+

শতবর্ষ ছুঁয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ১৩ দিন ৬ ঘন্টা ৩৮ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 1395
...

মোহাম্মদ মাকসুদুল হাসান ভূঁইয়া রাহুলঃ
নিরানব্বই বছর পেরিয়ে শততমবর্ষ ছুঁয়েছে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। ১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু হয় স্বায়ত্তশাসিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের। এটি শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ৫২'র ভাষা আন্দোলন, ৭১'র মুক্তিযুদ্ধ, ৯০'র গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের মতন গুরুত্বপূর্ণ সব ইতিহাস। দেশের যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে অনবদ্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 

বুধবার (১ জুলাই, ২০২০) ৯৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মধ্য দিয়ে শতবর্ষে পা রাখলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। করোনা ভাইরাস মহামারীর কারণে দিবসটির উদযাপন সীমিত রেখে সংক্ষিপ্ত কিছু কর্মসূচি পালন করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়ানো হয়। পরে বেলা ১১টায় অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চ্যুয়াল ক্লাসরুমে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনলাইন ভার্চ্যুয়াল মিটিং প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম ‘শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গ: আন্দোলন ও সংগ্রাম’ শিরোনামে মূল বক্তব্য প্রদান করেন।
 
অনলাইন প্ল্যাটফর্মের এই অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন), প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষ, প্রাক্তন দু’জন উপাচার্য, দু’জন ডিন, একজন প্রভোস্ট, একজন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট, ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ঢাবি শিক্ষক সমিতিসহ অন্যান্য সমিতির পক্ষ থেকে নেতারা সংযুক্ত হয়েছিলেন।
 
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন৷ বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, '২০২০-এ নিরানব্বই বছর শেষ করে শতবর্ষে পা দিল আমাদের এ চিরতরুণ প্রতিষ্ঠান। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লোকসমাবেশ এড়িয়ে প্রাণপ্রিয় ছাত্র-ছাত্রীবিহীন স্বল্পপরিসরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজনে নিঃসন্দেহে আনন্দ, প্রশান্তি ও স্বস্তির ঘাটতি অনস্বীকার্য। তবে মুজিববর্ষের এ অলোকসামান্য কালপর্বে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও ব্যাপক।' 

বাণীতে ঢাবি উপাচার্য আরো বলেন, 'প্রকৃতপক্ষে বঙ্গবন্ধু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ নামক আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমির দুই অন্তহীন প্রেরণা-উৎস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে পালিত হওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২০ লাভ করেছে এক অনন্য মাত্রা। প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উদযাপনের বিরল সৌভাগ্য-প্রাপ্তির পূর্বক্ষণে মুজিববর্ষ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য চির অম্লান আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ও গুরুত্বপূর্ণ পদে মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বর্তমান ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত রাকিবুল হাসান ভূঁইয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিখিয়েছে মূল্যবোধ ধরে রেখে আপোষহীনভাবে কিভাবে সংগ্রাম করে যেতে হয়৷ জীবনে যা কিছু অর্জন করেছি আর অন্যতম কৃতিত্ব আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের৷ জ্ঞানপিপাসুদের আশ্রয়স্থল হয়ে, আন্দোলন সংগ্রামের জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে হাজার বছর বেঁচে থাকুক এই বিশ্ববিদ্যালয়৷ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে অনেক শুভকামনা৷'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী তমাশ্রী। এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী থেকেও নিয়েছেন উচ্চতর ডিগ্রী। ঢাবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, 'প্রাণের ক্যাম্পাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে যাই বলিনা কেনো কম হবে! অনেক স্মৃতি,অনেক আবেগ,অনেক ভালোলাগা, ভালোবাসা জড়িয়ে আছে ঢাবিকে ঘিরে! এখনো অধীর আগ্রহে থাকি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেখবো বলে। ভালোবাসি প্রিয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে। ১০০ বছর না, বিশ্বের বুকে যুগ যুগ এভাবেই মাথা তুলে থাকুক প্রাণের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।'

শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। শুধু শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে নয়, ডাকসুর নেতৃত্বে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব ইতিহাস-আন্দোলনের অংশ হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সংগঠনটির সদ্য সাবেক সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আসিফ তালুকদার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, 'সকল অপ্রাপ্তি ভুলে গিয়ে গৌরব উজ্জ্বল পথ পরিক্রমা সমুন্নত রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একদিন দেশকে অতিক্রম করে বিশ্বের বুকে তার সক্ষমতার জানান দিবে শততম বর্ষে সেই কামনা করছি।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে কবিতায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহমিদা আক্তার লিয়া বলেন, 'আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। জ্ঞান পিপাসুদের জ্ঞানের তৃষ্ণা মিটাতে হয়েছিল আমার জন্ম। হয়েছি কালের স্বাক্ষী- '৫২ হতে '৭১। আমার রাজপথ শহীদের তাজা রক্ত লেগে যেমন হয়েছে রঞ্জিত, তেমনি এই পথের ধুলায় লেগে আছে শত রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, জ্ঞানী, গুণীজনের পদচিহ্ন-যাঁরা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বে হয়েছেন সমাদৃত। পুরাতনের প্রস্থান আর নতুনের আগমনে আমি সর্বদা মুখরিত। কালের আবর্তনে নতুনরূপে ধরে রেখেছি আমার ঐতিহ্য, পা রেখেছি শত বর্ষে।'

কবিতার রেশ টেনে লিয়া বলেন, 'এমনই শত গৌরবগাঁথা লিখা হোক স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মকাহিনীতে। শুভ জন্মদিন, ভালোবাসার, শত আবেগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।'

শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান বা সাবেক শিক্ষার্থীদেরই নয়, দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীরই স্বপ্নের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রাচ্যের এই অক্সফোর্ড। কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার আফতাব উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মাস্তুরা হাসান তোয়া। পড়ালেখায় বেশ মেধাবী এই শিক্ষার্থী ঢাবিতে পড়ার স্বপ্নের কথা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শতবর্ষ পদার্পণে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, 'আমার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। উনারা সবসময়ই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে গল্প করেন। ধীরে ধীরে আমারও এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়। আমার সাধ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো যেনো আমিও একদিন স্বপ্নের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রী হতে পারি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শতবর্ষ ছাড়িয়ে সহস্র বর্ষে পদার্পণ করুক, শিক্ষার গুণগত মানে অনন্য থাকুক এই কামনা করি। অফুরান শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা রইলো প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের জন্য।'

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের বিষয়ে উইকিপিডিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে স্বাধীন জাতিসত্ত্বার বিকাশের লক্ষ্যে বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ব্রিটিশ ভারতে তৎকালীন শাসকদের অন্যায্য সিদ্ধান্তে পূর্ববঙ্গের মানুষের প্রতিবাদের ফসল হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯১২ সালের জানুয়ারির শেষের দিকে তৎকালীন ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আবেদন জানান ঢাকার নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, ধনবাড়ীর নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এ সাক্ষাৎতের পর সেবছরের ২ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জ। পরবর্তীতে ২৭ মে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব তুলেন ব্যারিস্টার আর. নাথানের নেতৃত্বে ডি আর কুলচার, নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, নওয়াব সিরাজুল ইসলাম, ঢাকার প্রভাবশালী নাগরিক আনন্দচন্দ্র রায়, জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়)-এর অধ্যক্ষ ললিত মোহন চট্টোপাধ্যায়, ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ ডব্লিউ.এ.টি. আচির্বল্ড, ঢাকা মাদ্রাসার (বর্তমান কবি নজরুল সরকারি কলেজ) তত্ত্বাবধায়ক শামসুল উলামা আবু নসর মুহম্মদ ওয়াহেদ, মোহাম্মদ আলী (আলীগড়), প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষ এইচ. এইচ. আর. জেমস, প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক সি.ডব্লিউ. পিক, এবং সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ সতীশচন্দ্র আচার্য। পরবর্তীতে ১৯১৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে নাথান কমিটির ইতিবাচক রিপোর্ট প্রকাশ পায় এবং সে বছরই ডিসেম্বর মাসে সেটি অনুমোদিত হয়। 

