+

আরব আমিরাতের 'ভূতের গ্রাম'

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ৮ দিন ১৫ ঘন্টা ১৩ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 2380
...

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ‘ভূতের গ্রাম’ নামে পরিচিত একটি এলাকা আছে, পরিত্যক্ত ওই এলাকার নাম আল জাজিরাহ আল হামরা। সেখানে সমুদ্র নিকটবর্তী একটি দ্বীপ ৫৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রায় জনমানবশূন্য ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ১৪০০ শতাব্দীতে গ্রামটির উদ্ভব। ১৮৩১ সালে এর পুনঃনির্মাণও হয়। ব্রিটিশ তথ্য অনুযায়ী গ্রামে প্রায় ৩শ ঘর ৪ হাজার ১শ’র মতো লোক বসবাস করত। সেখানে ছিল ১৩টি মসজিদ। ‘রাস আল খাইমাহ’ শহরের দক্ষিণের গ্রামটি এক সময় বণিকদের পদচারণায় মুখরিত ছিল।
আমিরাতের রাস আল খাইমাহ প্রদেশে অবস্থিত এ দ্বীপটিকে স্থানীয় লোকজন ‘ভূতের গ্রাম’ হিসেবেই চেনেন। বাংলায় অনেকে ‘লাল দ্বীপ’ বলেন। এখানকার বহু বছরের পুরনো ঘরবাড়ি আর ধ্বংসস্তুপগুলোতে মিশে আছে রহস্যময় নানা ঘটনা আর গল্প।
১৯৬০ সালে গ্রামটি বেশ সমৃদ্ধশালী ছিল। তখনো অনেক বিলাসী বাড়িঘর ছিল। উপকূলীয় গ্রামটিতে তখন ফার্সি অভিবাসী, পর্তুগিজ ব্যবসায়ী এবং ব্রিটিশ কর্মকর্তারা দাঁপিয়ে বেড়াত। কারণ, এখানকার স্থানীয়রা মাছ এবং মুক্তার ব্যবসা করত। 
কিন্তু হঠাৎ করেই দৃশ্যপট পাল্টাতে থাকে। একপর্যায়ে এই গ্রামে জ্বিন-ভূতের বসবাসের খবর রটে যায়। বাসিন্দাদের মনে ভয়-ভীতি তৈরি হয়। এর কয়েক বছর পর দ্বীপটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বাসিন্দা আবুধাবি চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৬৮ সালের পর হঠাৎ করেই মানুষশূন্য হতে থাকে দ্বীপটি।
যারা থেকে যায় তারাও খুব ভয়ে দিন কাটায়। কারণ, এখানে অশরীরী আত্মার আনাগোনা বেড়ে যায় বলে স্থানীয়দের ধারণা। নানা রকম ভৌতিক কর্মকাণ্ডে প্রতিদিন জমতে থাকে নানা গল্প। স্থানীয়দের মতে, জ্বিন-ভূতের ভয়ে লাল দ্বীপকে ১৯৬৮ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে দ্বীপের বাসিন্দারা সবাই আবুধাবি পাড়ি দেন। সেখানেই তারা স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তবে এখনও এ দ্বীপে কোনো কোনো মালিক নিজের ঘরবাড়ি দেখতে যান।
আল জাজিরা আল হামরা এলাকাটি প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটিসের জন্য জনপ্রিয়। প্রায়ই পর্যটক ঘুরতে যান। প্রাচীন দুর্গের ছবি তুলতে গেলে তাদের সঙ্গেও ঘটতে থাকে অস্বাভাবিক ঘটনা। স্থানীয়দের ধারণা, এখানে অভিশপ্ত আত্মা রয়েছে। তারা প্রায়ই বিচিত্র হাতের ছাপ দেখতে পান। তাদের ধারণা, এটি আগত দর্শনার্থীদের জন্য সতর্ক সংকেত। যদিও স্থানীয়রা তাদের বরাবরের মতোই নিরুৎসাহিত করে। তারা সতর্ক করে দেন যে, এখানে দুষ্ট জিনের উপদ্রব বেশি। বিজ্ঞানের যুগে এসবের ব্যাখ্যা চলে না। তবুও নিত্যনতুন ভৌতিক রহস্য আর নিঃস্ব হওয়া গ্রামটিকে কি অস্বীকার করা যায়!
