২০শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং | ৬ই কার্তিক, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ২:৫৮

উইঘুর মুসলিমদের বন্দী রাখার বিষয়টি স্বীকার করল চীন

বন্দী শিবিরে উইঘুর মুসলিমদের বন্দী করে রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছে চীন। লাখ লাখ উইঘুর মুসলিমের লাপাত্তা হয়ে যাওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের মুখে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশের কর্তৃপক্ষ বন্দী শিবিরগুলোকে আইন করে বৈধতা দিয়েছে।

বলা হচ্ছে, ইসলামি কট্টরবাদ মোকাবেলার অংশ হিসেবে আটক উইঘুরদের আদর্শ শেখানো, তাদের চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে।

তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো দাবি, এসব বন্দী শিবিরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে উইঘুরদের শপথ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে আত্মসমালোচনা করানো হচ্ছে।

জিনজিয়াংয়ে গত কয়েক বছর ধরে অব্যাহত সহিংসতা চলছে। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, আগস্টে চীন প্রায় ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দী করেছে। তবে চীন প্রথমে এ অভিযোগ অস্বীকার করে।

চীনের নতুন আইনে বলা হয়েছে, যেসব আচরণের কারণে বন্দী শিবিরে আটক করা হতে পারে তার মধ্যে রয়েছে খাবার ছাড়া অন্য হালাল পণ্য ব্যবহার, রাষ্ট্রীয় টিভি দেখতে অস্বীকার করা, রাষ্ট্রীয় রেডিও শুনতে অস্বীকার করা, রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বাচ্চাদের দূরে রাখা।

চীন বলছে, এসব বন্দী শিবিরে চীনা ভাষা শেখানো হবে, চীনের আইন শেখানো হবে এবং বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

বিবিসির প্রতিবেদন বলছে, জিনজিয়াংয়ে বিভিন্ন ইসলামি রীতি এবং আচারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রচারণা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে খাদ্য ছাড়া বিভিন্ন হালাল পণ্য ব্যবহারের প্রবণতার বিরোধিতা করা হচ্ছে।

স্থানীয় একটি সংবাদপত্রে লেখা হয়েছে, টুথপেস্টের মতো পণ্যে হালাল জড়িয়ে মানুষকে ধর্মীয় উগ্রবাদের পথে নেয়া হচ্ছে। সোমবার প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টির এক সভায় নেতারা হালাল পণ্য ব্যবহারের প্রবণতা রুখে দেয়ার অঙ্গীকার করেন।

চীনের নতুন আইনে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে, মুসলিম নারীরা মুখ ঢাকা বোরকা ব্যবহার করতে পারবে না। অপরদিকে, কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যদের এবং কর্মকর্তাদের স্থানীয় ভাষা ব্যবহারের পরিবর্তে চীনা ম্যান্ডারিন ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বন্দী শিবিরগুলো কেমন

এইসব বন্দী শিবিরে আটকে ছিলেন- এমন লোকজন বিবিসির কাছে সেখানে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের কথা বলেছেন। সাবেক বন্দীদের উদ্ধৃত করে নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, বন্দীদের জোর করে কমিউনিস্ট পার্টির বন্দনা করে গান গাওয়ানো হয়। গানের কথা ভুলে গেলে সকালের নাশতা দেয়া হয় না।

উইঘুর মুসলিমরা জিনজিয়াংয়ের জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশ। জাতিগতভাবে তারা নিজেদেরকে মধ্য এশিয়ান মনে করে। তাদের ভাষা অনেকটা তুর্কি ভাষার মতো। গত কয়েক দশকে হান চীনারা (চীনের সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতিগোষ্ঠী) জিনজিয়াংয়ে বসতি গেড়েছে, যেটা উইঘুররা একেবারেই পছন্দ করেনি।

প্রকাশ :  অক্টোবর ১১, ২০১৮ ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