+

পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার,দিন দিন বাড়ছে আতংক

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২৯ দিন ১৪ ঘন্টা ১০ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 580
...

 

সেলিম চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি পটিয়াঃ- বান্দরবানে শান্তি চুক্তিকালীন শতভাগ অস্ত্র সরকারের কাছে জমা না পড়া এবং পার্বত্য অঞ্চল ঘেঁষা অরক্ষিত সীমান্তই অবৈধ অস্ত্রের প্রধান উৎস। পাহাড়ে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যকার আধিপত্য বিস্তারে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছেই। ফলে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোতে মধ্যকার সংঘাতের কারণে হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটছে। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে হত্যা, অপহরণ ও চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদের গোলাগুলির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গত মঙ্গলবার সকালে বান্দরবানে জেএসএস এমএন লারমা (সংস্কার) গ্রুপের ছয় নেতা-কর্মী বাগমারা এলাকায় পার্টি অফিসের পাশে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় নিহত হওয়র পর বান্দরবানের পাহাড়ি সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা হলেই জনমানবশূন্য ভুতুড়ে শহরে পরিণত হয় বান্দরবান পৌরশহর। জানা গেছে, বান্দরবানে চলতি বছরের মার্চে আত্মপ্রকাশ হওয়া


জেএসএস এমএন লারমা (সংস্কার) গ্রুপের ৬ নেতা-কর্মী বাগমারা এলাকায় পার্টি অফিসের পাশে সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৬ জনকে খুন করে। এছাড়াও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বিদ্যুৎ ত্রিপুরা (৩৭), নিরন চাকমা (৫০) এবং হ্লা ওয়াং চিং মারমা (২৫)। জেএসএস এমএন লারমা (সংস্কার) দলের বান্দরবান কমিটির সেক্রেটারি উবা মং জানান, এই সন্ত্রাসী হামলার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি দায়ী। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার সকাল পৌনে সাতটার দিকে পাঁচ জন সশস্ত্র লোক আমাদের পার্টি অফিস এলাকাটি ঘিরে ফেলে। তাদের মধ্যে তিন জন রতন তংচংগ্যার বাড়িতে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় ঘটনাস্থলেই আমাদের ৬ নেতা-কর্মী নিহত হন, বলেন উবা মং। তিনি জানান, রতন তংচংগ্যা ছাড়া নিহত এবং আহত সাত জনই খাগড়াছড়ির বাসিন্দা। তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের ১৩ মার্চ চট্টগ্রামে এক প্রেস কনফারেন্সের মধ্য দিয়ে আমাদের আত্মপ্রকাশ ঘটে। পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নেতা কে এস মং মারমা বলেন, জনসংহতি সমিতি হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাসী না। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। গত ১১তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় থেকে কয়েকজন ক্ষমতাসীন দলের নেতা বেশ কিছু দুষ্কৃতকারীকে আশ্রয় দিয়ে আসছিল এবং তারাই পরবর্তীতে মগ পার্টি নামে এলাকায় জনসংহতি সমিতির সদস্য ও বিভিন্ন পাড়ার নিরীহ জুম্মদের হত্যা এবং অপহরণ করছে বলে অভিযোগ করেন জনসংহতি সমিতির কয়েকজন নেতা। তারা জানান, মগ পার্টির অনেকেই পরবর্তীতে বান্দরবানে মার্চে আত্মপ্রকাশ হওয়া জেএসএস এমএন লারমা (সংস্কার) গ্রুপে যোগ দেয়। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, মগ পার্টি এবং সংস্কার গ্রুপের আবির্ভাবের আগে পর্যটন জেলা বান্দরবানে শান্তি এবং সমপ্রীতি বজায় ছিল। ২০১৯ সালের ২৫ জুন বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির একজন সমর্থককে গুলি করে হত্যা করা হয়। একই বছরের ৭ মে সদর উপজেলার রাজবিলা এলাকায় পিসিজেএসএসের আরও এক সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং এর দুই দিন পর একই উপজেলার বাকিছড়া এলাকায় মগ পার্টি পিসিজেএসএসের আরও একজনকে গুলি করে হত্যা এবং পুলাধন তংচংগ্যা নামে আরও একজনকে অপহরণ করা হয়। ১৯ মে সদর উপজেলায় রাজবিলা এলাকায় একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলা, যেটি বান্দরবানের রাজবিলার পার্শ্ববর্তী এলাকা সেখানে যুবলীগের আরও একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।


গত ২৫ মে বান্দরবান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চ থোয়াই মং এর গুলিবিদ্ধ মরদেহ কুহালং ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। চ থোয়াই যিনি বান্দরবান ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ছিলেন, গত ২২ মে তার খামার বাড়ি থেকে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি সদরের জামছড়ি এলাকায় একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং পাড়ার পাঁচ জন গুরুতর আহত হন। গত ১৭ এপ্রিল রোয়াংছড়ি উপজেলার কেনাইজু পাড়ায় মগ পার্টির একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ১৫ জুন বান্দরবানের কুহালং ইউনিয়নের একজন সদস্যকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সরকারের সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরকারী সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (পিসিজেএসএস) থেকে বের হয়ে ২০০৭-০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে পিসিজেএসএস-এমএন লারমা গ্রুপের আত্মপ্রকাশ হয়েছিল। ২০১৭ সালের ১৫ তারিখ খাগড়াছড়িতে এক সংবাদ সম্মেলনের মধ্যে দিয়ে ইউপিডিএফ ফেকশনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৭২ সালে পাহাড়িদের অধিকার আদায়ের জন্য জনসংহতি সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর এমএন লারমার ছোট ভাই সন্তু লারমার নেতৃত্বে পিসিজেএসএস সিএইচটি পিস অ্যাকর্ডে স্বাক্ষর করেছিল। অনেকেই মনে করছেন, শান্তি চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়াতেই পাহাড়ের এই ভ্রাতৃ সংঘাত থামছে না। এই সংঘাতে শত শত দলীয় লোক ছাড়াও নিরীহ অনেক পাহাড়ির জীবন প্রদীপ নিভে গেছে। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, একদিকে শান্তিচুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না, অন্যদিকে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করছে। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে হত্যাকা- বন্ধ না হওয়া সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। শান্তিচুক্তি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ে অপ্রত্যাশিত ঘটনা বন্ধ হবে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সেমপ্রু মারমা জানান, গত মঙ্গলবার সকালে হঠাৎই বাগমারা বাজার পাড়ার পশ্চিম দিক থেকে একটি সশস্ত্র গ্রুপ এলাকায় প্রবেশ করে সংস্কারপন্থী গ্রুপের সভাপতির বাসায় অতর্কিত হামলা চালায়। নিহতরা সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় ছিল। তারা সকালের প্রাত্যহিক কর্মকা-ে ব্যস্ত ছিল। এই হামলার পর পর ওই এলাকার জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। হামলার কারণ, আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার আধিপত্য বিরোধ নাকি বহিরাগতদের প্রতিরোধ- তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খখা বাহিনীর সদস্যরা। বান্দরবান সদর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, মানুষের সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি, অস্ত্রধারীরা জলপাই রঙের পোশাক পরিহিত ছিল। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা তদন্ত করে জানা যাবে। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে জনসংহতি সমিতি সংষ্কার গ্রুপ বান্দরবানে ৩১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিতে রতন তংচংগ্যাকে সভাপতি করা হয়। আর কমিটি গঠনের পর থেকেই জনসংহতি সমিতির সন্তু লারমা গ্রুপের সাথে তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

 

 

...
MD. Shajalal Rana(SJB:E078)
Mobile : 01881715240

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

সর্বশেষ সংবাদ