নরসিংদীতে সাবেক দুই মিল মালিকের দ্বন্দ্বের শিকার হয়ে ভাড়াটে মালিক জেলহাজতে

news-details
বাংলাদেশ

নরসিংদী প্রতিনিধি: নরসিংদীতে মোল্লা স্পিনিং মিল নামে বহুল আলোচিত একটি সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকানা নিয়ে সাবেক ও বর্তমান মালিকের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে।  দুই মিল মালিকের ব্যক্তিগত মালিকানার আইনী দ্বন্দ্বের শিকার হয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে ভাড়াটে মিল মালিক প্রবাসী আতাউর রহমান। আর এই সুযোগ নিয়ে সাবেক মালিক আব্দুল মতিন মোল্লা মিল দখলের পাঁয়তারা করছে। এই অবস্থায় মিলের কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও শত শত শ্রমিক কর্মচারীর নিরাপত্তা চেয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন জানিয়েছে ভাড়াটে মালিক আতাউর রহমানের বড় ভাই মতিউর রহমান। আর এই ঘটনা নরসিংদীর বিশাল শিল্পাঙ্গনের হাজার হাজার মালিক শ্রমিক জনতার মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।  

আবেদনপত্রে বলা হয়েছে,  আব্দুল মতিন মোল্লা নামে এক ব্যক্তি ২০০২ সালে ব্যাংক থেকে ৩০ কোটি টাকা ঋণ মঞ্জুরি নিয়ে ২৪ কোটি টাকা উত্তোলন করে মোল্লা স্পিনিং মিল নামে হাতে সুতা তৈরি কারখানাটি নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে মিলটি চালাতে ব্যর্থ হয়ে আব্দুল মতিন মোল্লা ২০০৫ সালে ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তির নিকট মিলটি বিক্রি করে দেন। আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া দীর্ঘ আট বছর পরিচালনা করার পর ২০১৩ সালে রেজিস্ট্রি চুক্তিমূলে সুইডেন প্রবাসী আতাউর রহমানের নিকট ১০ বছরের জন্য  ভাড়ায় দিয়ে দেন ।

প্রবাসী আতাউর রহমান চুক্তির শর্তানুযায়ী  সুইডেন বাংলা স্পিনিং মিল নাম দিয়ে মিলটি পরিচালনা করতে থাকেন। এরইমধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে সাবেক মালিক আব্দুল মতিন মোল্লাকে মিলের চেয়ারম্যান উল্লেখ করে বকেয়া ঋণ পরিশোধের চিঠি দেয়। এই চিঠি পেয়ে সাবেক মালিক আব্দুল মতিন মোল্লা পুনরায় মিলের মালিকানা দাবি করতে থাকে। এ নিয়ে মিলের মালিক আমজাদ হোসেন ভূঁইয়া ও সাবেক মালিক আব্দুল মতিন মোল্লার মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এই দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্টি হয় বহুসংখ্যক মামলা হামলার ঘটনা।

এরইমধ্যে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ মিলের যন্ত্রাংশ বিক্রি করে দিয়েছে অভিযোগ এনে ভাড়াটে মালিক আতাউর রহমান সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। নরসিংদী থানা পুলিশের তদন্তে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় থানা কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রদান করে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ পুনরায় আপিল করলে আদালত মামলাটি  পূন: তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করে সিআইডি পুলিশকে। তদন্তের প্রারম্ভেই সুইডেন মালিক আতাউর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। এই ঘটনার পর আব্দুল মতিন মোল্লা তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মিলটি পুনরায় দখল নেয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। এই অবস্থায় মিলের কোটি কোটি টাকার সম্পদ রক্ষাসহ মিলের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে। যেকোনো সময়ে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে আবেদনকারী মতিউর রহমান।


 

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরজমিনবার্তা