+

১৯৭১ সালে পাক সাবমেরিন ছিনতাই এর না জানা এক ইতিহাস

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২৯ দিন ১১ ঘন্টা ৩২ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 810
...

 

প্রচ্ছদ পটভূমিতে গভীর সাগরের উপকূলে ডুবুরীর পােশাকে যে নেভাল অফিসারকে দেখা যাচ্ছে তিনি বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর সুইসাইড স্কোয়ার্ডের একজন ভয়ঙ্কর নেভীসিল ও দুর্ধর্ষ নৌ কমান্ডাে।যে-কোনাে জলাশয়ের পানিতে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা সাঁতার কাটতে পারদর্শী। তার নাম শহীদ সরওয়ার
নিজাম। তিনি জন্মগতভাবে একজন বাঙালি; বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর একজন কমােডর (বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) এস এস নিজাম নামেই সর্বাধিক পরিচিত। সে অনেকেরই অজান্তে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন অসীম সাহসী
মুক্তিযােদ্ধা হিসেবে বিস্ময়কর একচ্ছত্র ইতিহাস ধারণ করে আছে। মুক্তিযুদ্ধের ভয়ঙ্কর এবং একই সাথে চাঞ্চল্যকর সেই ইতিহাসটি হয় তাে কারাে জানা নেই,কেনাে না নিজাম সাহেব একান্তভাবে কর্মব্যস্ত ও প্রচারবিমুখ বলে মুক্তিযুদ্ধের এ
ইতিহাসটি এর আগে কোথাও প্রচার প্রচারণা বা গ্রন্থিত হয়নি।

১৯৬৫ সালে বাঙালি ছেলে হিসেবে নৌ বাহিনীতে অফিসার পদে ভর্তি হতে সকল প্রকার দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে সে পকিস্তান নেভীতে অফিসার ক্যাডেট
হিসেবে যােগদান করে। একজন মেধাবী অফিসার হিসেবে দক্ষতার অনেকগুলাে কোর্স সমাপ্ত করে সে। মাত্র সাত মাস সি সার্ভিস করে পাকিস্তান এবং
বাংলাদেশের নৌ বাহিনীর ইতিহাসে একমাত্র সেই ওয়াচকিপিং সার্টিফিকেট পেয়ে একটিং সাব লেফটেন্যান্ট হিসেবে পিএনএস মুক্তার জাহাজের নেভিগেটিং অফিসার হিসেবে কার্যানুমােদন লাভ করে। প্রশিক্ষণে কোনাে পাকিস্তানের শক্তিশালী পাঠান ছেলেরাও দৈহিক বা মেধার শক্তিতে তার আশে-পাশে ভিড়তে পারতাে না।

