘাট,ব্রিজ-কালভার্ট,মসজিদ-মন্দির এমনকি বিদুৎ সহ সরকারী ব্যাপক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাও তার সময়ে এমপিওভুক্ত হয়েছে।এমন কি তিনি এমপি থাকাকালী অবস্থায়ই নিজ মাথাতে করে বেড়িবাধ তৈরিতে মাটির ঝাকা মাথায় নিয়ে শ্রমিকদের সাথে কাজ করেন।

মজার ব্যাপার হচ্ছে তার এমন উন্নয়নের এবং উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডের জন্য বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সাধারন মানুষও তাকে মন প্রান দিয়ে ভালোবাসেন। তাকে ভালোবেসে এবং তার আদর্শে অনুপ্রানিত হয়ে অনেকেই বিএনপি ছেড়ে আওয়ামীলীগে যোগ দিয়েছেন বলে জানা যায়।কিন্তু সাধারন জনগনের ভালোবাসার ও আস্থার প্রতীক এই লোকটির ইমেজ নষ্ট করতে রাজনৈতিক কিছু দুশ্চরিত্রবান হিংসুক ব্যাক্তি/ব্যাক্তিমহল ইর্ষান্বিত হয়ে তার বিরূদ্ধে অপপ্রচার চালায়।কিন্তু তাদের এই অপপ্রচারে তারা সফল হতে পারেন নি।

কেননা এবার সাধারন মানুষের ভালোবাসা নিয়েই দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।তিনি বিশ্বাস করেন সাধারন মনুষ তার জন্যই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।ফলে এবারের নমিনেশন তার ঝুলিতেই আসবে বলে আশাকরা যায়।

কিন্তু সম্পূর্ণ ফলাফল জানতে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে এই মাসের শেষ অবধি পর্যন্ত।কেননা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গুলো দলীয়ভাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। গোলাম মাওলা রনি  মনোনয়ন পেলে সাধারন মানুষের আশা আকাঙ্খারপ্রতিফলন ঘটবে বলে মনে করেন সাধারন মানুষ ও সুধীমহল।

প্রকাশ :  অক্টোবর ১১, ২০১৮ ৭:০৩ অপরাহ্ণ