প্রায় ৪ বছর পর ১৯১৭ সালে গঠিত স্যাডলার কমিশন যখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে ইতিবাচক প্রস্তাব দেয়। তার ৩ বছর পর ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ ভারতীয় আইন সভা পাশ করে 'দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০'।

তবে প্রতিষ্ঠার শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নানান প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়। এর মধ্যে ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়েই অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর ফলে পূর্ব বাংলার মানুষ হতাশা প্রকাশ করে। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী সেসময়কার সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পেশের আহ্বান জানান। ১৯২০ সালের ২৩ মার্চ গভর্নর জেনারেল এ বিলে সম্মতি দেন। এ আইনটিই মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। এ আইনের বাস্তবায়নের ফলাফল হিসেবে ১৯২১ সালের ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করে।

প্রথম শিক্ষাবর্ষে ঢাবির বিভিন্ন বিভাগে মোট ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ছিল ৮৭৭ জন এবং শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ৬০ জন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী লীলা নাগ। তিনি ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন ( এমএ-১৯২৩)। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, এফ.সি. টার্নার, মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, জি.এইচ. ল্যাংলি, হরিদাস ভট্টাচার্য, ডব্লিউ.এ.জেনকিন্স, রমেশচন্দ্র মজুমদার, স্যার এ. এফ. রাহমান, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, নরেশচন্দ্র সেনগুপ্ত, জ্ঞানচন্দ্র ঘোষের মতন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদগণ শিক্ষক হিসেবে ঢাবিতে পাঠ দান করেন।  

৫২'র ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে  এর স্বাধীনতা যুদ্ধ পর্যন্ত দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গৌরবময় ভূমিকা রয়েছে গৌরবময় ভূমিকা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের শুরুর দিকেই (২৫ মার্চ কালোরাত্রি) পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আক্রমণের শিকার হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এতে ঢাবির শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রী সহ অনেকে শহীদ হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের কঠোর নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের সরকার প্রবর্তিত অর্ডিন্যান্স বাতিলের জন্য ষাটের দশক থেকে শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের স্বাধীনতার পর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ উক্ত অর্ডিন্যান্স বাতিল করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অর্ডার-১৯৭৩ জারি করে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় এই অর্ডার দ্বারা পরিচালিত হয়ে আসছে।

তিন অনুষদ ও ১২ বিভাগ নিয়ে আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে তৎকালীন সময়ে যাত্রা শুরু করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৩টি অনুষদ, ১৩টি ইনস্টিটিউট, ৮৪টি বিভাগ, ৬০টি ব্যুরো ও গবেষণা কেন্দ্র এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ১৯টি আবাসিক হল, ৪টি হোস্টেল ও ১৩৮টি উপাদানকল্প কলেজ ও ইনস্টিটিউট রয়েছে। ঢাবিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৬ হাজারের অধিক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে পাঠদান ও গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন দুই সহস্রাধিক শিক্ষক।

উল্লেখ্য, ১৯২১ সালের ১ জুলাই প্রায় ৬০০ একর জমির উপর পূর্ববঙ্গ এবং আসাম প্রদেশের পরিত্যক্ত ভবনাদি এবং ঢাকা কলেজের (বর্তমান কার্জন হল) ভবনসমূহের সমন্বয়ে গড়ে উঠে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার এই দিনটিকে প্রতিবছর 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস' হিসেবে পালন করা হয়।

...
Mohammad Maksudul Hasan Bhuiyan Rahul(SJB:E036)
Mobile : 01711328741

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