১৯৭১ সালে পাকিস্তান বেতারে ২৫ শে মার্চ রাতে ঢাকাসহ সারাদেশের গণহত্যার খবরটি যখন সে শােনল তখন থেকেই সে চাকুরিতে বেঁকে বসল।
সেদিনই সে তার সতীর্থদের নিয়ে পাকিস্তান নৌ বাহিনী থেকে পালিয়ে এসে মহান মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে লাগলাে।তার মতাে একজন নেভী সিলের জন্য খালিহাতে একাকী পালিয়ে আসাটা বেশ
সহজ ছিল এবং কয়েকজনকে সে পালিয়ে যেতে সরাসরি সাহায্যও করল। হঠাৎ তার মনে হল, পাকিস্তান নৌ বাহিনীর ৫৬% সম্পদের মালিক বাংলাদেশ। এ সকল সম্পদের উপর বাঙালিদের পূর্ণ অধিকার ও দাবি আছে। তাই সে কিছুতেই
খালি হাতে বাংলাদেশে চলে আসতে সম্মত হলাে না। স্থির করল তার মতাদর্শের অফিসার এবং নাবিকদের সমন্বয়ে একটি কমান্ডাে দল গঠন করে কিছু পাকিস্তানি নৌ জাহাজ বা জাহাজের দামী ও প্রয়ােজনীয় হার্ডওয়্যার নিয়ে নিজ দেশে পালানােটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।কিন্তু পাকিস্তানের জেটিতে অবস্থান করা বড় বড় জাহাজগুলােতে চারশত থেকে আটশত পাঞ্জাবী ও বাঙালি নাবিক এবং অফিসার একত্রে কাজ করে এবং এতবড় একটি জাহাজ, বড় ধরনের প্রস্তুতি ছাড়া কিছুতেই ছিনতাই করা যায় না।
সে খোঁজ নিয়ে জানল, একটি মাত্র জাহাজ আছে যেটার কমান্ডিং অফিসার তখনও পর্যন্ত একজন ডাটসাইটে বাঙালি। তখন তার পদবি ছিল কমান্ডার; পরবর্তীতে সে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর নৌ প্রধান হিসেবে পর পর দু'বার দায়িত্ব পালন
করেছিল। সেই সময় নিজামের গ্রুপ তার কাছে গােপনে মিশন পাঠিয়ে তাকে বুঝাবার চেষ্টা করতে লাগলেন যে একমাত্র তার জাহাজটি ছিনতাই করে
বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সহজতর হবে এবং এটা করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধের মােড় সম্পূর্ণ ঘুরে যাবে। কিন্তু তার কাছে প্রেরিত সেই দূতকে সে আর একবার এ কথা উচ্চারণ করলে তাকেসহ বিদ্রোহী বাঙালিদের সবাইকে নৌ সদর
দপ্তরে ধরিয়ে দেবেন বলে কড়া হুমকি দিলাে।
দমবার পাত্র নন নিজাম। এবার সে সরাসরি যেসব জাহাজ কম ক্রু নিয়ে কাজ করে সে রকম একটি যুদ্ধ জাহাজ ছিনতাই করার চূড়ান্ত ব্যবস্থা করে
ফেললাে। কিন্তু জাহাজটি ছিল খুবই ছােট তাই সে আবার ভাবলাে ছিনতাই যদি করতে হয় তাহলে পুরাতন বা ছােট জাহাজ কেনাে? ছিনতাই করা হবে
সাবমেরিন। আর সেটা হল পাকিস্তান নেভীর জন্য সদ্য কেনা নতুন ব্র্যান্ডের দাফনি সিরিজের শুশক নামের সুবিশাল অত্যাধুনিক সাবমেরিনটি।
পাকিস্তান নেভী সেই সময় সাবমেরিন শুশককে বঙ্গোপসাগরে কর্তব্য পালনের জন্য যাবতীয় সন্ভারে সজ্জিত (খাদ্য ও জ্বালানী, গােলা বারুদ ইত্যাদি)করে ওটাকে সাবমেরিন জেটিতে বেধে রেখেছিল। এই সাবমেরিনটি সদ্য নির্মিত
হয়ে ফ্রান্স থেকে মাত্র করাচীতে এসেছে এবং এটা নিজামদের বসবাসের স্থান পিএনএস ইকবাল ঘাঁটির খুব সন্নিকটে বার্থ করা ছিল। নতুন সাবমেরিন শুশককে ছিনতাই করা তাদের জন্য এখন অতি সহজ কাজ।শুরু হল প্লান প্রােগ্রাম। নিজাম গােপনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, ডিউটি
আওয়ার ছাড়া সাবমেরিনে ডিউটি অফিসারসহ ৫/৬ জনের বেশি লােক বা ক্রু অনবাের্ড থাকে না, সকলে বিশ্রাম নেবার জন্য নিকটতস্থ স্টারিশমেন্টে চলে যায়।

