১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সকাল ৭:৩৮

ভোটের আগে প্রকল্প পাসের হিড়িক

ভোটের আগে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের হিড়িক পড়েছে। চলতি অর্থবছরের সর্বশেষ ছয় বৈঠকে অনুমোদন হয়েছে ৮৭ প্রকল্প। এসব প্রকল্পের অনুকূলে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯০ হাজার ৬৩ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ অর্থবছরের শুরুর দিকে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ৮-১০টি প্রকল্প অনুমোদন হয়ে আসছিল। তবে নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে প্রকল্প অনুমোদনের সংখ্যা তত বাড়ছে।

এর মধ্যে গত ২৯ জুলাই অনুষ্ঠিত বৈঠকে অনুমোদন হয় ৯টি প্রকল্প। এর ব্যয় ধরা হয় সাত হাজার ৫৩৯ কোটি টাকা। ৭ আগস্টের বৈঠকে উপস্থাপন করা হয় ১১টি প্রকল্প, যার সবগুলো পাসও হয়। ব্যয় ধরা হয় ছয় হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা। ১১ আগস্ট প্রকল্প পাস হয় ১৮টি। ব্যয় ধরা হয় ১৭ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা।

গত ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১৩ হাজার ২১৮ কোটি টাকার ১৫ প্রকল্প অনুমোদন পায়। আর সর্বশেষ মঙ্গলবারের (৯ অক্টোবর) বৈঠকে ২০টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ৩২ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, প্রকল্প দ্রুত ছেড়ে দেয়ার চাপ রয়েছে। এ জন্য যাচাই বাছায়ে যথেষ্ট সময় না পেলেও বাধ্য হয়েই প্রকল্পের কাজ সারতে হচ্ছে। অনেক সময় বিভিন্ন বিষয়ে কোয়ারি (তথ্যানুসন্ধান) করা যাচ্ছে না। ফলে প্রকল্পের অনুমোদন হলেও বাড়তি ব্যয় বরাদ্দের ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক প্রকল্পই অনুমোদনের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি করা হয়েছে। এ ছাড়া কঠিন শর্তের ঋণ নিয়েও বড় বড় প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। এতে দেশ ঋণগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান সম্প্রতি বলেন, প্রতিটি প্রকল্পের শুরুতে যা ব্যয় দেখানো হয়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহুগুণে এর বাজেট বেড়ে যায়। আমরা এখন ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের দিকে যাচ্ছি। আমরা মধ্যম আয়ের কথা বলছি, অথচ আমাদের দেশে এখনও এক কোটি ৪০ লাখ মানুষ দরিদ্র। তাদের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। মানুষ দেশের বাইরে যায় কিন্তু রেমিটেন্স কমে যাচ্ছে এ বিষয়টি দেখা প্রয়োজন।

নিয়মানুসারে প্রকল্পে মোট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সরকারি নিজস্ব অর্থায়ন, বৈদেশিক সহায়তা ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়। সব প্রকল্পেই বিদেশি সহায়তা পাওয়া যায় না। তখন দেশীয় অর্থায়ন থেকে এসব ব্যয় মেটানো হয়।

মঙ্গলবারের সভায় অনুমোদন দেয়া ২০ প্রকল্পের মোট খরচ ধরা হয়েছে ৩২ হাজার ৫২৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৫ হাজার ৪৯৪ কোটি ৩৭ লাখ, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ১১ হাজার ৬৫৬ কোটি ২৭ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে পাঁচ হাজার ৩৭৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা ।

৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত বৈঠকে ছয় হাজার ৪৪৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ছয় হাজার ৪১৬ কোটি ১৬ লাখ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে সাত কোটি ৯৮ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

২৯ জুলাইয়ের বৈঠকে সাত হাজার ৫৩৯ কোটি ১৩ লাখ টাকার ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ছয় হাজার ৭৫১ কোটি ৬৬ লাখ, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ২৫৮ কোটি ৫৭ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৫২৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১৮ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এগুলো বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৭৮৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৩ হাজার ৮১৩ কোটি ৪৪ লাখ, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৪২ কোটি ৬২ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে তিন হাজার ৯৩০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা খরচ ধরা হয়েছে।

২ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ১৫ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এগুলো বাস্তবায়নে মোট খরচ ধরা হয়েছে ১৩ হাজার ২১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে আট হাজার ৪৭৯ কোটি ২২ লাখ, বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৪৪৮ কোটি ৪৩ লাখ এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে চার হাজার ২৯০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা খরচ করা হবে।

দেখা যায়, এসব প্রকল্পের অধিকাংশই রাস্তাঘাট, বাজার, ব্রিজ তথা অবকাঠামো উন্নয়ন-সংক্রান্ত। এতে গ্রামীণ অঞ্চলের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে ভোটের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানান, নিয়ম মেনেই প্রকল্প নেয়া হচ্ছে। মানুষের জন্যই রাজনীতি করি। উন্নয়ন প্রকল্প নেয়াও হয় মানুষের জন্য। প্রকল্প দিয়ে ভোট পেলে সমস্যা নেই।

তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছে সরকার। দেশের এমন কোনো জায়গা পাওয়া যাবে না যেখানে সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি

প্রকাশ :  অক্টোবর ১০, ২০১৮ ৫:৪৫ পূর্বাহ্ণ