+

রাজনীতি ও সাংবাদিকতা একত্রে চলতে পারেনা

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ১২ দিন ২১ ঘন্টা ২৬ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 510
...

রাজনীতি ও সাংবাদিকতা একত্রে চলতে পারেনা

আমার জানা নেই আমার প্রিয় সংগঠন এই সিদ্ধান্তটি স্থায়ীভাবে নিবেন কিনা?এটা নীতি-নির্ধারকদের কাজ। কিন্তু তারা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। একজন দলীয় লোক কখনোই গণমাধ্যমকর্মী হিসেবে নিরপেক্ষ হতে পারেননা।সার্বজনীন হতে পারেননা। গ্রহণযোগ্য হতে পারেননা। এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। 
সুতরাং যারা দল করবেন। দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকবেন তারা সাংবাদিক হলে সেটি সাধারণ মানুষের চোখে বিদঘুটে ঠেকে।

আজকাল প্রায়ই সাংবাদিকতা করি বলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। যখনই দেখি কোনো সাংবাদিক কোনো রাজনৈতিক মিছিলে একটা নির্দিষ্ট দলে ঝাণ্ডা উঁচিয়ে ধর মার কাট জাতীয় স্লোগান দেয়।তখন সাথে থাকা বন্ধুরা আমাকে বক্রহাসি দিয়ে দেখায়-দেখ তোরা সাংবাদিক! 

সাংবাদিক হিসেবে আমার পথ চলা একেবারে নার্সারি পর্যায়ের। কিন্তু সাংবাদিকদের ফুটস্টেপ(footsteps) অনুসরণ করার অভিজ্ঞতা অল্প দিনের নয়। আমার বাবা রাজনীতি করতেন।তিনি প্রায় ত্রিশ বছর আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলেন।এছাড়াও তিনি দল করতেন।কিছু বছর আগে ঢাকা থেকে এক সাংবাদিক খুব সম্ভবত 'অপরাধ জগৎ' কিংবা 'অপরাধ তদন্ত ' থেকে উনার নির্বাচন পরবর্তী বয়ান নিতে গেলেন।এমন নয় যে আমার বাবা কথা বলতে জানতেননা। তিনি শিক্ষিত মানুষ এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মানুষ। তবুও তিনি বাসায় সাংবাদিক দেখে ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলেন।আমাকে ডেকে পাঠালেন। আমি এসে সাংবাদিকের সাথে কথা বললাম।
কী অমায়িক সেই সাংবাদিকের ব্যবহার! 
কী মাধুর্যপূর্ণ আচরণ ছিলো তার!
তিনি বাবাকে নির্ভয় দিয়ে বললেন-
কাকা আমি আপনার সাথে কথা বলতে এসেছি।আপনার এলাকার মানুষের জন্য;তাদের কল্যাণের জন্য আপনার পরিকল্পনা কি হবে সেটা জানতে এসেছি। মানুষ আপনাকে ভালোবাসে এর বিনিময়ে আপনি তাদের জন্য কি করতে চান সে বিষয়ে আপনার  সাক্ষাৎকার নিতে এসেছি। বাবা তার ত্রিশ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও প্রতিটি নির্বাচনে মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বিজয়ী হওয়ার গল্প অত্যন্ত গর্বের সাথে সাংবাদিক মহোদয়কে জানালেন।

এতো গেলো এক পেশাদার সাংবাদিকের কথা।
আজকাল সাংবাদিকদের প্রসঙ্গ আসলে অনেকেই যে বীতশ্রদ্ধ ও ট্যারা চোখে তাকায় তা সত্যিই লজ্জিত করে।সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখে থাকি প্রায়ই সাংবাদিকরা অমুক ভাইয়ের ;তমুক ভাইয়ের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা বা শাসক দলের হনু বা মনুর সাথে ফটোশেসন করে সেগুলো দিয়ে কভার দেন।

ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রায় সবকটা রাজনৈতিক দলের সাথেই বন্ধুত্ব রক্ষা করে চলি।আমার বন্ধু তালিকায় যেমন : আওয়ামীলীগ ;যুবলীগ ;ছাত্রলীগ আছে।তেমনি যুবদল;ছাত্রদল বা ডান-বাম অনেকেই আছেন।
অনেকের সাথেই ব্যক্তিগত পর্যায়ের আলাপ আলোচনাও আছে।আপনি বিশ্বাসও করতে পারবেননা হয়তো যে এরা ব্যক্তিগত জীবনে আলাপ আলোচনায় কতটা অমায়িক! কতটা আন্তরিক! 