নিজামের গ্রুপে অফিসার আর নাবিক মিলে ডেডলি যােদ্ধা ছিল বেশ কয়েকজন।
অতর্কিতে সাবমেরিনটিতে হামলা করে পাঞ্জবী ক্রুদেরকে বন্দী করে (পূর্বপ্রস্তুতি স্বরূপ দু'টি অপারেশনাল সাবমেরিন পিএনএস শৃশক এবং পিএনএস হাঙ্গর থেকে নিজাম গােপনে নির্বাচিত বাঙালি সাবমেরিনারদের আগেই তালিকাভূক্ত করে প্রস্তুত করে রেখেছিল। নিজাম বিশেষ সংকেত দিলে তারা দ্রুত এসে সাবমেরিনে উঠে পড়তাে। ক্রুদের ছিনতাইকৃত সাবমেরিনে তুলে নিয়ে
নিজেরাই সাবমেরিন চালিয়ে সাগরে বেরিয়ে একবার ডুব দিতে পারলে তাদেরকে আর পায় কে?নিজামের বাছাই করা টিমের অনেকেই সাবমেরিন চালাতে পারে কিন্তু তাদের সাবমেরিনটিকে পানির নিচে ডুব দিয়ে চালাবার জন্য একই ধরনের সাবমেরিনে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন দক্ষ নেভিগেটিং অফিসার দরকার। যা এই মুহূর্তে তাদের
কমান্ডাে গ্রুপে নেই। তার টিম সাগরের উপর দিয়ে সাবমেরিন ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারবে কিন্তু তাতে কোনাে লাভ নেই। সাবমেরিন ছিনতাই হয়েছে এটা পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ দু'তিন ঘন্টার মধ্যেই জেনে ফেলবে এবং সাথে সাথে পাকিস্তান বিমান
বাহিনীকে খবর দিয়ে এবং ওদের ফাইটার পাঠিয়ে বেধরক বােম্বিং করে সাগরের পানিতে ছিনতাইকারীদেরসহ ভুবােজাহাজটি মুহূর্ত ডুবিয়ে দিতে কার্পণ্য করবে না।

শুরু হল সেই নেভিগেটিং অফিসারের জন্য তথ্য তালাশ। অনেক খুঁজে অবশেষে একজন বাঙালি নেভিগেটিং অফিসারের সন্ধান পাওয়া গেল। আন্ডার ওয়াটার নেভিগেটিং ব্যাপারে সে ফ্রান্সে প্রশিক্ষিত হয়ে এসেছেন এবং তাকে ছাড়া
কিছুতেই পানির নিচে ডুব দেয়া যাবে না। অনেক প্রচেষ্টার পর তার নিজাম গং তাকে এবং তার স্ত্রীকেসহ সাবমেরিনে তুলে নেওয়া হবে এমন সব শর্ত পূরণ করে অবশেষে রাজী করানাে হল। ১৯৭১ সালের পহেলা এপ্রিলের আগের রাতে নিজাম যখন পুরাে দলটিকে একত্রিত করে ছিনতাইয়ের অভিযানে পূর্ণ প্রস্তুতির জন্য যার যার কাজ ভাগ
করে দিচ্ছিলেন এবং মিটিং শেষে এ্যাকশনে বেরুতে যাবে।ঠিক সেই সময় সেই বাঙালি নেভিগেটিং অফিসার পুরাে বাঙালি জাতির
সাথে বেঈমানী করে পাকিস্তান নেভীর গােয়েন্দাদের দিয়ে অন দি স্পট ধরিয়ে দিলাে নিজামসহ তার পুরাে গ্রুপকে। তাদের এতাে কষ্টের সমস্ত পরিকল্পনার পুরােটা অঙ্কুরেই ভেস্তে গেল। ১লা এপ্রিলের আগের রাতে মুক্তিযােদ্ধাদের পুরাে
গ্যাংটি একসাথে এ্যারেস্ট হয়ে গেল। পরবর্তীতে তাদেরকে বিচারের জন্য জেনারেল কোর্ট মার্শাল আদালতে উঠানাে হল।

