এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ইইউর মার্কিন রাষ্ট্রদূত

news-details
আন্তর্জাতিক

সন্ডল্যান্ড জানান, আগামী বছর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট দল থেকে ট্রাম্পের সম্ভাব্য প্রধান প্রতিযোগী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিরুদ্ধে তার কাছে এমন নির্দেশনা এসেছিল ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি গিলিয়ানির পক্ষ থেকে। অভিশংসনের শুনানিতে তিনি জানান, তিনি শুধু প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুসরণ করেছেন।

অভিযোগ আছে, জো বাইডেন ও তার ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করতে ইউক্রেনকে চাপ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এ জন্য হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন ইউক্রেনকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা। তিনি ওই সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন, যাতে ইউক্রেন বাইডেনের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে বাধ্য হয়। এর মাধ্যমে ট্রাম্প তার শপথ ভঙ্গ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। নির্বাচনে সুবিধা পাওয়ার জন্য বৈদেশিক সহায়তাকে ব্যবহার করা যুক্তরাষ্ট্রে অন্যায়। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো অন্যায় করেন নি বলে জোর দিয়ে দাবি করেছেন। তবে তিনি আসলেই এসব করেছেন কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে। যদি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তাকে অভিশংসন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত গর্ডন সন্ডল্যান্ড শুনানিতে বলেছেন, জো বাইডেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একটি তদন্তের বিষয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির কাছ থেকে নিশ্চয়তা চাইছিলেন ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী রুডি গিলিয়ানি। জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন বুরিসমা নামের কোম্পানির পরিচালনা পরিষদের একজন সদস্য। রুডি গিলিয়ানি এই কোম্পানির কথা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছিলেন এবং তুলে ধরেছিলেন ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ইস্যু। যদি প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে ট্রাম্পকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে উচ্চকক্ষ বা সিনেটে অভিশংসনের বিচার হতে পারে। কিন্তু এই সিনেট হলো ট্রাম্পের রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত। সেখানে তাকে অভিশংসিত করে ক্ষমতাচ্যুত করতে দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের ভোট প্রয়োজন।

শুনানিতে গর্ডন সন্ডল্যান্ড তার শুরুর বক্তব্যে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনা মতো রুডি গিলিয়ানির সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। গর্ডন সন্ডল্যান্ড বলেছেন, তিনি যেহেতু ইউরোপীয় ইউনিয়নে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত তাই অন্য দেশগুলোর পাশাপাশি তিনি ইউক্রেনের সঙ্গেও কাজ করেছেন, যদিও এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়। তিনি বলেছেন, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, যদি আমি রুডি গিলিয়ানির সঙ্গে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানাই তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে সম্পর্ককে বজ্রকঠিন করার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হারাবো আমরা। তাই আমরা প্রেসিডেন্টের নির্দেশনা অনুসরণ করেছি। গর্ডন সন্ডল্যান্ড আরো নিশ্চিত করে বলেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউজে সফরের বিনিময়ে ওই দুর্নীতির একটি তদন্ত দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। এর অর্থ হলো একটি সুবিধা দেয়ার বিনিময়ে আরেকটি সুবিধা পাওয়া।

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরজমিনবার্তা