+

দিপংকর দেবনাথের লেখা প্রবন্ধ: করোনার মহাগ্রাস

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২ দিন ২০ ঘন্টা ৪৫ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 1950
...

লেখক: দিপংকর দেবনাথ

বাংলাদেশ হুমকির মহা শীর্ষে ।করোনা পরিস্থিতির কারণে জাতি আজ মহা সমুদ্রে নিমজ্জিত ।এমন এক মহাসংকট যার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে অথ'নীতির সকল স্তর যেন নিরব  ঘাতকের ধারালো অস্ত্রের মতো বিধে যাচ্ছে। চুপিসারে মানুষগুলো গুমড়ে গুমড়ে কাঁদছে। কারো ঘরে খাবার আছে তো কারো ঘরে খাবার নেই । বাঙালি আজ দিশেহারা শক্তিমান ব্যক্তি ও  করোনা থাবায় দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। সন্ত্রাসী আজ সন্ত্রাসী কার্যক্রম থেকে নিজের বাঁচার গতি আর জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না। অন্যকে ক্ষতি করবে কি করে প্রতিটা মানুষ আজ বাঁচতে চায়  বাঁচার জায়গা খুঁজে পেতে চায় । কিন্তু কোথায় পাবে সে জায়গা করোনা কে ধ্বংস করার ঔষধ নেই  । কি করে নিজেকে  নিরাপদে রাখবে । কি করে নিজেকে শত্রুর হাত থেকে বাঁচাতে দেশ নয় পৃথিবীতে চলছে যেন মৃত্যুর মিছিল ।শুধুই কান্নার আহাজারি ।মা কাঁদছে তার সন্তানের জন্য, স্ত্রী কাঁদছে তার স্বামীর জন্য ,বোন কাঁদছে তার ভাইয়ের জন্য, ভাই কাঁদছে তার বোনের জন্য ,ভালোবাসার জায়গাটি যেন হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে মা-বাবা-ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজনের মেলবন্ধন ।ভাই বোনের বাড়ি যেতে দ্বিধা বোধ করে। বোন বাবা /ভাইয়ের বাড়ি আসতে সংকোচ বোধ করে। আবার প্রশাসনের নজরদারীর কারণে আসা সম্ভব হচ্ছে না ,একে অন্যের কাছে। এ এক মৃত্যুপুরীর বেদনাদায়ক শাস্তির মতই। যেন এক নতুন কেয়ামত। কে বড় ,কে ছোট ,কে ধনী ,কে গরিব ,কে মহান ,কে সন্ত্রাসী, কে হীন  কোনো কিছুরই বালাই নেই ।কার যে কখন সময় হয়ে যায় কার যে কখন ডাক আসে যায় কেউই বলতে পারে না ।সেই কুপোকাত গল্পের মতোই ।ছোট আর বড় নয় সিরিয়ালে যে বাজবে তারই বিদায় নিতে হবে ।কবে যে নির্মূল হবে তার কোন ইয়ত্তা নেই। যা শুরু হয় চীনের উহান প্রদেশ থেকে। তথ্য সূত্রে জানা যায় -এইডসের ঔষধ আবিষ্কারের উদ্দেশ্যে বিজ্ঞানীরা বাদুরের শরীর থেকে এক ধরনের ভাইরাস সংগ্রহ করে বন্দী অবস্থায় রাখে যা দ্বারা এইডসের প্রতিষেধক তৈরি করা হবে। কিন্তু সেই ভাইরাসটি বিজ্ঞানীদের অসচেতনতার কারণে তা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে যায় ।এর ফলে উহান প্রদেশের মানুষের শরীর থেকে শরীরে এর বিস্তার লাভ করে। সেই ভাইরাসটিকে করোনা ভাইরাস নামকরণ করা হয়। যার অর্থ সমূলে ধ্বংস। তাকে ইংরেজিতে কোভিড(covid)- 19 নাম দেয়া হয়। 2019 সালের ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত পর্যায়ে দেশের মানুষের শরীর থেকেদেশের মানুষের শরীরে বিস্তার লাভ করে এবং এটি মারাত্মক রূপ ধারণ করে। যা ইনফ্লুয়েঞ্জার একটি মারাত্মক রূপ। বর্তমান সময়ের কোন ড্রাগস এটি নির্মূল বা ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখেনা ।আর এটি কয়েকটি নতুন উপসর্গ নিয়ে বিস্তার ঘটায় যাকে ধ্বংসের মূল উপাদান খুঁজে পাওয়া যায় সব ধরনের সেনিটাইজার বা জীবাণুনাশক দ্বারা। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের কোন পথ নয়, সাময়িক বিপদমুক্ত হওয়ার সামান্যতম হাতিয়ার মাত্র। বিজ্ঞানীরা সেই জানুয়ারি /20 থেকে জুন /2020 পর্যন্ত এ ছয় মাস কোন প্রতিষেধক এর সুরাহা করতে পারেনি। তবে প্রতিশেধকের  পদ্ধতিগত রুপ প্রদান করলেও  অনুমোদন  এখনো হাতে মেলেনি ।