জেনারেল কোর্ট মার্শাল এ অফিসারদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযােগ ছিল: -
ক. ধ্বংসাত্মক ষড়যন্ত্র, দেশদ্রোহীতা এবং তথাকথিত সাবমেরিন হাইজ্যাকিং করে বাংলাদেশে পলায়ন এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করার পরিকল্পনা।
খ. বিদ্রোহে আনুকূল্য বা উষ্কানি দেয়া।
গ. অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া।
১৯৭১ সালে একদিকে বাংলাদেশে ভয়াবহ মুক্তিযুদ্ধ চলছে আর ওদিকে পশ্চিম পাকিস্তানে এসব ধৃত বাঙালি কমান্ডােদের কোর্ট মার্শালে কঠোর বিচার চলেছে।সুদীর্ঘদিন কোর্ট পরিচালনার পর ১২০০ পৃষ্ঠার আদালতের লিখিত নথিপত্র ধারা
বিবরণী যাচাই বাছাই করে জেনারেল কোর্ট মার্শাল তাদের ৭ জনকে ফাঁসি দেবার আদেশ দিয়ে তাদের প্রতিবেদন বা রিপাের্ট উপরে প্রদান করল। তাদেরকে আজ বা কাল ফাঁসিতে চড়ানাে হবে এমন সময়ে নেভী কোর্টের এই সিদ্ধান্তটি তাদের
কমান্ডার ইন চিফ এডমিরাল মােজাফফর হাসান সাহেবের নিকট ফাইনাল সিগনেচার করার জন্য প্রেরণ করা হল। কমান্ডার ইন চিফ এডমিরাল কিছু সময় নিয়ে নিখুঁতভাবে এই কেসটি আবার পর্যালােচনা করলাে। এডমিরাল ছিল খুব সৎ
এবং আল্লাহ ভক্ত বিজ্ঞ একজন ব্যক্তিত্ব। সে আদালতের বাক্যে সাক্ষী হিসাবে
স্পষ্টাকারে কারাে নাম না পেয়ে নিশ্চিতভাবে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করতে নারাজ
হলাে। তিনি ফাঁসি অস্বীকার করে তাদেরকে যথাক্রমে ৭ এবং ৫ এবং নন কমিশনদেরকে ৪/৫ বছর আর আই (আর আই) বা সমশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করার শান্তি অনুমােদন করলেন। আল্লাহর বিশেষ রহমতে ফাঁসির একেবারে দারপ্রান্তে
এসেও বেঁচে গেল সাতজন জীবনবাজী করে যুদ্ধে নামা মুক্তিযােদ্ধা।নিজাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, ছিনতাই করার জন্য সাবমেরিনকেই কেনাে বেছে নিয়েছিল সে? উত্তরে বলল: "পাকিস্তান থেকে পলায়ন করার জন্য কেনাে সাবমেরিনকেই বেছে নিয়েছিলাম তার কিছু স্পষ্ট
কারণ ছিল। সেই সময়ে পাকিস্তানের সােভিয়েত ও ফ্রান্সে নির্মিত ছয় থেকে সাতটি সাবমেরিন (submarines) ছিল। তাদের মধ্যে দাফনি সিরিজের সাবমেরিন শুশককে স্টার্ট করা এবং নেভিগেটিং করা অনেক সহজ ছিল কেনাে না
এটি ছিল সম্পূর্ণভাবে সাউন্ড লেস।
তারা সাগরে বেড়িয়েই সাতে সাথে সিগনাল করে ভারতকে তাদের ছিনতাইয়ের খবরটি জানিয়ে দিলে; ভারত তাদের এই ছিনতাইয়ের খবর পাওয়ার সাথে সাথে সারা বিশ্বে তা প্রচার করে দিত যাতে পাকিস্তানীরা কোনাে অবস্থায় সাবমেরিনটি ডুবিয়ে দিতে না পারে।ছিনতাইকৃত পাকিস্তানি সাবমেরিন তার জলসীমায় ঢুকেছে এই অজুহাতে
ভারত তারপর তাদের নিজস্ব সাবমেরিন দিয়ে বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসা পাকিস্তানের সমরান্ত্রবাহী সব জাহাজকে চেজিং করে ডুবিয়ে দিতে পারবে।এভাবে পাকিস্তান থেকে জলপথে পাকিস্তানিদের সমন্ত লজিষ্টিক সাপ্লাই বন্ধ হয়ে
গেলে ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মােড় নিশ্চিতভাবে ঘুরে যেতাে। সৃষ্টি হতাে নতুন এক ইতিহাস।পাকিস্তান তার নিরাপত্তা স্তরে একটা বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। কিন্তু শেষ পর্যায়ে বেঈমান সেই বাঙালি লেফ্টেন্যান্ট এর জন্য সম্পূর্ণভাবে সবকিছু ব্যর্থ হল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বঞ্চিত হল নতুন এক ইতিহাস গড়ে ফেলা থেকে।

