+

সরকারী অর্থ আত্মসাৎ: গাজীপুরে এমপিও শিক্ষক নিকাহ্ রেজিস্ট্রার এ্যাডভোকেট একাই তিনি

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২৯ দিন ২৩ ঘন্টা ২২ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 420
...

মো. মেহেদী হাসান, গাজীপুর:
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০১৮ এর ১১.১০(ক) বিধান মোতাবেক ‘বেতন-ভাতাদির সরকারি অংশ প্রাপ্তির জন্য আবেদনকারী শিক্ষক-কর্মচারীগণ একই সাথে একাধিক পদে চাকুরীতে বা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।’

মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর বিধি ২০ মোতাবেক বলা হয়েছে ‘কোন নিকাহ রেজিস্ট্রার তাহাকে যে এলাকার জন্য লাইসেন্স প্রদান করা হইয়াছে, সেই এলাকা বা উক্ত এলাকার সংলগ্ন কোন ওয়ার্ড, পৌরসভা বা ইউনিয়নের কোন মসজিদ অথবা বেসরকারী স্কুল, কলেজ অথবা বেসরকারী মাদ্রাসা ব্যতীত অন্য কোথাও চাকরি করিতে পারিবেন না।’

দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ধারা ২ ও পেনাল কোড এর ধারা ২১ এর উপধারা ১২(ক) অনুযায়ী, ‘কোন সরকারী কর্তব্য সম্পাদনের জন্য সরকারের চাকুরিতে বা বেতনভোগী হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন বা ফি অথবা কমিশন আকারে পারিশ্রমিক পেয়ে থাকেন’ সেও সরকারী কর্মচারীরূপে গণ্য হবেন। সে হিসেবে একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক সরকারি কর্মচারী, একই বিধান মোতাবেক কমিশন আকারে পারিশ্রমিক গ্রহণ করায় নিকাহ রেজিস্ট্রার পদও সরকারি কর্মচারী হিসাবে গণ্য। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী সরকারের দুই পদে একই সাথে কর্মরত থাকা অপরাধ অর্থ আত্মসাতের সামিল।

৬ জানুয়ারী ২০২০ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য আলী আজমের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রাররা একইসঙ্গে সরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে সুবিধা ভোগ করতে পারেন না। কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার তার নিজ অধিক্ষেত্রের বাইরে কোনো সরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে বা অন্য কোনো পদে চাকরি করলে তার লাইসেন্স বাতিলসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ এছাড়া গাজীপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এম আবু ওবায়দা আলী দৈনিক সরেজমিন বার্তাকে জানান, ‘সম্প্রতি মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা এসেছে কোনও এমপিও শিক্ষক নিকাহ্ রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্বরত থাকতে পারবেনা।’

এই যদি হয় সরকারী নির্দেশনা ও আইনি বিধান, তাহলে গাজীপুর নগরীর কানইয়ার মোঃ সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোঃ আমিরুল হুদা একই সাথে এমপিওভুক্ত শিক্ষকতা, জজ কোর্টে ওকালতি, নিকাহ্ রেজিস্ট্রারের কার্যক্রম পরিচালনা করেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষা অফিসার এম আবু ওবায়দা আলী বলেন, ‘এটা সে পারেনা, আমরা খুব দ্রুত তার অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।’ একই প্রশ্নের উত্তরে গাজীপুর জেলা রেজিস্ট্রার অহীদুল ইসলাম জানান, ‘আপনি খুবই ভালো ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেছেন কিন্তু এ ব্যাপারে আমার জানা নেই, জেনে আপনাকে জানাতে হবে।’

অনুসন্ধানে নগরীর ‘কানাইয়া দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা’য় যোগদানের তারিখ জানতে না পারলেও মাদ্রাসা সুত্রে জানা যায় ১৯৯৩ ইং সালেই এমপিওভুক্ত হন আমিরুল হুদা। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায় তার এমপিও ইনডেক্স নং ডি৩৩৬৪৬৫, পে কোড ৯, অগ্রণী ব্যাংক হিসাব নং ১৬৭৩৫। এমপিও নীতিমালা তোয়াক্কা না করে সরকারী এমপিওভুক্ত শিক্ষকতার তথ্য গোপন করেই ০৩-৫-২০০১ইং তারিখে আইন মন্ত্রণালয়ের ৩৫৩-বিচার-৭-/২এন-১৫৯/৭৬ স্মারকমূলে তৎকালীন গাজীপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড অধিক্ষেত্রে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগ হন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকতা, নিকাহ্ রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্বরত থাকাকালীন সময়ই ২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর গাজীপুর বারে আইনজীবী হিসেবে সনদ প্রাপ্ত হন এবং সদস্য নং ৯৫৯ নিয়ে গাজীপুর বারে ২০১১ সালের ২ জানুয়ারী প্র্যাকটিসের উদ্দেশ্যে যোগদান করেন। গাজীপুর পৌরসভা ভেঙ্গে ২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন গঠিত হলে আমিরুল হুদার নিকাহ্ রেজিস্ট্রেশন অধিক্ষেত্র সাবেক ৫নং ওয়ার্ড বিলুপ্ত হয়ে ২৮ নং ওয়ার্ড গঠিত হওয়ায় পুনরায় নতুন করে সরকারী এমপিওভুক্ত শিক্ষকতা, জজ কোর্টের ওকালতির তথ্য গোপন করে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ২৮ নং ওয়ার্ডের অংশ(হাড়িনাল, নোয়াগাও, লাঘালিয়া, ভোড়া, হাজীবাগ, চা বাগান) অধিক্ষেত্রে সরকারের আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক ১৮-০৮-২০১৩ ইং তারিখের বিচার-৭/২এন-২৪/২০১৩-৭০১ স্মারকমূলে নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নিয়োগপ্রাপ্ত হন।

যেহেতু আমাদের দেশের প্রচলিত আইনানুযায়ী সরকারের দুই পদ ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ করা একটি অপরাধ সেহেতু অপরাধের পরিসংখ্যানে বলা যায় এমপিও তথ্য গোপন করে ২০০১ সালের ৩ মে থেকে আমিরুল হুদা নিকাহ্ রেজিস্ট্রার হিসেবে দুর্নীতির মধ্য দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ শুরু করেন। ২৪০ মাসের প্রতিমাসে গড়ে ১০টি নিকাহ রেজিস্ট্রি সম্পাদন করলে প্রতিটি নিকাহ রেজিস্ট্রারে তিনি গড়ে ২ হাজার টাকা করে আদায় করলে এই হিসাবে আমিরুল হুদার এযাবৎ প্রায় ৪৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং একই সাথে আমিরুল হুদা মাদ্রাসার এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসাবে গত ১৯ বছরে প্রায় ৫৭ লাখ, সর্ব মোট ১ কোটি ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয়ভাবে চাউর রয়েছে এক সাথে দুই চাকরি করেই আমিরুল হুদা কোটিপতি বনে গেছেন, করেছেন পাঁচ তলা দুটি বাড়িও। দুর্নীতির ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে, প্রশাসন ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের চোখে ধুলা দিয়ে কিভাবে আমিরুল হুদা এত বড় দুর্নীতি করল তা নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা।

...
Md. Mahadi Hasan(SJB:E076)
Mobile : 01717711557

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejominbarta@gmail.com , thana.sorejominbarta@gmail.com

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

সর্বশেষ সংবাদ