আল কোরআনের ফজিলত ও মর্যাদা

news-details
ধর্ম

আল কোরআন সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘এ কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে।’ সূরা জুমার, আয়াত ১। আল কোরআন পূর্ববর্তী কিতাবের সত্যয়নকারী। ‘আর আমি তোমার প্রতি কিতাব নাজিল করেছি যথাযথভাবে, এর আগের কিতাবের সত্যয়নকারী ও এর ওপর তদারককারীরূপে।’ সূরা মায়েদা, আয়াত ৪৮। কোরআন লওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ। কোরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘বরং এটা মহান কোরআন, লওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ।’ সূরা বুরুজ, আয়াত ২১-২২। অপবিত্র অবস্থায় কোরআন স্পর্শ করা নিষেধ। কোরআনুল কারিমে বলা হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই এটা সম্মানিত কোরআন, যা আছে এক গোপন কিতাবে, যারা পাক-পবিত্র, তারা ছাড়া অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না, এটা সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।’ সূরা ওয়াকিয়া, আয়াত ৭৭-৮০।

কোরআন শব্দটি কারউন শব্দ থেকে নিষ্পন্ন হয়েছে। এর ধাতুগত অর্থ দুটি। ১. জমা করা। এর তাৎপর্য হলো এ কিতাবের মধ্যে অতীতের সমস্ত আসমানি কিতাবের মূল শিক্ষা একত্রিত হয়েছে। এর মধ্যেই পৃথিবীর প্রলয় দিন অবধি মানবজাতির প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও হেদায়াত সন্নিবেশিত হয়েছে। দেখুন আল মুফরাদাতু ফি গারিবিল কোরআন, ৪১১ পৃষ্ঠা। ২. বার বার পাঠ করা বা পঠিত গ্রন্থ। এই পবিত্র কিতাবটি কোটি কোটি মানুষ প্রতিনিয়ত অধ্যয়ন করছে। পাঠ করছে। এত অধিক পঠিত কিতাব দুনিয়ায় আর একটিও নেই। দেখুন আল ইতকান ফি উলুমিল কোরআন, প্রথম খন্ড, ৫১ পৃষ্ঠা।

আল কোরআন হলো মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি। হজরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মাঝে ওই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে কোরআন শেখে ও অন্যকে শিক্ষা দেয়।’ বুখারি, তিরমিজি। হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী হলো আল্লাহর বাণী। আর সর্বশ্রেষ্ঠ পথ হলো মুহাম্মদের দেখানো নুরানি পথ।’ বুখারি, মুসলিম। কোরআনের প্রতিটি হরফ পাঠ করলে ১০টি নেকি লাভ করা যায়। হজরত ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি হরফ পাঠ করল, এতে সে ১০টি নেকির অধিকারী। (তিনি আরও বলেন,) আমি বলছি না যে, আলিফ-লাম-মিম একটি হরফ। বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মিম একটি হরফ।’ তিরমিজি, মুসতাদরাক আলাস সহিহাইন।

আল কোরআন তিলাওয়াতের এত ফজিলত হওয়ার কারণে অতীতের উম্মতে মুহাম্মদী বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াত করত। হজরত উসমান (রা.) তিন দিনে এক খতম কোরআন পড়তেন। ইমাম বুখারি (রহ.)ও তিন দিনে এক খতম কোরআন পড়তেন বলে জীবনীকাররা উল্লেখ করেছেন। আমাদের মাজহাবের ইমাম হজরত আবু হানিফা (রহ.) প্রতি রাতে এক খতম কোরআন পড়তেন বলে বর্ণিত আছে।

আল কোরআন পাঠকারীর পিতা-মাতাকে কিয়ামতের ময়দানে হাশরে নুরের টুপি পরানো হবে। হজরত মুয়াজ আল জুহানি (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন পড়ে এবং এর ওপর আমল করে, তার মাতা-পিতাকে কিয়ামতের দিন এমন একটি নুরের টুপি পরানো হবে, যার জ্যোতি দুনিয়ার সূর্যের জ্যোতি অপেক্ষা অধিক হবে।’ আবু দাউদ, মুসতাদরাক আলাস সহিহাইন।

আরেকটি হাদিস থেকে জানা যায়, কোরআন তার পাঠকারীর জন্য কিয়ামতের দিন সুপারিশ করবে। তাই রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াতের নির্দেশ দিয়েছেন। আবু উমামা আল বাহিলি (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা কোরআন তিলাওয়াত কর। কেননা, কিয়ামতের দিন কোরআন তার তিলাওয়াতকারীর জন্য সুপারিশ করবে।’ মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ। আমাদের প্রত্যেকের অবশ্যকর্তব্য নিয়মিত কোরআন পড়া, আল কোরআনের চর্চা করা। নয় তো আমাদের অন্তর বিরান ঘরের মতো হয়ে যাবে।

লেখক : খতিব, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আবাসিক এলাকা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, ঢাকা।

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা