টাকা ছাড়া মিলছেনা কাঙ্খিত সেবা

news-details
বাংলাদেশ

শামীম আহমেদ,বরিশাল 

ঘুর্ণিঝড় বুলবুল এরপর এখনও বিদ্যুৎ সংযোগ পায়নি বরিশালের পাঁচ উপজেলার প্রায় চল্লিশ হাজার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক। ফলে চরম দুর্ভোগে স্থানীরা। কর্তৃপক্ষ বলছে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে বাড়তি লোক নিয়োগ করা হয়েছে। গ্রাহকরা অভিযোগ করেন টাকা ছাড়া বিদ্যুত অফিসের কর্মচারীরা ঝড়ে বিধ্বস্থ লাইন মেরামত করছেন না। তাদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দেয়ার পর লাইন মেরামতের কাজ করা হয়।


তবে বিদ্যুত অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গ্রাহকের অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার মাইকিং করে কাউকে টাকা না দেয়ার জন্য গ্রাহকদের অনুরোধ জানিয়েছেন। সূত্রমতে, বরিশালের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘুর্ণিঝড় বুলবুলের তান্ডবে গাছপালা উপরে পরে পল্লী বিদ্যুতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেঙে পরেছে অসংখ্য খুঁটি, ছিড়ে গেছে তার। ফলে বিদ্যুৎ সেবা থেকে এখনও বঞ্চিত বরিশালের পাঁচ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহক।


গ্রাহকরা বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে গত নয়দিন ধরে বিদ্যুত সংযোগ না থাকায় আমরা খুব বিপদে আছি। তার ছিঁড়ে গেছে, খুঁটি পরে গেছে। শিক্ষার্থীরা বলেন, সামনে আমাদের পরীক্ষা। আমরা পড়াশোনা করতে পারছি না। বিদ্যুত অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে সংযোগ স্বাভাবিক হতে এতো দেরি বলে মনে করছে সচেতন নাগরিকেরা।


সচেতন নাগরিক সমাজের জেলার যুগ্ম সম্পাদক এনায়েত হোসেন চৌধুরী বলেন, সরকার যেখানে বারবার বিদ্যুৎ দেয়ার কথা বলছে, সেখানে পল্লীবিদ্যুতের এই গাফিলতি মেনে নেয়া যাচ্ছেনা।পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী মোঃ একরামুল হক বলেন, ঝড়ে আমাদরে প্রায় ৫০০ খুঁটি ভেঙে গেছে এবং ১০০০ কিলোমিটার তার ছিঁড়ে গেছে। ঝড়ের পর থেকে ৮০০ কর্মী মাঠে কাজ করছে। যতো দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য কাজ করা হচ্ছে।

গৌরনদী পৌর এলাকার গেরাকুল বেগম আখতারুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মুজিবুর রহমান তালুকদার বলেন, ঝড়ে তার বিদ্যালয়ের বিদ্যুতের সংযোগ তার ছিড়ে পরার পর একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও গতকাল সোমবার বিকেল পর্যন্ত কোন লোক এসে লাইনটি সচল করেননি। ফলে বিদ্যুতের অভাবে অনলাইনের মাধ্যমে চলমান এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে তাদের বিলম্ব হচ্ছে। পৌরসভার পূর্ব কাসেমাবাদ মহল্লার বাসিন্দা মাদ্রাসা শিক্ষক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ঝড়ে তাদের বাড়ির পাশে বিদ্যুতের একটি খুঁটি উপরে পরেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করার পর গত কয়েকদিন থেকে তারা নানা তালবাহানা করে আসছে।

ফলে গতকাল সোমবার পর্যন্ত তাদের এলাকার শতাধিক পরিবার বিদ্যুতবিহীন অবস্থায় রয়েছে। বিল্বগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী মশিউর রহমান ঝন্টু তার ফেসবুক পেইজে একটি পোস্টে লিখেছেন বিদ্যুত অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবিকৃত পাঁচ হাজার টাকা না দেয়ায় এখনও তাদের এলাকায় বিদ্যুত পৌঁছেনি। বোরাদী গরঙ্গল গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ঝড়ের পর অদ্যবধি বিদ্যুত অফিসের লোকজন তাদের এলাকায় একটি বারের জন্যও যায়নি। ফলে গত নয়দিন থেকে তাদের এলাকায় বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝড়ের পর যেসব উপজেলায় বিদ্যুত সংযোগ দেয়া হয়েছে তার প্রতিটি এলাকা থেকেই বিদ্যুত অফিসের কর্মকর্তাদের তাদের চাহিদা মতো টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে।


এদিকে গতকাল সোমবার দিনভর পল্লী বিদ্যুতের গৌরনদী জোনাল অফিসের পক্ষ থেকে মাইকিং করে কাউকে টাকা না দেয়ার জন্য গ্রাহকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সূত্রমতে, বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ-২ এর গ্রাহক আড়াই লাখ। সংযোগ চালু আছে ২ লাখ ১০ হাজার গ্রাহকের। আর পল্লী বিদ্যুৎ-১ এর গ্রাহক ২ লাখ ১৮ হাজার। ৯৯ ভাগ গ্রাহকের বিদ্যুৎ ইতোমধ্যে চালু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরজমিনবার্তা