+

লামায় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিু চুক্তির বর্ষপূর্তি উদযাপন, সংবাদ সম্মেলন

সরেজমিনবার্তা | নিউজ টি ২০ দিন ১০ ঘন্টা ৪৫ সেকেন্ড আগে আপলোড হয়েছে। 655
...

    লামায় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৩ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে পিসিএনপি “সর্বক্ষেত্রেপার্বত্য এলাকার সকল নাগরিকের সাংবিধানিক সমাধিকার নিশ্চিত করতে হবে” এই স্লোগানে মঙ্গলবার দুপুরে (২রা ডিসেম্বর) সংবাদ সম্মেলন করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ লামা উপজেলা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্ত্য পাঠ করেন পিসিএনপি’র লামা উপজেলার সাধারণ সম্পাদক মো.কামরুজ্জামান।

সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের ৫,০৯০ বর্গমাইল এলাকা জুড়ে এক অভিন্ন, অখন্ড, অভিচ্ছিন্ন াপার্বত্য চট্টগ্রাম। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান। এই তিন জেলা নিয়ে বাংলাদেশের এক দশমাংশ এলাকা জুড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লীলাভূমি, সু-উচ্চ পাহাড়, চেঙ্গী-মাইনী-কাচালং-কর্ণফুলি-মাতামুহুরী-বাকখালী ও সাঙ্গু নদী বিধৌত উর্বর ভূমি। 
ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর ভারতীয় উপ-মহাদেশের একটি অংশ ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের সৃষ্টিহয়। ওই সময় এদেশেরই বাসিন্দা চাকমা সার্কেল চীফ ত্রিদিব রায় দেশের অখন্ডতা, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। 

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে চাকমা সার্কেল চীফ ত্রিদিব রায় আবারও তার দলবল নিয়ে রাজাকার বাহিনীতে যোগদান পূর্বক মুক্তিবাহিনী তথা দেশ মাতৃকার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এভাবেই সব সময়তাদের একটি কুচক্রী মহল যারা বিবেকহীন কুলাঙ্গার, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব-শান্তির বিপক্ষে ছিল। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার অল্প কিছু দিন পরে বিদেশী কুচক্রী মহলের সার্বিক  সহযোগিতায় কিছু সংখ্যক উপজাতীয় সদস্য, যারা বুঝে-নাবুঝে বিদেশী কুচক্রী মহলের ফাঁদে পা দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের অংশকে অস্থিতিশীল করার হীন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর ১৯৭২ সালের ২৯ জানুয়ারি চারু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে একটি পাহাড়ী প্রতিনিধি দল বিভিন্ন দাবী-দাওয়াসহ তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমানের সাথে সাক্ষাত করেন। মানবেন্দ্র লারমা তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য ১৯৭২ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের খসড়া সংবিধান প্রণেতাদের কাছে চারটি দাবী পেশ করেন। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবী ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের স্বায়ত্ব শাসন। তাদের এ ধরণের অন্যায্য রাষ্ট্রের অখন্ডতা, সার্বভৌমত্ব বিরোধী দাবী কোন ভাবেই গ্রহণ যোগ্য নয় বলে তৎকালীন সরকার কর্তৃক তাদের এ দাবী নাকোচ করেন। 

১৯৭৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী মানবেন্দ্র লারমার নেতৃত্বে জনসংহতি সমিতি গঠিত হয়। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে সমস্যা সমাধান না করে, দেশকে একটি অস্থিতিশীল ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার জন্য ১৯৭৩ সালে তথাকথিত জনসংহতি সমিতির সামরিক শাখা শান্তি বাহিনী গঠন করে। প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের হাতে মানবেন্দ্র লারমা নিহত হন। এর পর তার ছোট ভাই জ্যোতিরিন্দ্র বোধী প্রিয় লারমার (সন্তু লারমা) নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। বাংলাদেশ সরকার এবং জনসংহতি সমিতি ও তার সশস্ত্র অঙ্গ সংগঠন শান্তি বাহিনীর মধ্যে সংঘাতের সৃষ্টি হয়।

