গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত অনলাইন নিবন্ধন নাম্বার ৬৮

অসকস বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মতবিনিময় ও সাধারণ সভায় সদস্যদের কল্যাণে ৩০টি দাবিসহ স্মারক লিপি প্রদান

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২৩ দিন ১৩ ঘন্টা ৩৮ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 4580
...

 

মোঃ রিপন হাওলাদার ঃ অবসর প্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনী কল্যাণ সোসাইটি(অসকস)এর কেন্দ্রীয় মতবিনিময় ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ ১১ জুন শনিবার সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় আব্দুস সালাম হলে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। অসকস বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্ণেল (আব:)ফারুক খান উপস্থিত থাকার কথা ছিলো কিন্তু জরুরী রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি উপস্থিত থাকতে পারেননি।তবে ভার্চুয়ালি উক্ত অনুষ্ঠানে তিনি যোগদান করেন এবং তাদের প্রত্যাশিত দাবি গুলো বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক সহায়তা করবেন বলে আশ্বাস দেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক উপ কমিটির সদস্য ও সমন্বয়ক এবং বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ এর সভাপতি মেজর (অব:)আতমা হালিম বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অসকস বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত অসহায় সদস্যগণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ভক্তি পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন এবং তারা স্বাধীনতাত্তোর যে সকল সদস্য গণ অবসর গ্রহণ করেছেন কিন্তু জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে অংশ গ্রহণ করেন নাই এবং শতভাগ পেনশন নিয়ে অবসর গ্রহণ করেছেন তাহারা বর্তমান উচ্চ দ্রব্যমূল্যের বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে উপযুক্ত অভিভাবক মনে করে প্রধানমন্ত্রীর সমীপে তাঁদের মনের চাঁপা অভিব্যক্তি গুলো তুলে ধরেন। মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব করেন সার্জেন্ট (অব:) মুহাম্মদ আহসান হাকিম সিএমপি। তিনি তার বক্তব্যে বর্তমান সরকারের যুগপোযুগী বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ভূয়সি প্রসংশা করে বলেন মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধি সহ বেশ কয়েকটি ভাতা এবং তাদের গৃহনির্মাণের জন্য সহজ অনুদান ইত্যাদি যা সরকারের ভাবমূর্তি অনেক উজ্জ্বল করেছে।অন্যদিকে সে সময় যে সকল বাংলাদেশের সামরিক সদস্যগণ পাকিস্তানের বন্ধি ক্যাম্পে আটকা পড়েছিলেন পরবর্তীতে বন্ধি চুক্তির মাধ্যমে দেশে ফিরে কয়েক বছর চাকরি করে অবসরে গিয়েছেন ।তাদের বর্তমান দূর্বিসহ পরিস্থিতির কথা  শুনলে অবশ্যই জাতির জন্য লজ্জাজনক বিষয় হয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি মনে করেন।অবসর ভোগীদের দূর্বিসহ জীবনে সামান্য পেনশন সুবিধা বৃদ্ধি পেলেও তা বর্তমান বাজারে বেঁচে থাকার মতো নয় বলে দাবি করেন।তাই রাষ্ট্রের এই সূর্য সন্তান সশস্ত্রবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যগণের অবসর পরবর্তী অবহেলিত শোষিত এবং অত্যাচারিত দৈন্যদশা থেকে মুক্তি পেতে বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর পেনশন ভোগী সদস্যদের কল্যাণের জন্য ৩০ টি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো নিম্নরুপ:(১)অবসর প্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা মাসিক ৪১৮ টাকা হারে মাসিক রেশন ভাতা পেয়ে থাকেন।যাহা বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী খুবই নগন্য। বর্তমান বাজারের সাথে মিল রেখে রেশন ভাতা নূন্যতম ৩০০০/- টাকা নির্ধারণ করা অথবা পূর্বের ন্যায় রেশন প্রদানের ব্যবস্থা করা।যা অবসর প্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য দ্বারা পরিচালিত উপজেলা সোলজার হেল্প ডেক্স এর মাধ্যমে প্যাকেটজাত রেশন সরবরাহ ও বিতরণ করা।(২) অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সকল সদস্যদের স্ত্রীসহ পরিবারকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে সবরকম চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করা এবং দেশের অন্যান্য সকল সরকারী হাসপাতালে বিনামূল্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিকিৎসার ব্যবস্থা ও বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।(৩) অবসর প্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের জন্য চীন ভারত ও পাকিস্তান সহ অন্যান্য দেশের মতো সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মত এক পদ এক পেনশন পদ্ধতি চালুর ব্যবস্থা করা।(৪) অবসর প্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের দুঃখ দূর্দশা লাগবের জন্য এবং প্ল্যাটফর্মে রাখার জন্য অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনী কল্যাণ মন্ত্রণালয় গঠনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।(৫)প্রতিটি জেলায় কার্যকরী সশস্ত্রবাহিনী সোলজার বোর্ড স্থাপন করা। সশস্ত্রবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য সি এম এইচ এর বিকল্প হিসেবে প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও ঔষধ সহ সোলজার বোর্ড হতে চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।(৬)ঢাকা সেনানিবাসের আশেপাশে উন্নত মানের বহুতল বিশিষ্ট সেনা বিশ্রামাগার স্থাপন করা।যাতে করে দূর দূরান্ত থেকে কোন সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য রাজধানীতে আসলে সুন্দর ভাবে নিরাপদে রাত্রী যাপন করতে পারে।(৭)প্রতিটি জেলা উপজেলার সামরিক সদস্যদের জন্য (রানিং/অব:)আইনি সেল চালু করা।যা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত হইবে।
