কেউ বিপথে গেলে ছাড় দেবো না: প্রধানমন্ত্রী

news-details
জাতীয়

শনিবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বেলা ১১টা ৫ মিনিটের দিকে সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হন। এরপর যুবলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় জাতীয় সংগীত বাজতে থাকে। এরপর শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে কংগ্রেসের শুভ উদ্বোধন করেন।

এরপর মঞ্চে আওয়ামী লীগ সভাপতিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতাউর রহমান আতা ও প্রকৌশলী নিখিল রঞ্জন গুহ। প্রধান অতিথির হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন যুবলীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম ও সদস্য সচিব হারুন-অর-রশিদ। এরপর শেখ হাসিনাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন সংগঠনের দুই নারী নেত্রী। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীকে যুবলীগের কংগ্রেস উপলক্ষ্যে বিভিন্ন প্রকাশনা হস্তান্তর করা হয়।


 
বিজ্ঞাপন
সাংস্কৃতিক পর্বে বিভিন্ন পরিবেশনা করেন সংগঠনের নেতারাসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কলাকুশলীরা। পরবর্তীতে ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠের মধ্য দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়। শোক প্রস্তাব পাঠ করেন প্রেসিডিয়াম সদস্য বেলাল হোসাইন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও অভ্যর্থনা উপ কমিটির আহ্বায়ক মজিবুর রহমান চৌধুরী। সাংগঠনিক রিপোর্ট উপস্থাপন করেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক হারুন-অর রশিদ।

যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক চয়ন ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন  ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এছাড়াও প্রধান অতিথির সারিতে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ উপস্থিত থাকলেও তিনি বক্তব্য দেননি। পেছনের সারিতে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নতি হয়। আমাদের সমস্ত কর্মসূচিতে আছে একেবারে গ্রামের তৃণমূল মানুষেরা। তাদের আর্থসামজিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই আমরা তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। কাজেই সেই ভাবেই আমরা এই দেশকে গড়ে তুলতে চাই। আর সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

‘কাজেই সেখানে চলার পথে কেউ যদি বিপথে যায় এবং সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, দুর্নীতি এর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে, সে যেই হোক আমি তাদের ছাড়ব না।’ যোগ করেন শেখ হাসিা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের প্রতি কোনো সহানুভূতি আমার থাকবে না। কারণ দিনরাত পরিশ্রম করি দেশের মানুষের জন্য। আর জাতির পিতা শুধু স্বাধীন করে দিয়ে যাননি। আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য তিনি তার বুকের রক্ত দিয়ে গেছেন। এই কথাটা আমাদের মনে রাখতে হবে। কাজেই এই দেশ ব্যর্থ হতে পারে না।

আগামী বছরে মুজিববর্ষ উদযাপন করার কথা তুলে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা আরও সামনে যেতে চাই। ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। আমরা উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে মর্যাদা পেয়েছি। এই মর্যাদা ধরে রেখেই আমরা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ গড়ব।

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন। ২০৭১ সালে স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করবে আগামী দিনের প্রজন্মরা। আজকের শিশু আগামী দিনের প্রজন্ম তারা উদযাপন করবে, একটা উন্নত সমৃদ্ধ দেশের গর্বিত জাতি হিসাবে শতবর্ষ উদযাপন করবে। শত বছরের পরিকল্পনা নিয়ে সেখানেই থেমে থাকিনি।  বাংলাদেশ ‘বদ্বীপ অঞ্চল’। এই দেশের মানুষের জীবন যাতে সবসময় সুখী সমৃদ্ধশালী হয়, বাংলাদেশ যেন সোনার বাংলা হিসাবে চিরস্থায়ী হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। যাতে করে এই বাংলাদেশ এ দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর কেউ ভবিষ্যতে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।

বঙ্গবন্ধু কন্যা যুবলীগের কংগ্রেসের সফলতা কামনা করে বলেন, আদর্শ নিয়ে চলতে হবে। আদর্শের মধ্য দিয়েই একটি সংগঠন যেমন গড়ে ওঠে তেমনি দেশকেও কিছু দেওয়া যায়। সেই কথাটাই সবসময় মাথায় রাখতে হবে।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিকেল তিনটায় শুরু হওয়া দ্বিতীয় অধিবেশনে ৭ম জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে।

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরজমিনবার্তা