স্থানীয়দের তথ্য মতে, আরব আমিরাতের প্রাদেশিক শহর রাস আল খাইমাহ থেকে রহস্যময় এ দ্বীপটির দূরত্ব ২৫ কিলোমিটার। একসময় এ দ্বীপের বাসিন্দারা নৌকা নিয়ে গভীর সমুদ্র থেকে মুক্তা সংগ্রহ করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে বর্তমানে এ দ্বীপে যতটুকু চোখ যায় কেবলই ধ্বংসস্তুপ, ভাঙা ভবনের দৃশ্য দেখা যায়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রাচীন ইটপাথরে ভরা জঞ্জালময় এক ভৌতিক পরিবেশও মনের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
এক কিলোমিটারেরও কম আয়তনের ভৌতিক গ্রামটিকে বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন তারকাঁটার প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রেখেছে। ভাঙা ভবনগুলোর পথ ধরে ভেতরে যেতে গা ছমছম করে ওঠে। বড় বড় সামুদ্রিক পাথরে নির্মিত শত শত ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষ। লোকজন নেই বললেই চলে। চলাচলের রাস্তাগুলো নানা জঞ্জালে ভরা। তবে উপরের পলেস্তারা খসে গেলেও পুরনো মসজিদটি অনেকটা অক্ষত রয়েছে। আবার কয়েকটি ঘর মেরামত করে বর্তমানে কিছু মৎসজীবী শ্রমিক বাস করছেন।
শ্রমিকরা জানান, স্থানীয়দের মধ্যে লাল দ্বীপে জ্বিন-ভূত থাকার প্রচার-প্রচারণা রয়েছে। পরিত্যক্ত গ্রামের ঘরবাড়িগুলো বেশিরভাগ নষ্ট হয়ে গেছে। তারকাঁটার প্রাচীরের কাছাকাছি কয়েকটি ঘর মেরামত করে তারা কমমূল্যের ভাড়া পরিশোধ করে থাকেন। তবে ঘরগুলোর মালিকের বংশধররা এখনও এসে খোঁজ-খবর করেন।
এর আগে গ্রামটি নিয়ে ভৌতিক চলচ্চিত্র নির্মাণেরও উদ্যোগ নেন কয়েকজন নির্মাতা। একবার স্থানীয় চলচ্চিত্রনির্মাতা ফয়সাল হাশমি কিছু বন্ধুকে নিয়ে গ্রামটিতে একটি রাত কাটাতে আসেন। তখন তাদের সঙ্গে নাকি ঘটতে থাকে নানা ভৌতিক কর্মকাণ্ড। বোঝার বাকি রইল না যে গ্রামটি ‘ভয়ঙ্কর ও অভিশপ্ত’।
চলচ্চিত্র নির্মাতা ফয়সাল হাশমি বলেন, এ গ্রামে যারা ছিলেন কিংবা ভ্রমণে এসেছেন তাদের সঙ্গে একবার হলেও রহস্যময় ভূতুড়ে কোনো না কোনো ঘটনা ঘটেছে। কিছু কিছু মানুষ এ গ্রামে জ্বিন নেই বললেও বেশিরভাগ স্থানীয় এখানে জ্বিনের অস্তিত্ব আছে বলে দাবি করেন।

...
MD. Shajalal Rana

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি


খুলনা বিভাগের সাংবাদিক, মুক্ত হাতে যারা লিখতে ভালোবাসেন তাদের জন্য সুখবর। বাংলাদেশের বহুল প্রচারিত, মিডিয়া অন্তুর্ভুক্ত জাতীয় দৈনিক সরেজমিনবার্তা পত্রিকায় খুলনা বিভাগীয় প্রধান , জেলা প্রতিনিধি , বিজ্ঞাপন প্রতিনিধি পদে নিয়োগ দেয়া হবে। আগ্রহীগণ ০১৭১৫ ৯৫ ৯৩ ৪৪ এই নম্বর এ যোগাযোগ করুন।

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