• ঢাকা
  • সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২০ , চৈত্র - ১৫ , ১৪২৬

আধুনিকতার নির্মম স্পর্শে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প বিলুপ্তির পথে

news-details
বাংলাদেশ

আধুনিকতার নির্মম স্পর্শে
ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প বিলুপ্তির পথে
 
 বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ আধুনিকতার নির্মম স্পর্শে শিবগঞ্জ উপজেলার মৃৎ শিল্প প্রায় বিলুপ্তির পথে। কমছে মৃৎ শিল্পের কদর। অসহায় ও নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এই শিল্পের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা। ভুলতে বসেছে তাদের নিপুণ শৈল্পিক গুণাবলী।  প্রাচীনকাল থেকে বংশানুক্রমে গড়ে ওঠা  উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের সাথে জড়িত কুমার বা পালরা পেশা নিয়ে বেশ চিন্তিত। 
 শিবগঞ্জ উপজেলার অদুরে সাদুল্যাপুর গ্রাম। গ্রামটি ঘুরে দেখাযায়, প্রায় তিন শতাধিক পরিবার রয়েছে। পাড়ার সবাই  সনাতন ধর্মাবলম্বী। লিপি রানী, ইন্দুবালা পাল, আঞ্জলী পাল এরা কেহ প্রতিমা আবার কেহ ছোট হাঁড়ি তৈরী করছে।  তাদের শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মান অনুন্নত। উপজেলার কুমার পাড়ার বাসিন্দাদের পরিবারে নেমে এসেছে দুর্দিন। কুমারপাড়ার চাকা আজ  আর তেমন ঘোরে না। মাটির হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, সরা, বাসন, কলসি, বদনার কদর প্রায় শূন্যের কোটায়। পুঁজার সময় যে কারিগররা প্রতিমা বানান তাদের কদর এখনো কিছুটা আছে।  দিন বদলের সাথে সাথে বাজারে প্লাস্টিক, সিরামিক, মেলামাইন সামগ্রীর ভিড়ে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। একটা সময় ছিলো কুমাররা মাটি দিয়ে তৈরি সামগ্রী বোঝাই করা ভার নিয়ে দলে দলে ছুটে চলত গ্রাম ও মহল্লায়। ওই মাটির পণ্যের বিনিময়ে তারা ধান সংগ্রহ করে সন্ধ্যায় ধান বোঝাই ভার নিয়ে ফিরে আসত বাড়িতে। ওই ধান বিক্রি করেই তাদের সংসার চলতো। এখন দিন বদলে গেছে। তেমন বেচাকেনা নেই। প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে উপজেলার কুমার পরিবারগুলোর আধুনিক মেশিন ও সরঞ্জাম কিনতে পাচ্ছেননা। এখন তাদের অনেকেরই অবস্থা শোচনীয়। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকেই বাপ-দাদার এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন।
সাদুল্যাপুর গ্রামের ইন্দুবালা পাল বলেন, হামরা মাটি দিয়ে জেগলে জিনিস বানাই সেগলে আর আগের লাকান বেচপের পারিনে। কি করমো আর অন্য কাম করবের পারিনে তাই বাপ-দাদার পেশা আঁকরে ধরেই আছি। একন হামাকেরে অবস্থা খুব খারাপ সেডে দেকপিডাকে? দেকপের কেও নাই। 
তিনি আরও জানান, হাঁড়ি-পাতিল তৈরির জন্য ব্যবহৃত এটেল মাটি তাদের গ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকে মাগনা আনা যেত। এখন সেই মাটি অন্য জায়গা থেকে টাকা দিয়ে কিনে ভাড়া করা গাড়িতে করে আনতে হয়। হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে মাটির জিনিস তৈরি করে রোদে শুকিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে  সেগুলো উপজেলার হাট-বাজারে এবং পুজার সময় মেলা গুলোতে বিক্রি করা হয়। সরকারের কাছে থেকে স্বল্প শর্তে ঋণ সহায়তা পেলে হয়ত এ পেশা চালিয়ে যেতে পারবেন বলে জানান। 
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমগীর কবীর জানান, এ শিল্পের বিষয়টি আমার জানানেই। যদি  মৃৎ শিল্পের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা এ শিল্পের উন্নয়নের জন্য আমার সহায়তা চায় তাহলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষথেকে ট্রেনিং সহ প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা