+

মংডু থেকে তমব্রু

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ০ দিন ২১ ঘন্টা ১৪ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 310
...

 

নিষ্পাপ শিশুদের চোখের চাহনি আরো নিষ্পাপ। তারা কিন্তু জানেনা তারা রাষ্ট্রহীন। তারা কিন্তু বোঝেনা নাগরিক  কাকে বলে। তারা হেসে খেলে চলে। গ্লোবালাইজেশনের যুগে তারা কিন্তু বিশ্ব নাগরিক। তারা বড় হয়ে পৃথিবীর কোন না কোন দেশের নেতৃত্বে আসবে না তা কে জানে? তাদের মধ্যেও মেধা আছে।সুপ্ত রোহিঙ্গা শিশুর মধ্যে সুপ্ত রোহিঙ্গার জাতিসত্তা আছে।বহু বছর পরে হলেও প্রকাশিত আরাকানে যাওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি আছে তাদের চোখে। তারা মনি প্রতিকূলতায় বেড়ে উঠছে যে প্রতিকূলতায় প্রাণী ও বেঁচে থাকে না। তবুও তারা অদম্য ইচ্ছা শক্তি নিয়ে মাতৃভূমি না থাকা সত্ত্বেও মাতৃগর্ভে এসেছে।

""তাদের ভাষায় ":শে আগস্ট 2017 সালের কোন একটি সন্ধ্যা বেলা। পঞ্চি বং গ্রামের 4 জন মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ধর্ষণ করে ঘরে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।ধর্ষিত বোন চোখের সামনে আগুনে পুড়ে গেছে। গোলা ভরা ধান গোয়াল ভরা গরু পুড়ে গেছে। পাশেই পুকুর ছিল পানি দিতে পারেনি। জীবন রক্ষার জন্য পালিয়ে আসতে হয়েছে। আগুনে চোখের কান্না শুকিয়ে গেছে।

 মুহুর্তের মধ্যে তাদের শিশু  সন্তান এতিম হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হয়। মাইকিং শুনে মংডু জেলার ডেকো বুনিয়া তুমব্রু লেফট থানার পঞ্চীবং, রাইম মংখালী, মেদি বাজার ,লাককুটরায়াং, বালুখালি পাঁচটি গ্রামের রোহিঙ্গা জনসাধারণ এক কাঠুরে ছেলে সন্তান স্ত্রী বাবা-মা পরিবার পরিজন নিয়ে দুই চোখের সামনের দিকে যাত্রা করে।

অনেকক্ষণ তারা অপেক্ষা করেছিলেন। কেউ বা কাহারা থাকার জন্য বলে কিনা? প্রায় 6 হাজার রোহিঙ্গা নাগরিক কোন নেতৃত্ব না পেয়ে যাত্রা করেন বাংলাদেশের সীমান্তের দিকে। নেতৃত্ব পেলে তারা ও সেদিন বুকের রক্ত ঢেলে দিতে বলে মত প্রকাশ করেছে।
বুলেটের আঘাতে নিহত চারজনের জানাযা ও কবর এর ব্যবস্থা না করে চলে আসতে বাধ্য হয়। তার পরিবারের সন্তানেরা। মুহূর্তের মধ্যেই গ্রাম জ্বলতেছিল। ঘরের নগদ টাকা, গলার গহনা, পরনের কাপড় কোনটাই আনতে পারেননি।

পরেরদিন সকাল দশটার দিকে এসে অবস্থান মায়ানমার তম্ব সীমান্তে। নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান করে। সকাল বেলা বাদশা তো বিকেল বেলা ফকির। বিকেল বেলা বাপ-দাদার জমিতে তো সকাল বেলা নদীর ঘাটে। ওপার থেকে তাড়িয়ে দেয় এপার থেকে বাধা। অনেক রোহিঙ্গা এদেশে আসে আশ্রয় নিয়েছে। আসতে  আস্ত 6000 রোহিঙ্গা নোম্যান্সল্যান্ডে থেকে যায়।

শুরু হয় ঠেলাঠেলি। যারা সেখানে অবস্থান করছে তাদের সবাই 2010 সালে মায়ানমার ইলেকশনে ভোট প্রদান করেছে। মুহূর্তের মধ্যেই নদীর তীরে। সেটি আবার নির্দিষ্ট করে দু'দেশের 150 মিটার সীমানার মধ্যে। মহাবিপদ। এই সীমানায় কেউ যায় না। এভাবেই রয়ে গেছে আজ প্রায় তিন বছর।