১৯৭৭ সালে সামরিক বাহিনীর সাথে শান্তি বাহিনী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৭ সালেপার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্ব পর্যন্ত সুদীর্ঘ ২০ বছর রক্তক্ষয়ী সংঘাত চলমান ছিল। এই সশস্ত্র গ্রুপের হাতে সামরিক, আধাসামরিক ও সাধারণ জনগণসহ হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহ থেকে বিভিন্ন সময়ে বিতাড়িত জনগোষ্ঠীর লোকজনের আদিম হিং¯্রতা ও অস্ত্রের জোরে বাংলাদেশের সন্তানদের নিজ মাতৃ ভূমির অংশ থেকে উৎখাতের অপচেষ্টা অব্যাহত রাখে। এছাড়াও চাঁদাবাজী, খুন, গুম ও ধর্ষণসহ সমাজ বিরোধী কর্মকান্ডে বাংলামায়ের এই অংশকে করে তুলেছে অস্থিতিশীল।

এই রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের অবসান কল্পে রাজ নৈতিকভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ক্ষমতার পালা বদলে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে; পার্বত্য সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালের জনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। একদিকে জনসংহতি সমিতির দাবী দাওয়া ও পাহাড়ী জনগণের ন্যায্য দাবীর প্রতি সরকারের ইতিবাচক মূল্যায়ন; অন্যদিকে সশস্ত্র সংগ্রামের পথ পরিহার করে রাজনৈতিক সমাধানে জন সংহতি সমিতির আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি স্থাপনের প্রেক্ষাপট তৈরী হয়। 

১৯৯৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর উভয় পক্ষ শান্তি স্থাপন ঐক্যমতে পৌঁছে। অবশেষে ১৯৯৭ সালের ০২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও সন্তু লারমা পার্বত্য জনগোষ্ঠীর পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে অস্থিতিশীল পরিবেশের অবসান ঘটে।

আমরা আশা করেছিলাম পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন হওয়ার পর অত্র এলাকার জনগণের আশা আকাঙ্খা বাস্তবায়িত হবে, সকল মানুষ মিলেমিশে সুখে-স্বাচ্ছন্দে বসবাস করবে। কিন্তু আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের ২৩ তম বছর পূর্ণ হয়েছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নের গতি অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রণী ভূমিকা পালন করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা ও বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু কিছু অমীমাংসিত বিষয়ের সুরাহা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। যেমনঃ ভূমি আইন সংক্রান্ত জটিলতা ও ভোটাধিকার প্রয়োগসহ ব্যবসায় বৈষম্য, শিক্ষায় বৈষম্য, চাকুরী ক্ষেত্রে বৈষম্য, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে বৈষম্য, নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব বৈষম্য, উন্নয়নে বৈষম্যসহ সাংবিধানিক অধিকারের ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক ধারা গুলোর পরিবর্তন করে সকল ক্ষেত্রে বৈষম্যহীন সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিশ্চয়তাসহ জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান গুলোতে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিনিধি করা। 

পার্বত্য চুক্তির এই বিষয় গুলি বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত সকল জাতি, গোষ্ঠীর সমঅধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায়। আরো উল্লেখ থাকে যে, এখানে ১৩ (তের) টিজাতি গোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। যারমধ্যে ৫৬% বাঙ্গালী এবং ৪৪% উপজাতী। এই পরি প্রেক্ষিতে সকল জাতির অধিকার ও হাজার বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত’র জন্য উপরোক্ত বিষয় সমূহ পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

আমরা পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট সবিনয় অনুরোধ করছি অনতি বিলম্বে এই বিতর্কিত ইস্যুগুলি পরিবর্তন করে সকল জাতি-গোষ্ঠীর জন্য উপকারী ও সহনীয় ধারা সমূহ ঠিক রেখে দেশের স্বার্থ বিরোধী ধারাগুলো পরিবর্তন করার জন্য জোর দাবী করছি। পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগনিক পরিষদরে লামা উপজেলার সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সার্জেন্ট (অব:) আ: আজিজ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বান্দরবান জেলঅ সহ-সভাপতি এমরুহুল আমিন, লামা পৌর কমিটির সভাপতি সোহরাব হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

...
MD. Kamruzzaman(SJB:E528)
Mobile : 01859679080

সম্পাদক ও প্রকাশক
মোহাম্মদ বেলাল হোছাইন ভূঁইয়া
01731 80 80 79
01798 62 56 66

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক
আল মামুন
01868974512

প্রধান কার্যালয় : লেভেল# ৮বি, ফরচুন শপিং মল, মৌচাক, মালিবাগ, ঢাকা - ১২১৯ | ই-মেইল: news.sorejomin@gmail.com , thana.sorejomin@gmail.com

...

©copyright 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা

Family LAB Hospital
সর্বশেষ সংবাদ