জামালপুরে লবণ সংকট গুজবের অভিযোগে আটক ৫

news-details
বাংলাদেশ

ফারুক মিয়া, জামালপুর 
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে লবণ সংকট গুজব রটনার অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শিহাব উদ্দিন আহমেদ এর নির্দেশে ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে পৌরসভার আরামনগর বড় বাজার এলাকার বাধন  স্টোরের সামনে থেকে তাদেরকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে লবণের কৃত্রিম সংকটের অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক দেখা দেয়। দ্রুত অপপ্রচার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন গুজবে কান না দেয়ার অনুরোধ জানিয়ে মাইকিংসহ বিভিন্ন প্রচারণা শুরু করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শিহাব উদ্দিন আহমেদ ও সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ লবণ সংকট গুজব বিষয়ে বাজারের ব্যবসায়ী ও বণিক সমিতির নেতাদের অনুরোধ করেন।
বিকেলে পৌরসভার আরামনগর বাজারের বাধন স্টোরের সামনে শামীম উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি ইউটিউবে লাইভ দিয়ে লবণ সংকট প্রচারণা চালাচ্ছিল। অপর চার জন ক্যামারায় তা ভিডিও ধারণ করছিল।

এ সময় তারা বাজারে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে গেলে গুজব রটনাকারীদেকে পাকড়াও করেন। পরে তাদেরকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শিহাব উদ্দিন আহমেদ পুলিশকে আটক করার র্নিদেশ প্রদান করেন।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সরিষাবাড়ী উপজেলা সাতপোয়া গ্রামের করিম শেখের ছেলে শামীম উদ্দিন (২১), পোগলদিঘা ইউনিয়নের সাইঞ্চের পাড় গ্রামের মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে আকাশ (১৮), সাইঞ্চের পাড় গ্রামের মৃত আঃ হাই এর ছেলে রাফি মিয়া (১৬), ডোয়াইল ইউনিয়নের চর বালিয়া গ্রামের হাসমত আলীর ছেলে সাগর (১৭), মহাদান ইউনিয়নের মনির উদ্দিনের ছেলে শিফাত মিয়া (১৬) কে আটক করে থানা নিয়ে আসে পুলিশ। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জন সাধারণকে গুজবে কান না দেয়‍ার জন্য মাইকিং করে প্রচারণা চালাচ্ছে।
লবণ সংকটের আশঙ্কায় উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারের মুদি দোকানগুলোতে লবণ ক্রয়ে ভীড় করে। বিশেষ করে গরু খামারীরা ছিল বেশি আতঙ্কিত। খোলা লবণ প্রতি বস্তা ৫৫০ থেকে ১হাজার টাকা এবং প্যাকেট জাত লবণ প্রতি কেজি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দরে বিক্রি করা হচ্ছিল বলে ক্রেতারা জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব উদ্দিন আহমেদ জানান, এক শ্রেণির অসাধ‍ু ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য বাজারে লবণের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দেশে লবণের কোন ঘাটতি নেই। কাজেই ব্যবসায়ীদের লবণ সংকট কারসাজিতে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।
বকশীগঞ্জের উপজেলায় জব্বারগঞ্জ বাজারে মমিনুলের মুদির দোকানে লবণের মূল্যে অতিরিক্ত নেওয়ার ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর ৪০ ধারায় তাকে ২হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রম্যমাণ আদালত।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্র্যট ও সহকারী কমিশনার (ভুমি)  সাঈদা পারভীন।

দেওয়ানগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা রাজিয়া ও দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এম এম ময়নুল ইসলাম লবণের দর বেশি নেওয়ার কথা শুনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলার প্রতিটি বাজারে এবং হ্যান্ডমাইক দিয়ে জানিয়ে দেন গুঁজবে কান দিবেন না লবণের দাম বাড়েনি দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে লবণ মজুত আছে, তবে বেশিদামে বিক্রি হাতেনাতে ধরতে না পারায় কাউকে জরিমানা করা হয়নি।

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরজমিনবার্তা