গাজীপুরে যানবাহন স্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি

news-details
বাংলাদেশ

মো. মেহেদী হাসান, গাজীপুর : 
গাজীপুর নগরীর সদর থানাধীন তিনটি পয়েন্টে চলিত থ্রি-হুইলার(সিএনজি) ও ইজি বাইক(অটো রিকশা) থেকে হরহামেশাই চাঁদাবাজি চালাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। 


সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের সম্মুখে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের মূল ফটকের সামনে তৈরি হয়েছে ট্যাম্পু ও অটো রিকশার বিশাল স্ট্যান্ড। জয়দেবপুর স্টেশন ব্যবহারকারী ট্রেনের হাজারো যাত্রীদের একটি বড় অংশ এই স্ট্যান্ডের প্রায় তিনশ অটো রিকশা ও ট্যাম্পু ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। দিনের প্রায় সব সময়ই এখানে প্রায় একশরও উপরে রিকশা সড়কে জট বাঁধিয়ে রাখে, কে কার আগে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে যাবে চলে তার প্রতিযোগীতা।

আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সিন্ডিকেট রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রতিদিন প্রতি রিকশা চালকদের কাছ থেকে জিপির নামে ৫০ টাকা চাঁদা আদায় করে নেয়, যা মাসে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, নগর ভবনের সামনে এই অটো রিকশা স্ট্যান্ডে জিপি(চাঁদা) আদায় করেন স্থানীয় যুবলীগ নেতা আলগীর হোসেন, শিপন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ রানা এরশাদের নাম ব্যবহার করে হায়দ্রাবাদের সুরুজ মিয়ার ছেলে আলম ও ভারারুল  চৌরাস্তা এলাকার সুজন আহম্মেদ।

সুজনের ছবিতে ঐ স্ট্যান্ড এলাকার বিভিন্ন বৈদ্যুতিক খুটিতে যুবলীগ নেতা আলগীর, শিপন ও স্থানীয় সাংসদের ছবিসহ বিলবোর্ড ঝুলতে দেখা যায়। জিপির টাকা কাকে কাকে দেয়া হয় এমন প্রশ্নের জবাবে সুজন বলেন, এটার মূল হল ওয়ার্ড যুবলগের শিপন ভাই, তবে মহানগর যুবলগের আলমগীর ভাইকেও প্রতিদিন টাকা দেই।


নগর ভবনের সামনের রিকশা স্ট্যান্ড থেকে একশ মিটার উত্তরে ফল বাজার (কলাপট্টি) সংলগ্ন ভূরুলিয়া সড়কের উপরে কলাপট্টি স্ট্যান্ড, যা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানা কার্যালয়ের দুইশ মিটার সম্মুখে। সড়ক দখল করেই গরে উঠেছে অটো রিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড। এখানেও চলে জিপির নামে চাঁদাবাজি। এই স্ট্যান্ড থেকে চলমান প্রায় একশ অটো রিকশা থেকে পঞ্চাশ টাকা ও একশ সিএনজি থেকে নব্বই টাকা করে জিপি আদায় করেন স্থানীয় নেতা পরিচয়দানকারী মাসুম।


কলাপট্টি স্ট্যান্ড থেকে রাজবাড়ি সড়ক অনুসরণ করে প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার পূর্বে এগোলেই জোর পুকুরপার স্ট্যান্ড, সেখানেও প্রতিনিয়ত চলাচল করে প্রায় দুই থেকে তিনশ অটো রিকশা। সেই রিকশার চালকরাও জিপি নামে চাঁদার খপ্পর থেকে বাঁচতে পারেনি একটুও। রথখোলা এলাকার কথিত নেতা রকিবের পক্ষে জাড় পুকুরপার স্ট্যান্ড থেকে জিপি নামে চাঁদা আদায় করেন জুয়েল। রকিবের কাছে চাঁদার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত জানার জন্য গাজীপুর নগরীর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এরশাদের কাছে জানতে বলেন।


গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে নগরীর আলিক ও জাতীয় মহাসড়কে অবৈধ ইজি বাইক, অটো রিকশা, থ্রি-হুইলার নিষেধ অভিযান চালালে এই অবৈধ যানবাহনগুলি সংযোগ সড়কগুলিতে ভিড় জমিয়ে চলছে, আর এই সুযোগে অসাধু মুখোশধারীরা রাজনৈতীক পরিচয় ব্যবহার করে চালাচ্ছে চাঁদাবাজি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দৃশ্যমান হলেও গাজীপুরে তা বিরল। 


গাজীপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্র জয়দেবপুরের মত জায়গায় পুলিশের এত কাছে বসেই সিএনজি, অটো রিকশা, থ্রি-হুইলার থেকে জিপির নামে চাঁদা আদায়ের ব্যাপারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (ক্রাইম নর্থ) আবু লাইস মোহাম্মাদ ইলিয়াস জিকু বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সদর থানাধীন কালীমন্দিরের সামনে ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সিএনজি, অটো রিকশা থেকে চাঁদা আদায় বন্ধ করেছি। তিনি আরও বলেন, নগর ভবনের সামনে, কলাপট্টি স্ট্যান্ডের ও জোরপুকুরপার স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজি বন্ধে আমি দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

 

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরজমিনবার্তা