তরুণীকে হত্যার পর মাথা কেটে মগজ দিয়ে ভাত খেল খুনি

news-details
আন্তর্জাতিক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভাষা বুঝতে না পারায় এক তরুণীকে হত্যার পর তার মাথা কেটে মগজ বের করে ভাতের সঙ্গে খেয়ে ফেলেছে মদ্যপ এক যুবক। গত বৃহস্পতিবার নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে ফিলিপাইনের মিন্দানাও দ্বীপে। পুলিশ ওই মাতাল যুবককে আটকের পর তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে দাবি করেছে।

বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে মিন্দানাও দ্বীপে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন লিয়াডো ব্যাগটগ (২১) নামের ওই যুবক। মদ্যপান করে ভোরে রাস্তায় বের হয়েছিলেন; কিন্তু ঠিকভাবে হাঁটতেও পারছিলেন না তিনি।

লিয়াডো পুলিশের কাছে দেয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, তিনি মদ্যপান করেছিলেন এবং প্রচণ্ড ক্ষুধার্ত ছিলেন। ভোরবেলা ওই তরুণী পিছু নিয়ে ইংরেজিতে তার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু তরুণীর ভাষা তিনি বুঝতে পারছিলেন না। পুলিশের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ম্যারিবেথ রামোগা ট্রেইটস টাইমসকে বলেন, সম্ভবত ভাষা না বোঝার কারণে বিরক্ত হয়েছিল লিয়াডো।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, তারা হত্যাকাণ্ডের শিকার তরুণীকে লিয়াডোর সঙ্গে হেঁটে যেতে দেখেছেন। লিয়াডোর বাড়ি থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে ওই তরুণীর মরদেহ পায় পুলিশ। তাদের ধারণা, লিয়াডোই ওই তরুণীকে কোমড়ের বেল্ট দিয়ে বেঁধে বড় ছুরি দিয়ে কুপিয়ে শরীর থেকে মাথা আলাদা করেন। পরে কাপড়ে বেঁধে ওই তরুণীর মাথা বাসায় নিয়ে যান।

লিয়াডো পুলিশকে বলেছেন, বাসায় যাওয়ার পর তিনি কিছু ভাত রান্না করেন। ভাতের ওপর ওই তরুণীর মস্তিষ্ক রেখে সেটি খেয়ে ফেলেন। পরে বাড়ির পাশের একটি গর্তে তার খুলি ফেলে দেন। কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই তরুণীর মরদেহ অর্ধনগ্ন অবস্থায় পাওয়া যায়। তার শরীরে শুধুমাত্র জিন্স প্যান্ট ছিল। হাত শক্ত করে বাঁধা ছিল।

লিয়াডো দীর্ঘদিন ধরে বেকার ছিলেন। গ্রেফতারের পর পুলিশ তার মানসিক অবস্থা নির্ণয়ের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পুলিশ বলছে, ওই যুবকের বাসা থেকে মাথার খুলি ও রক্তাক্ত একটি কাপড় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের ধারণা, রক্তাক্ত কাপড় দিয়ে তরুণীর মাথাটি বাসায় নিয়ে আসা হয়ে থাকতে পারে। তবে নিহত তরুণীর পরিচয় এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত তরুণীর পরিচয় জানার জন্য স্থানীয়দের সহায়তা চেয়েছে পুলিশ।

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা