১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং | ২৬শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ | সন্ধ্যা ৭:৫৬

চাটমোহরে নঈম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পাবনা ও চাটমোহর প্রতিনিধি
পাবনার চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের নঈম উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে ওই স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. রাশেদুল ইসলাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। এদিকে এই অভিযোগ দেয়াকে কেন্দ্র করে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। যে কারণে স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা ভীতিকর পরিবেশের মধ্যে দিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করছে।

অভিযোগে জানা গেছে, স্লিপ ফান্ডের টাকা তছরুপ, বিনামূল্যে বই বিতরণের সময় ১০ টাকা করে উত্তোলন, বিদ্যালয়ের ফল-ফলাদী বিক্রি করে সেই টাকা নিজেই ভোগ করা, স্কুলের পুরাতন টিন এনজিওকে ভাড়া দেয়া, স্কুল চলাকালীন সময়ে ঘুমানো, স্কুলের আলমারি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারসহ মোট ১১টি অভিযোগ এনে ইউএনও এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর একই স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. রাশেদুল ইসলাম অভিযোগ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধান শিক্ষক অভিযোগকারী ওই সহকারী শিক্ষককে স্কুল চলাকালীন সময়ে বকাঝকা করেন বলে অভিযোগ।

সরেজমিনে নঈম উদ্দিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী নাদিরা পারভীন এবং শ্যালিকা নাজমুন্নাহার একই স্কুলে শিক্ষকতা করেন। এছাড়া ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বজলুল হক শোসান এবং তার স্ত্রী সুলতানা পারভীন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যা হওয়ার কারণে স্কুলটি ‘পারিবারিক স্কুল’-এ পরিণত হয়েছে। যে কারণে প্রধান শিক্ষক দোর্দন্ড প্রতাপ নিয়ে স্কুল পরিচালনা করেন। আর এ কারণে স্কুলের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অতিসম্প্রতি প্রধান শিক্ষক মোজাম্মেল হক এবং সহকারী শিক্ষকের মধ্যে স্কুল চলাকালীন সময়ে বাগবিতন্ডা শুরু হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্কুলে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন অভিভাবকরা।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে নঈম উদ্দিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। আক্রোশ বশত সহকারী শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম এগুলো করছেন। স্কুল চলাকালীন ঘুমের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি অসুস্থ মানুষ যে কারণে মাঝে মধ্যে একটু ঘুমাই। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তিনি ঝামেলা মিটিয়ে ফেলবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চেয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বজলুল হক শোসানের মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ার হোসাইন বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। খুব তাড়াতাড়ি তদন্ত করে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সরকার অসীম কুমার বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা অফিসারকে বলা হয়েছে। স্কুলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সব রকমের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রকাশ :  অক্টোবর ৪, ২০১৮ ৬:০৪ অপরাহ্ণ