তাদের সাজাপ্রাপ্ত সাতজন নেভাল লােক খুব প্রশিক্ষিত ছিল বিধায় পাকিস্তানি নৌ বিশেষজ্ঞরা তাদেরকে দুর্দান্ত বাঙালি ফ্রিডম ফাইটার হিসেবে
আখ্যায়িত করল। তাদেরকে খােলাভাবে জেলে রাখলে নিশ্চিত পালিয়ে যাবে বা পাকিস্তানের ক্ষতি করবে তাই জেলারকে এই নির্দেশ দেবার পর করাচী কারাগারের জেলার তাদেরকে এমনভাবে আটকে রাখার ব্যবস্থা করল যে, চব্বিশ
ঘন্টাই তাদেরকে লােহার খাঁচাতে চিড়িয়াখানার পশুদের মতাে বন্দী করে রাখা হত। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে ১৯৭৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলে খবরহীন হয়ে দুঃসহ দিন কাটাতে থাকে তারা। বাংলাদেশের সকলে স্থির সিদ্ধান্তে পৌছেছিল যে এই যােদ্ধারা মারা গেছে অথবা ওদেরকে মেরে ফেলা হয়েছে তাই সকল স্থান থেকেই তাদের নাম মুছে যায়।একদিন নিজাম পাকিস্তানের সুকতুর নামের জেলের ভেতরে হঠাৎ একজন মহাপ্রাণ বাঙালি ডাক্তারের সুহৃদ সহায়তায় লণ্ডনে তার এক ভাইয়ের কাছে
গােপনে একটি চিঠি পাঠাতে সক্ষম হন। সেই চিঠিটি বাংলাদেশে নিজাম সাহেবের মায়ের নিকট দ্রুত পৌছে যায়। সেই চিঠি নিজামের মা এবং তার
সুযােগ্য খালা লীগ নেত্রী মেহেরুন্নেছার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের হাতে চলে আসে। বঙ্গবন্ধু ডক্টর কামাল হােসেনসহ সকলেই এই চিঠি পড়ে অবাক হয়ে যায়।বঙ্গবন্ধু এই দু'জন বীর যােদ্ধাকে পাকিস্তান কারাগার থেকে ছাড়িয়ে আনতে ডক্টর
কামাল হােসেনকে অনতিবিলম্বে আইসিআরসির সদর দফতর জেনেভায় একটি জরুরি টেলেক্স পাঠাতে বলেন। অবিলম্বে যেনাে সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে এই দু'জন নৌ অফিসারকে মুক্ত করে বাংলাদেশে প্রেরণ করার যাবতীয় ব্যবস্থা করে
তারা।অতঃপর ডক্টর কামাল হােসেন রেডক্রসের মাধ্যমে সারা পাকিস্তানের জেল খানাগুলােতে তাদের খোঁজাখুজি করতে থাকে। অবশেষে পাকিস্তানের সুক্কুর প্রদেশের একটি দুর্ভেদ্য জেলে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়। পাকিস্তানিরা এই
দু'জনকে আউট অব লিষ্ট করে রেখেছিল যার জন্য রেডক্রসের লােকদেরকে তাদের খোজ করতে অনেক সময় ও বেগ পেতে হয়েছিল। মুক্তি দেবার পরেও পাকিস্তান নেভী এই দু'জন বীরকে পাকিস্তানেই চিরদিনের জন্য থেকে যেতে
অনেক পীড়াপীড়ি ও লােভ দেখিয়েছিল। কিন্ত সেখানে একবিন্দু সময়ও আর থাকতে চায়নি তারা। ১৯৭৪ সালের মার্চ মাসে একটি চাটার্ড
বিমানে করে বাংলাদেশের মাটিতে এসে নামে তারা। বঙ্গবন্ধু খবর পেয়ে তাদেরকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে আসে এবং ব্যক্তিগতভাবে তাদেরকে
অভিনন্দন ও বাহবা দেয়।মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেন।

