পাবনার চরে সাপ-বিষাক্ত পোকার উপদ্রব, আতংকে চাষাবাদ বন্ধ

news-details
বাংলাদেশ

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা সদর উপজেলার চরসদিরাজপুর গ্রামে সাপ ও বিষাক্ত পোকার আতংক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে বিষাক্ত  পোকার কামড়ে মারা গেছেন এক ব্যক্তি। আর সাপের ছোবলে গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে আরেক ব্যক্তি ভর্তি রয়েছেন হাসপাতালে। এতে চরের জমিতে যেতে ভয় পাচ্ছেন এলাকার কৃষকরা। ফলে বন্ধ রয়েছে চরাঞ্চলের অন্তত তিন হাজার বিঘা জমির চাষাবাদ। ঘটনা খতিয়ে দেখতে ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। সেইসাথে ওই চারাঞ্চল সরেজমিনে পরিদর্শণ করে স্থানীয়দের আতংকিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা।

সম্প্রতি পদ্মার পানি বৃদ্ধি ও দু’দফা বৃষ্টিতে বন্যা দেখা দেয় পাবনা সদর উপজেলার দোগাছি ইউনিয়নের চরসদিরাজপুর সহ চরাঞ্চলগুলোতে। ডুবে যায় চরাঞ্চলের নিচু এলাকার ফসলি জমি। এতে দেখা দেয় সাপ ও বিষাক্ত পোকার উপদ্রব। কিছু উঁচু জমি থাকায় সেখানে আশ্রয় নেয় সাপ ও পোকামাকড়। গত ১ নভেম্বর চরের জমিতে কাজ করার সময় একটি বিষাক্ত পোকা কামড় দেয় আফজাল কাজী নামের এক কৃষককে। প্রথমে তাকে পাবনা, পরে রাজশাহীতে এবং সর্বশেষ ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ১৩ নভেম্বর মৃত্যু হয় আফজাল কাজীর। এছাড়া কয়েকদিন আগে নজরুল ইসলাম নামের এক কৃষককে বিষধর সাপ দংশন করে। তিনি এখনও চিকিৎসাধীন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এতে করে চরের মানুষদের মাঝে সাপ ও পোকার আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তাই চরাঞ্চলের জমিতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না অনেকেই।

মৃত আফজাল কাজীর দুই ছেলে টুটুল কাজী ও শাহীন কাজী জানান, মৃত্যুর আগে তাদের পিতার বর্ণনা অনুযায়ী কাঁকড়া বিছার পোকা তাকে কামড়েছিল। হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় ইন্টারনেট থেকে ওই পোকার ছবি বাবাকে দেখানোর পর তিনি জানিয়েছিলেন ওই পোকার কথা। চিকিৎসকরা বলেছিলেন যে পোকা কামড়িয়েছে তা খুবই বিষাক্ত। তাই বাঁচানো যায়নি তাদের বাবাকে।
দোগাছি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হযরত আলী, স্থানীয় কৃষক আকবর আলী সরদার ও মুক্তার আলী সরদার জানান, এসব সাপ ও পোকার উপদ্রব এর আগে কখনও তারা দেখেননি। ভয়ে কেউ জমিতে যেতে পারছে না। শ্রমিক পাওয়াও কঠিন হয়ে গেছে। তাদের জমি আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুত এর অবসান চান তারা।

ঘটনা জানার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পাবনা সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদক কর্মকর্তা ডা. মো. মাহমুদুল ইসলামকে প্রধান করে ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করে সদর উপজেলা প্রশাসন। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ কমিটির সদস্যরা চরাঞ্চল পরিদর্শণ করেন।

কমিটির সদস্য জেলা কীটতত্ত্ববিদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বন্যার কারণে সাপ-পোকার উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়াটা স্বাভাবিক। কাঁকড়া বিছা চরাঞ্চলে দেখা যাওয়ার কথা নয়। তারপরও সাধারণ মানুষকে আতংকিত না হওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তারা। দিনের শুরুতে ও বিকেলের পর যেন কেউ মাঠে না থাকে। হাতে গ্লাভস সহ নিরাপত্তা সরঞ্জাম পড়ে যেন তারা কাজ করেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জয়নাল আবেদীন জানান, বিষাক্ত পোকার কামড়ে যিনি মারা গেছেন তার পরিবারকে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও অসুস্থ্য ব্যক্তির পরিবারকে ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে। আরো যেসব সহায়তা প্রয়োজন হবে সেগুলো তাদের দেয়া হবে। কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হলে প্রশাসন তাদের পাশে থাকবে।
 

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরজমিনবার্তা