গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত অনলাইন নিবন্ধন নাম্বার ৬৮

অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়না জাল বিলুপ্তির পথে দেশিও মাছ

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ৩ দিন ১৮ ঘন্টা ৩৫ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 305
...

মোঃ আব্দুর রহীম মিঞা ( টাঙ্গাইল) ভূঞাপুর প্রতিনিধি টাংগাইলের ভূঞাপুরে বন্যা দেখা দিযাছে ব্যপকভাবে।এ বন্যায় উপজেলার ৬ ইউনিয়নে প্রতিটি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে কমবেশি । যমুনা নদীর কোল ঘেঁষা হওয়ার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হাওর,ডোবা,খাল,বিলসহ ফসলের মাঠ পানিতে ভরে যায় অতিদ্রুত। এ সময়ে যমুনার পানির সঙ্গে প্রচুর পরিমানে আসে দেশিও বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। প্রথম আষাড়ের জোয়ারের পানিতে যমুনায় রুই,কাতলা বোয়াল মেৃগেলসহ দেশিও মাছগুলো ডিম ছাড়ে। বন্যার পানিতে আসা বড় মাছের সাথে সবচেয়ে বেশি আসে ছোট আকারের ধানী পোনা ।যমুনার স্রোতের পানির সঙ্গে আসা বোয়াল, রুই,কাতলা মৃগেলসহ দেশি প্রজাতির প্রচুর ছোট মাছ ধরা পড়ছে চায়না জাল, শিবজাল ও কারেনজালে। এ সময়ে সব চেয়ে বেশি মাছ ধরা পড়ছে এ উপজেলায় অভিনব পদ্ধতিতে তৈরি করা চায়না জাল বা ডারকি জালের ফাঁদে। এতে হচ্ছে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতের দেশিও মাছ নিধন। অবৈধ ওই জাল দিয়ে এক শ্রেণির অসাধু জেলেরা মা মাছ নিধন করলেও মৎস্য বিভাগসহ স্থানীয় প্রশাসনের নেই নজরদারী। অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ীরা খালে বিলে পানিতে ডুবে যাওয়া পতিত জমিতে অবাধে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ ধরায় চলছে প্রতিযোগীতা। ফলে এই অঞ্চলের প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত মৎস্য সম্পদ বিলুপ্তির আশংকা করছে অনেকেই। চায়না জাল বা ডারকি জাল সম্পর্কে ওই এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চীন দেশের লোকজন তাদের ক্ষেত খামারে বিভিন্ন প্রজাতির পোকামাকড় নিধনের জন্য এ জাল তৈরি করে।আর আমাদের দেশে সেসব জাল ব্যবহার করা হয় মাছ ধরার কাজে। ১ থেকে দেড় ফুট প্রস্থ, ৪০ থেকে ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের ক্ষুদ্র ফাঁসবিশিষ্ট এই জাল। লোহা রিং দিয়ে ঢোলক আকৃতি ও মাঝে মাঝে চতুর্ভুজ আকারের লোহা দিয়ে তৈরি এই বিশেষ ফাঁদ। একটি করে জালে ৪০-৫০টি করে খোপ আছে। বিশেষ কৌশলে এই জালের দুই মাথা খুঁটির সাথে বেঁধে ফাঁদ পেতে রাখে খাল -বিল, নদী-নালা ও জলাশয়ের তলদেশ দিয়ে। জালের কাঠামোতে লোহার রিং থাকায় জালটি পানির তলদেশে পৌঁছায়। এই জাল ক্ষুদ্র ফাঁসের কারণে সেই পথ ধরে ছোট থেকে বড় যে কোন ধরণের মাছ চলাচল করলে অনায়াসে জালের ভিতরে প্রবেশ করবে। এই জালের ফাঁদে যে কোন মাছ প্রবেশ করলে আর বের হতে পারে না। এ জালে আটকা পড়ে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতের মাছ। এমন ছোট পোনাও আটকা পড়ে যা কোন কাজে লাগে না বলে সেগুলো ফেলে দেন মাছ শিকারিরা। ডারকি জাল দিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি ডিমওয়ালা মা ও পোনা মাছ অবাধে নিধন করছেন। অবৈধ জালের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মাছের