(৮)অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্বশাষিত প্রতিষ্ঠানে চুক্তি ভিত্তিক নিয়ােগ প্রদানের ব্যবস্থা করা। (৯)অবসরগ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের সন্তানদের সরকারি চাকুরিতে ১০ শতাংশ কোটা চালুর ব্যবস্থা করা। (১০)সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যগণ মৃত্যুবরণ করলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার দাফন/কাফন এবং অন্তোষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে খরচের জন্য এককালীন নূন্যতম এক লক্ষ টাকা অণুদান প্রদান করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।(১১) ১৯৭১ সালে যে সমস্ত সৈনিক পাকিস্তানে আটক ছিলেন তাদেরকে মুক্তিযােদ্ধাদের সম্মান ও স্বীকতি প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ১২। অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের সন্তানদের সমস্ত স্কুল কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার জন্য চাকরিকালীন সময়ের মতাে সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। ১৩। অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের ছেলে-মেয়েদের কে উচ্চ শিক্ষার জন্য সেনা কল্যাণ সংস্থা থেকে সহজ শর্তে সমস্ত খরচ/ভর্তুকি প্রদানের ব্যবস্থা করা। ১৪। সেনা কল্যাণ সংস্থা কর্তৃক তৈরিকৃত সকল প্রকার দ্রব্য সামগ্রী অবসরপ্রাপ্ত সশন্ত্রবাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলায় ডিলার নিয়োেগের মাধ্যমে বিপণনের ব্যবস্থা করা। ১৫। অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের বয়স বিবেচনা করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অন্তত ১০ বৎসরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়ােগের ব্যবস্থা করা। ১৬। অবসরপ্রাপ্ত সশনস্ত্রবাহিনীর সদস্যগণ সর্ব শিক্ষায় শিক্ষিত বিধায় তাদেরকে উন্নয়ন্শীল দেশে শ্রমশক্তি নিয়োেগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। ১৭। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন, সব রকম সরকারি হাসপাতাল ইত্যাদি স্থানে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের তাদরকি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়ােগের ব্যবস্থা করা। ১৮। দুস্থ ও অসহায় অবসরপ্রাপ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের কে সেনা কল্যাণ সংস্থা থেকে সব রকমের আথিক সাহায্য সহযােগিতা প্রদানের ব্যবস্থা করা। সবার় অহণের পর সন্তান জন্ম গ্রহণ করলে সার্ভিস বকে এন্ট্রি করা এবং রেশনসহ সকল সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থ ২০। অবসর গ্রহণের পর তাদের সন্তানদের রেশন ও শিক্ষা ভাতা ২৫ বৎসর পর্যন্ত চালু করনের ব্যবস্থা করা। ২১। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর, বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইলে দ্বিতীয় স্ত্রী যাতে প্রথম স্রীর ন্যায় সকল সুযোগ সুবিধাদি পেত পারে, তা কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ২২। শতভাগ পেনশন বিক্রয়কারী সামরিক সদস্যদের জন্য ১০ বছর পর পূনরায় পেনশন চালুর ব্যবস্থা এহণ করা। ২৩। অর্ধেক পেনশন বিক্রয়কারী সামরিক সদস্যদের জন্য পেনশন আসার ১০ বছর পর মাসিক পেনশন ২০,০০০ ২৪। অবসরপ্রাপ্ত পঙ্গু সামরিক সদস্যদের জন্য বিশেষ পঙ্গু ভাতা মাসিক ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা প্রদানের ব্যবস্থা (বিশ হাজার) টাকা কার্যকর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
(২৫) প্রতিটি উপজেলায় সশস্ত্রবাহিনীর সেল (সশস্ত্রবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যেদের নিয়ে) গঠনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ২৬। অবসরপ্রাপ্ত সমশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের বয়স্ক ভাতা (মুক্তিযোদ্ধা সেনাসদস্য, পাবর্ত্য এলাকা ও জাতিসংঘে কর্তব্য পালনকৃত সদস্যদের) ৫৫ বছর এবং সাধারন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক সদস্যদের জন্য বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৬০ বৎসর নির্ধারন করা। ২৭। ঢাকায় কেন্দ্রিয় ভাবে অবসরপ্রাণ্তি সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের জন্য হেল্পডেক্স সেবা প্রদান সার্ডিস চাল করার ব্যবস্থা করা। ২৮। প্রতি বৎসর ২১ নভেম্বর "সশন্ত্রবাহিনী দিবস" বেসামরিক পরিমন্ডলে উৎ্যাপন উপলক্ষে জলা ওয়ারি হিসেবে अবসরপ্রাণ্ত সশস্ত্রবাহিনীর সংগঠন কে অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করা। ২৯। প্রতিটি জেলা/ডপজেলায় খাস জমির উপর অবসরপাপ্তি সশস্ত্রবাহিনীর জেসিও'স/অন্যান্য পদবীর সদস্যদের জন প্রট বরা্ এবং অসহায় ও দুষঃতরস্থ সদস্যদের জন্য গহ নি্মনের জন্য ব্যবস্থা করা। ৩০। চাকুরী মেলা ২০২২ এর ন্যায় প্রতি বছর চাকুরী মেলা আয়ােজনের ব্যবস্থা করা ।পরিশেষে মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে দেশবাসী সহ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ আয়ু ও তার পরিবারের জন্য দোয়া কামনা করেন এবং বিশেষ অতিথিকে একটি সন্মাননা ক্রেষ্ট তুলে দেন অসকস এর সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্যরা।এসময় একটি স্মারক লিপিও তুলে দেওয়া হয় তার হাতে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অসকস কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সার্জেন্ট (অব:)আবু শামা অর্ডন্যান্স। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত অসকস সদস্য বৃন্দ রা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

...
Md Ripon Howlader
01988625536

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