গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত অনলাইন নিবন্ধন নাম্বার ৬৮

রাজধানী যাত্রাবাড়ী হইছে পাঁচ কোটি ৭০ লক্ষ টাকার মূল্যের ইয়াবা উদ্ধার গ্রেফতার তিন

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ০ দিন ৫ ঘন্টা ৭ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 575
...

রাজধানী হইতে ৫ কোটি ৭০ লক্ষ টাকা মূল্যে ইয়াবা উদ্ধার গ্রেফতার তিন ট্রাক শব্দ 

 

দেলোয়ার হোসেন 

মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে  র‌্যাব-৩ এর একটি আভিযানিক দল গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে গত রাতে যাত্রাবাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ট্রাকের তেলের ট্যাংকিতে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা ও ১টি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৩-৫৪২৮)সহ মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত (১) মোঃ আমিনুল ইসলাম (২৬), পিতা-মৃতঃ আব্দুর রহিম, বায়েজীদ, চট্টগ্রাম, (২) মোঃ নুরুল ইসলাম (৪৮), পিতা-মৃতঃ সৈয়দ শাহজাদা, লামা, বান্দরবান, (৩) মোঃ হেদায়েত উল্লাহ (২০), পিতা-মোঃ আবুল কাশেম, বায়েজীদ, চট্টগ্রাম’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যের বাজার মূল্য প্রায় ৫,৭০,০০,০০০/-(পাঁচ কোটি সত্তর লক্ষ) টাকা। এছাড়াও উদ্ধার করা হয়  ০৪টি মোবাইল ফোন ও মাদক বিক্রির নগদ ৩১ হাজার ৭০০ টাকা।

 

গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, উক্ত চক্রটি টেকনাফ হতে ইয়াবা রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌছে দিত। মূলত ট্রাকের মালিক সোহেল এর নেতৃত্বে বিগত ৪-৫ বছর যাবৎ উক্ত চক্রটি পরিবহন ব্যবসার আড়ালে টেকনাফ হতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচার কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। চক্রটি পণ্যবাহী পরিবহনের চালক ও সহকারীকে মোটা অংকের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের গাড়িতে ইয়াবা ট্যাবলেট পরিবহনের জন্য প্রলুব্ধ করে থাকে। উক্ত ইয়াবা পাচার চক্রের সদস্য সংখ্যা ৭-৮ জন। ট্রাক মালিক সোহেল ও  গ্রেফতারকৃত আমিনুল টেকনাফের সিন্ডিকেট হতে ইয়াবা সংগ্রহ করে। ইয়াবা সংগ্রহের পর সোহেল এর নির্দেশনায় গ্রেফতারকৃত আমিনুল দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয়। জানা যায় যে, চকরিয়ায় একটি গ্যারেজে বিশেষ পদ্ধতিতে গাড়ির তেলের সিলিন্ডারের মধ্যে গোপন প্রকোষ্ঠ তৈরি করে তার মধ্যে ইয়াবা লুকিয়ে পরিবহন করা হয়। এভাবে অভিনব কায়দায় তেলের ট্যাংকিতে ইয়াবা রাখার পর সোহেল, আমিনুল ও নুরুল ইসলাম প্রথমে ট্রাক নিয়ে টেকনাফ হতে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। চট্টগ্রাম আসার পর সোহেল গাড়ী থেকে নেমে যায়। এরপর আমিনুল, নুরুল ইসলাম ও হেদায়েত কে নিয়ে চট্টগ্রাম হতে গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করে। পথিমধ্যে তারা সীতাকুন্ড ও কুমিল্লায় যাত্রা বিরতি করে।

 

গ্রেফতারকৃত আসামীরা আরো জানায়, ইয়াবার চালানটি তারা গাজীপুরে সরবরাহের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। তাদের ট্রাকে অন্য কোন মালামাল ছিল না। পথিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন চেকপোস্টে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা জানায় যে গাজীপুর হতে মালামাল লোড করে চট্টগ্রাম নিয়ে আসার জন্য তারা খালি ট্রাক নিয়ে গাজীপুর যাচ্ছে। ট্রাকের তেলের ট্যাংকিতে ইয়াবাগুলো লুকিয়ে রাখায় তারা নিশ্চিত ছিল যে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশীতে উক্ত ইয়াবার সন্ধান পাওয়া যাবে না।

 