স্বাভাবিক প্রজনন,বংশ বিস্তার ও বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে। এর প্রভাবে নদ-নদীতে মাছের প্রাচুর্য কমে যাচ্ছে। অচিরেই এসব জাল বন্ধ না হলে দেশের মৎস্য ভান্ডারে বিপর্যয় নেমে আসার শঙ্কা স্থানীয়দের। সরেজমিনে উপজেলার ফলদা,অলোয়া, অজুনা, নিকরাইল, গাবসারা গোবিন্দাসী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে , চায়না জালের মাছ ধরার মহাউৎসব। যমুনার নদীর চরাঞ্চলেও এর ব্যবহার থেমে নেই। নদীর মাঝে ডিঙি নৌকা দিয়ে চায়না জাল বা ডারকি জালের ফাঁদ পেতে জেলেরা মাছ শিকার করছেন । ফলদা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়া গ্রামের মাছ শিকারী মোনাহারকে চায়না জাল পেতে মাছ শিকার করতে দেখা যায় । তিনি জানান বন্যার পানি আসার আগে তিন ৩ হাজার টাকা দিয়ে একটি চায়না কিনেছেন। তার জালে বিভিন্ন প্রজাতের প্রচুর ছোট মাছ বেঝে আছে ( আটকা) । তিনি আরো জানা প্রতিদিন গড়ে হাজার টাকার মাছ বিক্রি করছে। সংসারে অন্যান্য খরচ মিটিয়ে বাড়তি কিছু আয় হয় এ সময়ে। আগে ৭০/৮০ টি দারকি (দিয়ার) ছিল তা দিয়ে মাছ ধরতাম এখন চায়না জালের কারণে দারকির প্রয়োজন পড়ে না। মাদারিয়া গ্রামের বাসিন্দা জহরুল ইসলাম বলেন, মাছের চরম শত্রু হলো ডারকি ও বেড় জাল। এই জালে পোনাসহ সব ধরনের মাছ ধরা পড়ে। অবৈধ জাল দিয়ে দিনে রাতে মাছ ধরলেও প্রশাসন খোঁজ রাখে না। সরকার যদি এসব জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ না করে তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশীয় মাছের দেখা পাওয়া যাবে না। ফলদা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সাইদুল ইসলাম তালুকদার দুদু বলেন, চায়না জাল, স্থানীয় কারেন্ট ও ফাঁসি জাল এগুলো দিয়ে অবাধে মাছ শিকার করছেন জেলে পেশা ছাড়াও অজেলেরা। ফলে দিনে দিনে বহুজাতের মাছ বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যদি এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ না নেয়,তবে আগামী প্রজন্ম মাছ কাগজ-কলমে দেখবে বাস্তবে নয়। তিনি আরো বলেন ফলদা ইউনিয়নে গুজার বিল, হারি বিল,আগতেরিল্লা বিল এগুলো সবর্নাসা এই জাল দিয়া দেশি মাছগুলো মেরে সাবার করে ফেলছে। এ ব্যাপরে মৎস অফিস সহযোগীতা চাইলে সকল প্রকার সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তত। অলোয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নের মাছ শিকারীরা চায়না জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করছে এ ব্যপারে অবগত নই। এ ধরনের কাজে প্রশাসন সহযোগিতা চাইলে আমি সাবিক সহযোগিতা করব। এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসার এ টি এম সামছুজ্জামা বলেন, এ সবর্নাসা চায়না ব্যবহারে বিরুদ্ধে আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করে যাচ্ছি । গ্রাম অঞ্চলে মৎস শিকারীদের সচেতনামূলক প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি যাতে তারা এ নিষিদ্ধ জাল মাছ শিকারে ব্যবহার না করে । আইন অমান্য করে যারা এ জাল ব্যবহার করবে তাদের ব্যাপারে তিনি দূত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।

...
Md. Abdur Rahim Mia
01721290474

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