+

টেক্সাসে একই পরিবারের ৬ বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার, ব্যাপক চাঞ্চল্য

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ১০ দিন ৭ ঘন্টা ৮ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 325
...

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে একটি বাড়ি থেকে একই পরিবারের ৬ বাংলাদেশির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, পরিবারের দুই ছেলে অন্য সদস্যদের হত্যা করে নিজেরাও আত্মহত্যা করেছেন। তবে এখনো ঘটনার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এই ঘটনায় কেবল টেক্সাস নয়, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সেইসঙ্গে তাদেরকে গভীর দুঃখ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। 

পুলিশ বলছে, শনিবার কোনো একটি সময় এই হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনাটি সবাই জানতে পেরেছে সোমবার  সকালে ঘুম ভাঙার পর।

নিহতরা হলেন তাওহিদুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী আইরিন ইসলাম, তিন সন্তান তানভীর তাওহীদ, ফারবিন তাওহীদ এবং ফারহান তাওহীদ। এমনকি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন আইরিন ইসলামের বৃদ্ধা মা আলতাফুন নেসাও।

জানা যায়, টেক্সাসের ডালাসের অ্যালেন হোমে বসবাস করতেন বাংলাদেশি দম্পতি তাওহীদুল ইসলাম ও আইরিন ইসলাম। তাঁদের দুই ছেলে এবং এক মেয়ে। আইরিন ইসলামের মা আলতাফুন নেসা বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন মেয়ের কাছে থাকার জন্যে। দেশে ফেরার কথা থাকলেও, করোনার কারণে আটকা পড়েছিলেন তিনি। 

পুলিশ মুখপাত্র সার্জেন্ট জন ফেল্টি বলেন, প্রাপ্ত তথ্য বলছে তাওহীদুল ইসলামের দুই ছেলে নিজেরা ঠিক করেছিলেন যে তারা আত্মহত্যা করবেন। সেই সঙ্গে পুরো পরিবারকেও তারা মেরে ফেলবেন। সে অনুযায়ী তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারেন।

মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ সংক্রান্ত একটি সুইসাইডাল নোট রেখে গেছেন ১৯ বছর বয়সী ছোট ছেলে ফারহান তাওহীদ। যেখানে তিনি নিজেকে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে উল্লেখ করেছেন। কেবল তাই নয়, পুলিশ বলছে, এই দুই ভাইয়ের একজন সম্প্রতি বন্দুক কিনেছিলেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাসের কর্মকর্তা শাওন আহসান অন্য কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি বলেন, 'ঘটনাটি জানার পর বেশ অনেক্ষণ যেন আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছিলাম না।' তিনি জানান, প্রায় ১১ বছর ধরে এই পরিবারটিকে তিনি চেনেন। হত্যাকাণ্ডের শিকার হাওহীদুল ইসলাম তাঁর খুব ঘনিষ্ঠ ছিলেন উল্লেখ করে বলেন, 'তিন সন্তানকে নিয়ে তাঁকে সবসময়ই গর্বিত হতে দেখেছি।' 

প্রতিবেশী আহমেদ হোসেন জানান, নিউ ইয়র্ক থেকে পরিবারটি সাত-আট বছর আগে টেক্সাসের ডালাসে যান। এরপর থেকেই ওই এলাকায় বসবাস করতেন পরিবারটির সদস্যরা।

আহমেদ হোসেনের স্ত্রী শাহনাজ হোসেন বলেন, 'নিহত আইরিন ইসলাম সবসময়ই ছেলেমেয়েদের নিয়ে গল্প করতেন। কীভাবে তারা ভালো রেজাল্ট করছে, কীভাবে স্কলারশিপ নিয়ে ভালো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে- এসব বলতেন। কিন্তু তাঁর সন্তানদের কেউ এমন কিছু করতে পারেন, ধারণা করতে পারছি না।'

তবে নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী আইরিন ইসলামের নিকটাত্মীয় কামাল পাশা কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ছেলে দুটো ক্লাস নাইনে পড়ার সময় থেকেই ডিপ্রেশনের ওষুধ খেত। তাদের দুইজনের নানা সমস্যা ছিল বলে জানতাম। কিছুদিন আগেও তারা নিউ ইয়র্কে এসেছিল। আমি সবসময় কাছ থেকে দেখেছি। ছেলে দুটো যদি সবাইকে মেরে, নিজেরা আত্মহত্যা করে; সেটি অসম্ভব নয়।'

পাবনা জেলা সমিতির সভাপতি কামাল পাশা আরো বলেন, 'ঘটনাটি জানার পর থেকে মানসিকভাবে ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছি। এই পরিবারটির সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক।' 

নিহত আইরিন ইসলামের ছোটভাই এমেড রহমান আতা নিউ ইয়র্কের অ্যালমহার্স্টে থাকেন। এমন পরিস্থিতিতে ভীষণ ভেঙে পড়েছেন তিনি। কথা বলার মতো শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন।

নিউ ইয়র্কে বসবাসকারী কমিউনিটি অ্যাকটিভিস্ট ও পাবনার বাসিন্দা গোপাল সান্যাল বলেন, 'মর্মান্তিক ঘটনাটির শিকার পরিবারটির বাড়ি পাবনার দোহার পাড়ায়। দোহার পাড়ার বিখ্যাত ব্যক্তি জিয়া হায়দার, রশিদ হায়দার উনাদের নিকটাত্মীয় বলে জেনেছি। এমন ঘটনা কিছুতেই মেনে নিতে পারছি না।'

প্রাথমিকভাবে হত্যা ও আত্মহত্যা বলে জানা গেলেও, এর পেছনের প্রকৃত ঘটনা দ্রুতই বিস্তারিত জানা যাবে বলে মনে করেন গোপাল সান্যাল।  

...
News Admin(SJB:E118)
Mobile : 01731808079

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন
01868974512

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