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, মূলত দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচারের উদ্দেশ্যে পাশর্^বর্তী দেশ হতে ইয়াবা টেকনাফের ডিলারের কাছে আসে। টেকনাফের ডিলার ও ঢাকার ডিলারের পরিকল্পনামত ইয়াবা বিভিন্ন সংখ্যায় চাহিদা অনুযায়ী প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে বিশেষ কোড নাম্বার দিয়ে প্যাকেটজাত করে থাকে। এই কোড নাম্বার দেখেই ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের ডিলাররা বিভিন্ন মাদক ব্যবসায়ীদের নিকট চাহিদা অনুযায়ী চালান পৌঁছে দিয়ে থাকে।  

 

গ্রেফতারকৃত আমিনুল পেশায় একজন ট্রাকের হেলপার। সে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। চট্টগ্রাম ট্রাক স্ট্যান্ডে মাদক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের সদস্য ট্রাক মালিক সোহেলের সাথে তার পরিচয় হয়। অধিক অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে সোহেলের প্ররোচনায় সে কক্সবাজার হতে ঢাকাগামী ট্রাকে হেলপারের কাজ শুরু করে। সে বিগত ৪-৫ বছর যাবত উক্ত ইয়াবা পাচার চক্রের সাথে কাজ করছে। সে মূলত সোহেল এর নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পৌছে দিতে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে থাকে। যখন কোন মাদকের চালান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় তখন আমিনুল ট্রাকের হেলপার হিসেবে উপস্থিত থাকে। মাদকের একটি চালান নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারলে আমিনুল চালান প্রতি ৩০-৫০ হাজার টাকা পেত। গ্রেফতারকৃত আমিনুল একাধিক মামলায় ইতিপূর্বে ০২ বার বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করেছে বলে জানা যায়।

জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত নুরুল বান্দরবান এলাকায় মালামাল পরিবহনের মাধ্যমে সোহেলের সাথে পরিচয় হয়। ট্রাক মালিক সোহেলের সহযোগিতায় সে ইয়াবা পরিবহন ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত হয়। ঘটনার দুইদিন পূর্বে ইয়াবা পরিবহনের উদ্দেশ্যে সোহেল ও নুরুল টেকনাফ যায়। তখন আমিনুল ও হেদায়েত গাড়ীতে হেলপার হিসেবে ছিল। টেকনাফের সিন্ডিকেট হতে ইয়াবা সংগ্রহের পর ট্রাকের তেলের ট্যাংকিতে ইয়াবা বহন করে নুরুল ও সোহেল খালি ট্রাক চালিয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে। অতপর সোহেল গ্রেফতারকৃত আমিনুলকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে চট্টগ্রামে নেমে যায়। এরপর চট্টগ্রাম হতে নুরুল ও হেদায়েত পালাক্রমে গাড়ি চালিয়ে ঢাকা পর্যন্ত নিয়ে আসে। আরো জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত ট্রাক চালক নুরুল এর গাড়ি চালনায় কোন প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। এমনকি তার ভারী যানবাহন চালনার কোন বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। ট্রাকের হেলপার হিসেবে মালামাল লোড আনলোড করতে গিয়ে গাড়ি স্বল্পদূরত্বে স্থানান্তর করার মাধ্যমে সে ড্রাইভিং শিখেছে। সে বিগত ১০ বছর যাবৎ বিভিন্ন ধরণের পরিবহন চালনা করছে। মাদকের একটি চালান পৌছাতে পারলে সে ৫০ হাজার টাকা পেত বলে জানা যায়।

 

গ্রেফতারকৃত হেদায়েত পূর্বে টেম্পু চালক ছিল। সে তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। তারও যানবাহন চালনার কোন বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। সে হেলপারের কাজ করতে গিয়ে গাড়ি চালানো শিখে। সোহেল ও হেদায়েতের উভয়ের বাড়ি চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে হওয়ায় এলাকার বন্ধুদের মাধ্যমে তার সোহেলের সাথে পরিচয় হয়। অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের আশায় সে সোহেলের সাথে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। সে সোহেলের বিশ্বস্ত হওয়ায় মাদক বহনের সময় সে গাড়ির চালক ও হেলপার উভয় ভূমিকা পালন করে থাকে। মাদকের একটি চালান পৌঁছাতে পারলে সে ১৫-২০ হাজার টাকা পেত বলে জানা যায়।

 

গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

...
Md. Delolwaor Hossain
01818974688

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