কেরাণীগঞ্জের সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ সিদ্দিকের দৌরাত্ম্য থামবে কি ?

news-details
অপরাধ

নিজস্ব প্রতিবেদক: এক সময়ের গরুর দালাল এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, সরকারী খাঁসজমি অবৈধভাবে দখল করে প্রশাসনের নাকের ডগায় তিনি গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।তিনি হচ্ছেন ঢাকা কেরাণীগঞ্জের বড় মনোহরিয়া এলাকার মৃত বোরহান উদ্দিনের ছেলে তিন সন্তানের জনক আবু সিদ্দিক ওরফে গালকাঁটা সিদ্দিক। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড ছাড়াও এলাকায় দেশী-বিদেশী মদ ও মিনি ক্যাসিনো জুয়ার আসর বসিয়ে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে যুব সমাজকে।

নিজের বড় ছেলে সাব্বির আহমেদ নাসিমকে জড়িয়েছেন সকল অপকর্মের সঙ্গে। বাবা-ছেলের সন্ত্রাসী বাহিনী মিলে কেরাণীগঞ্জের বড় মনোহরিয়া আটি বাজার এলাকায় মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজী, অবৈধ জমি দখল, মিনি ক্যাসিনো বসিয়ে জুয়ার আসর সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অত্যাচারে অনেকে সর্বশান্ত হলেও ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি কেউ। ভুক্তভোগীদের দাবি, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে সিদ্দিক ও তার ছেলের সন্ত্রাসী বাহিনী। 

অবৈধ অর্থের জোরে ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের একটি পদ লাভ করেছিলেন সিদ্দিক। এই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আটি বাজার সিএনজি ষ্ট্যান্ড, গরুর হাট সহ বাজারের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে অবৈধভাবে সরকারী খাস জমির উপর গড়ে তুলেছেন বিলাশবহুল বাড়ি। এছাড়া গাল কাঁটা সিদ্দিক নিজের শ্বশুরের সম্পত্তি অবৈধভাবে জবরদখল করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। অবৈধভাবে দখলকৃত শ্বশুরের জমিতে একটি বাড়ি করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই বাড়িতে প্রতি রাতেই চলে জুয়া, মদের আসর সহ নানা অপকর্ম। এত অপকর্র্মের পরেও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি কেউ। প্রতিবাদ করলেই ঘরবাড়ী ভাংচুর, মারধর ও প্রশাসন দিয়ে মিথ্যা মামলা করে হেনস্থা করত। আপন চাচা মরহুম হাজী লায়েক আলীর বাড়িতে ডাকাতি করে ভয়ে আত্মীয়রা তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। 

বড় মনোহরিয়া এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরের জায়গা অবৈধভাবে দখল করার জন্য দূর্গা মন্দিরে রাতের অন্ধকারে তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে প্রতিমা ভাংচুর করে এবং অনেক হিন্দুকে পিটিয়ে আহত করে (তৎকালীন জাতীয় পত্রিকায় খবরটি বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রচার করা হয়)। এক পর্যায়ে তার এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের জন্য আওয়ামীলীগ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও গালকাঁটা সিদ্দিকের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও মাদক ব্যবসা থেমে নেই। এখনও রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে সকল ধরনের অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। তার এসকল অপকর্ম ও অনৈতিক কার্যকলাপে আওয়ামীলীগের ভাবমূর্র্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। 

গাল কাঁটা সিদ্দিক এলাকায় বিভিন্ন স্পটে তার বড় ছেলেকে দিয়ে ইয়াবা ও মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। এভাবে যুব সমাজকে মাদকসেবী  বানিয়ে ও ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে যুব সমাজকে বিপদগামী করে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। গাল কাঁটা সিদ্দিক প্রতিদিন অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, সিদ্দিক বাহিনীর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ থাকলেও প্রশাসনের ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে তারা। একের পর এক অপকর্ম চালালেও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা প্রশাসন। তার সকল অপকর্ম জিম্মিদশা থেকে এলাকার ভূক্তভোগী সাধারন মানুষ মুক্তি পাবে কবে তা জানতে চায় এলাকার সাধারন মানুষ।

এতদিন সিদ্দিকের ভয়ে কেউ মুখ না খুললেও সম্প্রতি সরেজমিন বার্তায় তার অপকর্ম নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগীরা।  
ভুক্তভোগী শাহাবুদ্দিন বলেন,  সিদ্দিক আমার কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা চায়। চাঁদা না দেওয়ায় আমার কলেজ পড়ুয়া ছেলেকে আমার দোকান থেকে বের করে এলোপাতারি কুপিয়েছে। এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করেও কোন প্রতিকার পায়নি। উল্টো সিদ্দিক ও তার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনী মামলা তুলে নিতে আমাকে নানারকম হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আমি থানায় জিডিও করেছি। শুধু আমি বা আমার পরিবার নয়, এলাকার অনেকেই সিদ্দিক বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ।

আরেক ভুক্তভোগী বড় মনোহরিয়ার দুলাল মেম্বার বলেন, সিদ্দিক আমার মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে, আমার বাড়ি ভাংচুর করেছে এবং আমাকে মেরে ফেলারও হুমকি দিয়েছে। এ বিষয়ে মামলা করতে গেলে প্রাথমিক ভাবে থানায় আমার মামলা নেয়নি। পরে আদালত মামলার নেয়ার আদেশ দিলে থানা  মামলা গ্রহন করে।   
 

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরজমিনবার্তা