+

প্লাস্টিকের কাপে চা পানে উপকারের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনা বেশি

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ১৮ দিন ২ ঘন্টা ৪২ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 2680
...

 

দেশ তথা সারা বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস 
কারণে আজ পরিবেশ পরিস্থিতি যেমন উদ্বেগজনক তেমন জাতী আজ হতাশাগ্রস্থ।  দিনে দিনে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে দেশে বিদেশে। যেহেতু এর কোন ঔষধ বা ভেকসিন এখনও আবিষ্কার হয়নি তাই এর থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো। এবং এ সময় “ভিটামিন সি” বেশি করে খেতে হবে ( কমলা,মাল্টা,লেবু) এর সাথে কালোজিরা, মধু খেতে হবে। প্রতিদিন সকালে গরম পানির ভাপ নিতে হবে ১০ মিনিট করে প্রতিদিন ৫-৬ বার। হালকা কুসুম গরম পানিতে লবণ দিয়ে গরগর কর‍তে হবে দিনে ৪-৫ বার। বিশেষ করে যত বেশি গরম পানি, চা, কফি পান করা যায় ততোই ভালো। আসলে আমরা সবাই জানি চা একটি জনপ্রিয় পাণীয়। সারা দিনের কাজের ক্লান্তি দূর করতে এক কাপ চা বা কফির বিকল্প নেই। আর তাই এই বর্তমান পরিস্থিতিতে কোভিড-১৯ মোকাবেলায় চা কে গরম পানি হিসাবে বেঁছে নিয়ে চাইয়ের দোকান গুলিগে উপচেপড়া ভিড় জমে থাকছে। তবে এই চা বা কফি পানের ক্ষেত্রে সর্তক থাকতে হবে। সবার আগে দেখতে হবে কোন কাপে চা পান করছেন। কাপটি যদি প্লাস্টিকের হয় তবে ভুলেও এই কাপে চা পান করবেন না। রাস্তার ধারের কোনও দোকানে দাঁড়িয়ে চা-কফি খাওয়া মানেই হলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্লাস্টিকের কাপে খাওয়া। এসব অভ্যাস ত্যাগ করুন।

গবেষকদের মতে, ভুলেও প্লাস্টিকের কাপে চা খাওয়া ঠিক নয়। কারণ এই প্লাস্টিকের বিপিএ এক্সপোজার থেকে কিছু বিরূপ প্রভাব অন্তর্ভুক্ত যা মস্তিষ্কের কাঠামোগত ক্ষতি, হাইপ্র্যাকটিভিটি, ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন, এবং প্রতিবন্ধী শিখনপ্রাপ্ত চর্বি গঠন এবং স্থূলত্বের ঝুঁকিপ্রদ্যা প্রতিরোধ ক্ষমতা, স্তন্যপায়ী গ্রন্থির বিকাশের উদ্দীপনা, প্রজনন চক্রকে ব্যাহত করে, এবং ডিম্বাশয়ের কর্মহীনতাকে লিঙ্গ-নির্দিষ্ট আচরণে বদলে যায়, এবং অস্বাভাবিক যৌন প্রবৃত্তিজনিত ক্যান্সার সংক্রমণ আকার এবং শুক্রাণুর উত্পাদন হ্রাস বিসফেনল-এ শিশুদের পাশাপাশি গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ক্ষতিকারক। এটি মহিলাদের স্তন ক্যান্সার হতে পারে এবং গর্ভপাতের কারণও হতে পারে। এটি পুরুষদের মধ্যেও উর্বরতা প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিসফেনল-এ আলফা সেলকেও প্রভাবিত করে যা অগ্ন্যাশয়ে ইনসুলিন তৈরি করে। ইনসুলিন আমাদের দেহে গ্লুকোজ স্তর নিয়ন্ত্রণ করে। রাসায়নিকগুলি আমাদের দেহে হরমোনগুলির স্তরকেও প্রভাবিত করে। এছাড়াও, এটি শিশুদের মধ্যে ঘনত্বের অভাব হতে পারে। আমি কীভাবে সতর্ক থাকতে পারি? আমাদের শরীরে টক্সিক নেওয়ার ক্ষেত্রে মারাত্মক ক্ষতিকারক হতে পারে। এটি যথাযথভাবে বলা হয়েছে, "প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই ভাল।" সুতরাং, থার্মোকল এবং প্লাস্টিক কাপের ব্যবহারকে হ্রাস করে আমরা অনেক মারাত্মক রোগ প্রতিরোধ করতে পারি।

বিভিন্ন গবেষকরা বলছেন প্লাস্টিকের তৈরি পানির বোতল ও শিশুদের দুধের বোতল, প্লাস্টিকের পাত্রের খাবার মাইক্রোওয়েভেনে গরম করা, প্লাস্টিক মোড়কে বিক্রি হওয়া খাবার ডেকে আনছে এমন নানা রোগ। প্লাস্টিকের মধ্যে থাকা বিসফেনল-এ নামের টক্সিক এ ক্ষেত্রে বড় ঘাতক। গরম খাবার বা পানীয় প্লাস্টিকের সংস্পর্শে এলে ওই রাসায়নিক খাবারের সঙ্গে মেশে। এটি নিয়মিত শরীরে ঢুকলে নারীদের ইস্ট্রোজেন হরমোনের কাজের স্বাভাবিকতা বিঘ্নিত হয়। পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণু কমে যায়। এছাড়া হার্ট, কিডনি, লিভার, ফুসফুস এবং ত্বকও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকী, স্তন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কাও থাকে।
গবেষণায় থেকে আরো জানা যায়, প্লাস্টিকের কাপ তৈরিতে যে উপাদান ব্যবহার করা হয়, সেগুলি বেশি মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে ক্লান্তি, হরমোনের ভারসাম্যতা হারানো, মস্তিষ্কের ক্ষমতা কমে যাওয়া-সহ একাধিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
যেমন, বোতল বা পাত্র তৈরিতে ব্যবহৃত পলিভিনাইল ক্লোরাইডকে (পিভিসি) নরম করা হয় থ্যালেট ব্যবহার করে। এই থ্যালেট আমাদের শরীরের পক্ষে বিষ।
শরীরে এই রাসায়নিক নিয়মিত ঢুকতে থাকলে শ্বাসকষ্ট, স্থূলতা, টাইপ ২ ডায়াবিটিস, কম বুদ্ধাঙ্ক, অটিজম, ব্রেস্ট ক্যানসারের মতো অসুখ শরীরে বাসা বাঁধে। তাই দীর্ঘদিন সুস্থ শরীরে বাঁচতে এখই বর্জন করুন, এড়িয়ে চলুন প্লাস্টিকের কাপ, গ্লাস, পাত্র।
ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন নিরাপদে থাকুন।

লেখক,
ডা. মেহেদী হাসান।
চিকিৎসক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।

...
MD. Shajalal Rana(SJB:E078)
Mobile : 01881715240

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejominbarta@gmail.com , thana.sorejominbarta@gmail.com

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

সর্বশেষ সংবাদ