তাই আজও আমরা নিরাশা। অর্থনীতির চাকা অচল হয়ে যাচ্ছে। তাইতো সরকার এ মহা পরিস্থিতিতে মহা চিন্তা করে মানুষের বাঁচার তাগিদে মাক্স পড়া বাধ্যতামূলক করে এবং নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজের কাছে দিয়ে অর্থনীতির চাকাকে সচল (কোনমতে )থাকার কারণে স্থায়ী লকডাউনকে শিথিল করে। তবে সরকার মানুষকে, দেশকে ভালোবাসার জায়গা থেকে দূরে সরায়নি। যেখানে করোনা সনাক্ত  বেশি সেখানে স্থায়ীভাবে রেড যোনে রুপান্তর করে। যাতে করে অন্য এলাকা বা অন্য ব্যক্তি আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ না  হয় ।সরকার মানুষের জন্য অনেক ভাবে এবং মানুষকে নিরাপদে রেখে এই বিপদ থেকে রক্ষা করতে চায়। ব্যক্তি বাঁচলে দেশ বাঁচবে এই কথাটির রেশ ধরে মানুষকে সব ধরনের সহায়তা প্রদান করে কিন্তু এই মানুষগুলো কি করে সরকারের কথাকে উপেক্ষা করে নিজের দৌড়াত্বে    চলাফেরা করে ।ভাবে আবার বলেও কি হবে ----যা হওয়ার হবে ।আল্লাহ বিপদ হ বিপদ কাটিয়ে নিয়ে যাবে। সে কথাটি  ঠিক। তাই বলে আল্লাহ তো বিবেক দিয়েছে আর সেই বিবেক দিয়ে বিচার করে কাজ করলে সবাই বিপদ মুক্ত থাকা যায়। আরে তুমি যদি না থাকো তবে তোমার কিছু হবে না কিন্তু তোমার সাথে যারা তাদের কি হবে ।একবার কি ভেবে দেখেছো তাদেরকে কে দেখবে ।অগাধ ভালোবাসার মানুষগুলোর কি হবে ।তুমি না হয় পরপারে গিয়ে  সুখেই থাকবে কিন্তু তোমার পরিবার তাদের কি হবে ,কে তাদের দেখভাল করবে। তুমি তোমার পরিবারের একমাত্র অবলম্বন। তোমার কাজ অন্যের দ্বারা কখনো সম্ভব নয় ।চুল কাটার কাজ কি আর ধোঁপা দিয়ে হয় ।হয় না আর যদি হয় তা সঠিকভাবে হয় না। তাই বলছি তোমার জায়গায় তুমি অন্য কেউ নয় তাই তো তোমাকে বাঁচাতে হবে, রক্ষা করতে হবে, তোমার জন্য নয় --তোমার পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য, দেশের জন্য। তুমি নিরাপদ থাকলে পরিবার নিরাপদ থাকবে, তুমি নিরাপদ থাকলে সমাজ নিরাপদ থাকবে, তুমি নিরাপদ থাকলে দেশ নিরাপদ থাকবে, তুমি নিরাপদ থাকলে এই পৃথিবী নিরাপদ থাকবে। তাই ঊর্ধ্বমুখে পথ চলিও না ।নিজেকে সবার তরে তৈরি করো যাতে করে তোমাকে দেখে অন্যে নিরাপদ থাকার অনুপ্রেরণা ও নির্দেশনা পায় ।ভালোবাসো পরিবার-সমাজ জাতিকে তার মাঝে খুঁজে পাবে নিজেকে। তোমার ছোট্ট শিশুটি যদি জানে বা বোঝে আমরা বিপদে আমাদের বিপদ থেকে বাঁচতে হবে। তবে তুমি কেন বোঝনা ।শুনেছ কি কখনো শিশুর সেই কথাটি বাবা-মাস্ক পড়বে, ভালো করে হাত ধোবে। জানো বাবা করোনাভাইরাসের এই মহামারীতে কোথাও কিছু খেলে হাত ধুয়ে খাবে ।আমিও হাত ভাল করে ধুয়ে খাবার খাই। আমি বলছি তবে তুমি কেন মাননা ?কেন উদাসীন হয়ে বাজারের খোলা খাবার খাচ্ছো? যেখানে জীবাণুর অহরহ আগমন। যার মাধ্যমে ছড়ায় নানা রোগের সংক্রমণ বাচাও দেশ, বাঁচাও জাতি ,বাঁচাও পৃথিবী। তাই আমরা সবাই হবো সচেতন। মানবো সরকারের নির্দেশনা ভালো করে সাবান দিয়ে হাত করবো স্খলন ।নিমূ'ল হবে করোনা ।শঙ্কামুক্ত হবে দেশ আর পৃথিবীতে ফিরে পাবো আমরা আবার নতুন সম্প্রীতি। তাইতো কবিতার ভাষায় বলতে হয়-------

 তোমরা হও  সচেতন

বাঁচবে জীবন ঘুচবে মরণ ,

মৃত্যুর মিছিল সব

দূর হবে মৃত্যু রব।

 

যদি থাকি  আমরা নিরাপদ

খুঁজে পাবো নতুন পথ ,

পৃথিবীর আহ্বান

দূর হবে মৃত্যু

পাবো নতুন অবস্থান।

 

আজ ঘরে ঘরে মৃত্যু কলরবে আমরা সব ক্লান্ত ,

একদিন খুঁজে পাব  প্রতিশোধক পৃথিবী হবে শান্ত।

...
Dipongkar Debnath(SJB:E047)
Mobile : 01709785383

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