তাহলে দুর্বিনীত কারা?
ওরা পেশাদার দলীয়ও নয়।এরাও আমাদের একশ্রেণির সাংবাদিকদের মতো।যারা গণমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চাটাচাটির কাজটা ভালোভাবে সম্পাদন করেন।তেমনি এমন এক শ্রেনীর রাজনৈতিক লোকও আছে যারা মুলত দলকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চাঁদাবাজি আর গুন্ডাবাজির সুবিধা ভোগ করতে দল করে থাকেন।মুলধারার সাংবাদিকেরা যেমন হলুদ সাংবাদিক খ্যাত চাটুকার দালাল সাংবাদিকদের পছন্দ করেননা;সম্মান করেননা।তেমনি মুলধারার রাজনীতি করেন এমন লোকেরা কখনোই চাঁদাবাজ ;গুন্ডাগীরির রাজনীতি পছন্দ করেননা।তারা চাটুকার সাংবাদিকদেরও পছন্দ করেননা। 

এখন হয়তো আপনি প্রশ্ন করবেন তাহলে এই হলুদ সাংবাদিকতা আর অসৎ রাজনীতির দৌরাত্ম্য এমন মহামারি আকারে বাড়লো কিভাবে? 

এর উত্তর একটাই দল বলেন আর সাংবাদিক সংগঠন বলেন নেতাদের দুর্বলতাকে পুঁজি করে। নেতারা অনেকেই সাহস করে পদক্ষেপ নিতে পারেননা।তারা অসৎ কর্মীদের নিজ দল থেকে ছেঁটে ফেলতে পারেননা তাদের লোকবল কমে যাবে;সমর্থন কমে যাবে;শক্তি কমে যাবে এই ভয়ে।তেমনি অনেক সাংগঠনই হলুদ সাংবাদিক বা দালাল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেননা তাদের সাংগঠনিক শক্তি কমে যাবে এই ভয়ে। 
সৎভাবে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অবশ্যই সৎ সাহসিকতার প্রয়োজন। যেটা অনেকেই পারেননা।
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম(বিএমএসএফ) সম্ভবত প্রথম সংগঠন যারা পেশাদার ও মূলধারার সাংবাদিকদের একই প্লাটফর্মে নিয়ে আসার জন্য কাজ করছেন।সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান করে থাকেন।

পাশাপাশি অসৎ দুর্নীতিবাজ ও হলুদ সাংবাদিকতার বিরোধীতা করেন।আজকে বিএমএসএফের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শ্রদ্ধেয় আহমেদ আবু জাফর ভাই মন্তব্য করেছেন রাজনীতি ও সাংবাদিকতা এক সাথে চলতে পারেনা।তিনি শতভাগ সত্য কথাই বলেছেন।নির্দিষ্ট কোনো দলের রাজনৈতিক কর্মী বা নেতা হয়ে নিশ্চয়ই কেউ নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা করতে পারবেননা। এটা কিছুতেই সম্ভব নয়। একজন গণমাধ্যমকর্মী নিশ্চয়ই নিরপেক্ষ হবেন।সকল গণমানুষের প্রতিনিধি হয়েই তিনি ভুমিকা রাখবেন।নাকি তিনি সাংবাদিক পরিচয়টিকে পুঁজি করে  কোনো একটা নির্দিষ্ট দলকে  প্রতিনিধিত্ব করবেন?তিনি  কি তার দলের বিপক্ষে গিয়ে সত্য তুলে ধরতে পারবেন?তিনি সাধারণ মানুষের পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসকে অর্জন করতে পারবেন?তাদের কল্যানার্থে ন্যায়কে ন্যায় আর অন্যায়কে অন্যায় বলতে পারবেন?

কখনোই পারবেননা। এমনিতেই সাংবাদিকদের নামের সাথে এখন দুশো টাকার সাংবাদিক ;পাঁচশো টাকার সাংবাদিক;পুলিশের সোর্স;থানার দালাল; দুর্নীতিবাজদের রক্ষাকর্তা এই জাতীয় তকমাগুলো লেগে গেছে।এভাবে চলতে থাকলে খুব বেশিদূর নয় সেদিন যেদিন লোকেরা সাংবাদিক দেখলেই ঘৃণাভরে মুখ ফিরিয়ে নেবে।

সুতরাং এখনই সময় যাচাই বাছাই করে কার্ড বিতরণের;এখনই সময় পেশাদার সাংবাদিকের তালিকা প্রণয়নের। সেটা অতিদ্রুত করা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান যেমন করে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার সঙ্কটে পড়েছে তেমনি রাষ্ট্রের এই চতুর্থ স্তম্ভটিও ভেঙে পড়বে।জনগণের আস্থা হারাবে।সঙ্কট উত্তরণে সাংবাদিকদের ঐক্যতার বিকল্প নেই।দুঃসাহসিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই।সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায়;সাংবাদিকদের পরিচয়কে ধরে রাখার লড়াইয়ে শামিল হওয়ার বিকল্প নেই।
বিএমএসএফের ১৪দফা বাস্তবায়নের বিকল্প নেই।

আমি ব্যক্তিগতভাবে বিএমএসএফের প্রস্তাবিত দফাগুলো পড়েছি।প্রতিটি সাংবাদিক তিনি যেকোনো সংগঠনেই থাকুন;তিনি শহুরে কিংবা মফস্বলের সাংবাদিকই হউন সকলেরই উচিৎ দফাগুলো অন্তত পড়ে দেখা।দফাগুলো জানা এবং উপলব্ধি করা।যদি এগুলো আপনার জন্য প্রস্তাবিত হয়ে থাকে তাহলে মুষ্ঠিবদ্ধ করে ঐক্যবদ্ধতার ঘোষণা দেয়া।

বিএমএসএফ শুধুমাত্র একটি সংগঠন নহে;এটি একটি মুভমেন্টের নাম।এ মুভমেন্টে বিজয়ী হতে হলে আপনাকে অবশ্যই লড়তে হবে।লড়াই করতে হবে। আপনাকে সত্যবাদী হতে হবে;সত্যের ঝান্ডাধারী হতে হবে;হতে হবে দুঃসাহসিকও।
রাজনীতিতে দুবৃত্তায়ন ঘটেছে কারন রাজনৈতিক নেতারা বিভ্রান্ত হয়েছে সহজে।অল্পকিছু দুর্নীতিবাজ ও অপ-রাজনীতির ধারক বাহকরা এমন একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি করেন ;রাজনৈতিক শুন্যতা সৃষ্টি করেন;জন বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি করেন যাতে নেতাদের মনে হয় এই দুর্নীতিবাজগুলো ছাড়া আর তাদের জন্য বিকল্প কেউ নেই।ক্ষমতার নেশায় বুঁদ এইসব নেতাদের কানে জনগণের ডাক পৌঁছেইনা।এমন যদি সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারাও বিভ্রান্ত হতে থাকেন তাহলে এখানেও জন বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হতে বেশিদিন লাগবেনা।

লেখক: কাজী ফয়েজ আহমেদ 
উপ-প্রচার সম্পাদক 
বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ), কেন্দ্রীয় কমিটি।

...
Sharmin Sultana Mitu(SJB: E019)
Mobile : 01713003162

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন
01868974512

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