বিভিন্ন জায়গায় যেতে যেতে কমতে কমতে 4000 রোহিঙ্গার মত বসবাস এখানে। ওই পারো এলাকার নাম তুমব্রু রাইট, এপারে এলাকার নাম তুমব্রু মধ্যপাড়া।আইসিআরসি তাদের খাবার ও চিকিৎসা সাহায্য প্রদান করে। মানবিক কারণে তারা বাংলাদেশের সীমান্তে এসে  হাট-বাজার করে।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু রিলিফ বিক্রি করে মাছ শাকসবজি খেয়ে জীবন ধারণ করে। অতিরিক্ত রিলিফ না পেলে বাজার করার টাকা থাকে না। অনেকেই আছে 6 মাস অথবা এক বছর যাবৎ মাংস দিয়ে ভাত খায় না। অনেক শিশু আছে অনেকদিন চকলেট খায় না। কারণ শরণার্থী শিবিরে নগদ কোন টাকা দেওয়া হয় না। তাদের কয়েকজনের চিংড়ির ঘের ছিল। কয়েকজনের গোয়ালে গরু ছিল। কয়েকজনের বড় মুদি দোকান ছিল। অথচ মুহূর্তের মধ্যেই নিয়তির নির্মম পরিহাস তারা যা দেখে এসেছে নাড়াচাড়া করে এসেছে অনেকদিন হলো তা খেতে পারছে না।

কিন্তু খাবার নিয়ে তাদের কোনো উচ্চবাচ্য নেই। খাবার প্রদানকারী সংস্থার কাছে যথেষ্ট কৃতজ্ঞ।তার চেয়ে কৃতজ্ঞ মানবতার নেত্রী মাদার অব হিউমিনিটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। কারণ নোম্যান্সল্যান্ডে থাকা মায়ানমারের নাগরিকদেরকে মায়ানমার স্বীকার ই করছে না। উপরন্ত বাংলাদেশ তাদের চলাফেরা ও হাট-বাজারের সুযোগ দিয়েছে।

তারা মায়ানমার ফিরে যেতে চায়। তাদের চিংড়ি ঘেরের খোঁজখবর নিতে চায়। তাদের গোয়ালের গরুর খবর নিতে চায়। তাদের মুদিখানা দোকান খুলতে চাই। সত্যিই তারা সাহায্য নিয়ে খেতে চায় না। বিভিন্ন সময়ে তাদের অতীত পুরুষ শরণার্থী থেকে সে আবার ফিরে গেছে। তারা শরণার্থী জীবনের ইতি টানতে চায়। "" আঁরা  রিফুজি হইয়ারে আরেকবার বাংলাদেশে  লা  আইবার চাই""
গত এক দুইশ বছর তাদের বাবা দাদা ,তারা অনেক অশান্তির মধ্যেই থেকেছে ।তাদের মধ্য যারা  অপরাধ করে তাদেরশাস্তি চায়।তবুও একজনেরদোষে এক লাখ দেশছাড়া হতে চায় না।তারা এক থাকতে পারে নাই।তার যন্ত্রনা আর রাষ্ট্রহীনের অবসান চায়।তারা দেশে যেতে চায় । তারা স্বীকার করেছে তাদের অনেক ভুল ছিল।কিন্তু রাষ্ট্রহীন হয় সে ভুলের মাশুল দিতে হবে তা চিন্তাও করতে পারেনি। অনেক কিছুর বিনিময়ে তারা মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে চায়।মায়ানমার যেতে চায় ।বুলেটে  নিহত পিতার কবরে যেতে চায় ।
তারা মাতৃভুমি তে যেতে চায় বলেই নোম্যান্সল্যান্ডে কষ্ট করে আছে। তারা তমব্রু থেকে মংডুতে ফিরে যেতে চায়।
 (কয়েক রোহিঙ্গা জীবনের  গল্প থেকে সম্পাদিত)
ইমাউল

...
MD. Shajalal Rana(SJB:E078)
Mobile : 01881715240

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

সর্বশেষ সংবাদ