গাজীপুরে নগর ভবন ও থানার সামনেই স্ট্যান্ড থেকে দুর্বৃত্তদের চাঁদাবাজি

news-details
অপরাধ

বিশেষ প্রতিনিধি: গাজীপুর সদর থানাধীন তিনটি পয়েন্টে চলিত থ্রি-হুইলার(সিএনজি) ও ইজি বাইক(অটো রিকশা) থেকে হরহামেশাই চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের সামনে জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের মূল ফটকে তৈরি করা হয়েছে ট্যাম্পু ও অটো রিকশার বিশাল স্ট্যান্ড। জয়দেবপুর স্টেশন ব্যবহারকারী ট্রেনের হাজারো যাত্রীদের একটি বড় অংশ এই স্ট্যান্ডের প্রায় তিনশ অটো রিকশা ও ট্যাম্পু ব্যবহার করে যাতায়াত করেন। দিনের বেশির ভাগ সময়ই এখানে প্রায় একশরও উপরে রিকশা সড়কে জট বাঁধিয়ে রাখে, কে কার আগে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে যাবে চলে তার প্রতিযোগীতা। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সিন্ডিকেট রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রতিদিন রিকশা চালকদের কাছ থেকে জিপির নামে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করে নিচ্ছে, যা মাসে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, স্থানীয় যুবলীগ নেতা আলগীর হোসেন, শিপন ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাসুদ রানা এরশাদের নাম ব্যবহার করে নগর ভবনের সামনে এই অটো রিকশা স্ট্যান্ডে জিপির নামে চাঁদা আদায় করেন হায়দ্রাবাদ গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে আলম ও ভারারুল  চৌরাস্তা এলাকার সুজন আহম্মেদ। তবে এলাকায় দলের বিভিন্ন পোষ্টার, বিলবোর্ডে সুজনকে যুবলীগ নেতা আলগীর, শিপন ও স্থানীয় সাংসদের ছবিসহ ঝুলতে দেখা যায়। এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে  সুজন বলেন, এটার মূল হোতা হল ওয়ার্ড যুবলগের শিপন ভাই, তবে মহানগর যুবলগের আলমগীর ভাইও এই টাকার ভাগ পায়।

নগর ভবনের সামনের রিকশা স্ট্যান্ড থেকে একশ মিটার উত্তরে ফলবাজার(কলাপট্টি) সংলগ্ন ভূরুলিয়া সড়কের উপরে কলাপট্টি স্ট্যান্ড, যা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানা কার্যালয়ের দুইশ মিটার সম্মুখে। এখানে সড়ক দখল করেই গড়ে উঠেছে অটো রিকশা ও সিএনজি স্ট্যান্ড। এখানেও চলে জিপির নামে চাঁদাবাজি। এই স্ট্যান্ড থেকে চলমান প্রায় একশ অটো রিকশা থেকে পঞ্চাশ টাকা ও একশ সিএনজি থেকে নব্বই টাকা করে জিপি আদায় করেন স্থানীয় নেতা পরিচয়দানকারী মাসুম।

কলাপট্টি স্ট্যান্ড থেকে রাজবাড়ি সড়ক অনুসরন করে প্রায় পৌণে এক কিলোমিটার পূর্বে এগোলেই জোরপুকুরপার স্ট্যান্ড, সেখানেও প্রতিনিয়ত চলাচল করে প্রায় দুই থেকে তিনশ অটো রিকশা। সেই রিকশার চালকরাও জিপি নামের চাঁদার খপ্পর থেকে বাঁচতে পারেনি। রথখোলা এলাকার কথিত নেতা রকিবের পক্ষে জাড়পুকুরপার স্ট্যান্ড থেকে জিপি নামে চাঁদা আদায় করেন জুয়েল। রকিবের কাছে চাঁদার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি গাজীপুরের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এরশাদকে দেখিয়ে দেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে নগরীর আঞ্চলিক ও জাতীয় মহাসড়কে অবৈধ ইজি বাইক, অটো রিকশা, থ্রি-হুইলার নিষেধ অভিযান চালালে এই অবৈধ যানবাহনগুলি সংযোগ সড়কগুলিতে ভিড় জমিয়ে চলছে, আর এই সুযোগে অসাধু মুখোশধারীরা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দৃশ্যমান হলেও গাজীপুরে তা বিরল। 

গাজীপুর নগরীর প্রাণকেন্দ্র জয়দেবপুরের মত জায়গায় প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই জিপির নামে এরকম হরহমেশাই চাঁদা আদায় করে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।  এ ব্যাপারে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (ক্রাইম নর্থ) আবুলাইচ মোহাম্মাদ ইলিয়াচ জিকু বলেন, আমরা ইতোমধ্যে সদর থানাধীন কালীমন্দিরের সামনে ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সিএনজি, অটো রিকশা থেকে চাঁদা আদায় বন্ধ করেছি। তিনি আরও বলেন, নগর ভবনের সামনে, কলাপট্টি স্ট্যান্ডের ও জোরপুকুরপার স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজি বন্ধে আমি দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।
 

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরজমিনবার্তা