আজকের বাংলাদেশ নৌ বাহিনী যাদের হাতে প্রকৃতভাবে সেজেছে কমােডর নিজাম তাদের মধ্যে অন্যতম একজন। শুধু এখানেই শেষ নয় তার জীবনীতে রয়েছে আরাে বহু বহু চমক এবং ঘটনার ঘনঘটা। সারা পৃথিবীর ৬০ টির মতাে দেশ সে ভ্রমণ করেছে। ভাষাও জানে অনেকগুলাে। বিশ্বের নামকরা ভাস্কর শিল্পী ফ্রান্সে অবস্থানরত নােভেরা তার আপন ফুফাতো বােন এবং বাংলাদেশে একমাত্র তার সাথেই অভিমানী নােভেরার ভালাে যােগাযােগ আছে।তাকে নৌ প্রধান সুলতান আহম্মেদ একবার বলে ফেলেছিল "নিজাম তুমি
বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর জন্য একজন ওভার কোয়ালিফাইড পারসন নও কি?"
সত্যিই তার মতাে উচ্চ শিক্ষিত এতােটা হাই স্কিলড অফিসার বাংলাদেশ নেভী আর পাবে কি-না তা একমাত্র ভবিষ্যতই বলতে পারবে। তার জীবনী খুব একটা ছােট নয় প্রচুর জ্ঞান ভাণ্ডারে পরিপূর্ণ এবং অনেক সময় নিয়ে তা পড়তে হবে। সে
বাংলাদেশের একজন জাতীয় বীর। তাদের বঙ্গোপসাগরের প্রতিটি ইঞ্চি জলকনার খবর তার নখদৰ্পণে। উনি সেই দুঃসাহসিক ক্যাপ্টেন যিনি কুতুবদিয়ার স্বল্প পানিতে ফ্রিগেটের মতাে বিশাল জাহাজ চালিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। সে
বাংলাদেশের এ যাবৎ কালের সর্ববৃহৎ জাহাজ হিজবুল বাহার বা পরবর্তীতে বিএনএস শহীদ সালাউদ্দিন নামের হজযাত্রীবাহী জাহাজটির একমাত্র নৌ বাহিনীর চ্যালেঞ্জিং ক্যাপ্টেন। তার জন্য বাংলাদেশের অগণিত দরিদ্র ও গরিব মানুষ সন্তায় জাহাজে চড়ে হজুব্রত পালন করতে পেরেছিল।

বিঃদ্রঃ স্যারের কোনো ভালো ছবি না পাওয়ায় দিতে পারিনি তার জন্য দুঃখিত।

তথ্যসূএঃ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সাবমেরিন ছিনতাই চাঞ্চল্যকর গল্প।

...
MD. Shajalal Rana(SJB:E078)
Mobile : 01881715240

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