১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | রাত ৮:১৩

নতুন আইনকে ঘিরে কেউ অপব্যবহার করলে কঠোর শাস্তি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মাদকদ্রব্যের অপরাধ রোধে নতুন আইনকে ঘিরে কেউ অপব্যবহার করার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

আজ সোমবার বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন অনুমোদিত আইনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে মাদক ব্যবসায়ীদের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। নতুন এ আইনের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর আরো বেশি কঠোর হয়ে কাজ করতে পারবে বলে আমরা মনে করি।

এ আইনকে ঘিরে কেউ যেন অপব্যবহার করতে না পারে এ বিষয়ে সবার প্রতি আহ্বান জানান আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, মাদকদ্রব্যের অপরাধ রোধে নতুন আইনকে ঘিরে কেউ হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হলে তিনি পুলিশ কর্মকর্তা, র‍্যাবের কর্মকর্তা অথবা যেই হোক তাদের বিরুদ্ধেও আমাদের আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে।

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা হওয়ার আশঙ্কা আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি এই রায়কে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা হওয়ার আশঙ্কা নেই। এ দেশের মানুষ জঙ্গিবাদ, বিশৃঙ্খলাকারী ও সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় দেয় না।

সমাজ ধ্বংসকারী ভয়াবহ মাদক ইয়াবা সেবন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির দায়ে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান যুক্ত করে আজ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের খসড়া অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। ইয়াবা সেবনে কাউকে উদ্বুদ্ধকরণ ও অর্থ বিনিয়োগের দায়েও একই সাজার বিধান রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে এ আইনে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে আজ আইনটির খসড়া অনুমোদন হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের আইনের বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে আগের একটি আইন রয়েছে। সেই আইনে ইয়াবা, সিসাসহ অনেক মাদকদ্রব্যের বিষয়ে কোনো শাস্তির বিধান ছিল না। বর্তমানে অনেক ধরনের মাদকদ্রব্য সমাজে বেচাকেনা হচ্ছে। এতে যুবক শ্রেণিসহ বিভিন্ন বয়সের ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আকৃষ্ট হচ্ছে। এ কারণেই আইনটি হালনাগাদ করার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিদ্যমান আইনের শাস্তির বিধান অপ্রতুল। প্রস্তাবিত আইনে শাস্তির মেয়াদ বৃদ্ধিরও প্রস্তাব করা হয়েছে।

শফিউল আলম বলেন, কোনো ব্যক্তি ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন ও কোকেনসহ এজাতীয় মাদক গ্রহণ, সেবন, বেচাকেনা, সংরক্ষণ করলে তার সর্বনিম্ন দুই বছর সাজা ও সর্বোচ্চ ১০ বছরের সাজার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ জাতীয় মাদক ২৫ গ্রামের বেশি সেবন, বেচাকেনা ও মজুদ করলে তার সাজা মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের কথা বলা হয়েছে এই আইনে।

ইয়াবার বিবরণ দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটি এখন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আগের আইনটি যখন করা হয় তখন ইয়াবার বিষয়টি ছিল না। নতুন আইনে ইয়াবার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। কেউ যদি ৫ গ্রামের কম ইয়াবা সেবন, বিক্রি, মজুদ বা পরিবহন করে তাহলে তার শাস্তি হবে সর্বনিম্ন ছয় মাসের কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড। যদি ইয়াবার পরিমাণ ৫ গ্রামের বেশি হয় তাহলে এ ধরনের অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হবে।

প্রকাশ :  অক্টোবর ৮, ২০১৮ ৫:০৪ অপরাহ্ণ