• ঢাকা
  • সোমবার, মার্চ ৩০, ২০২০ , চৈত্র - ১৫ , ১৪২৬

মরে যাবো তবু দাবি আদায়ে পিছপা হবোনা

news-details
শিক্ষা

মরে যাবো তবু দাবি আদায়ে পিছপা হবোনা
বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ 

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ১৫ তম দিন অতিবাহিত করলো।
ইউজিসি কর্তৃক বিভাগ অনুমোদনের দাবিতে টানা আন্দোলন করে আসছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড খন্দকার নাসিরউদ্দিন ২০১৭ সালে ইউজিসির অনুমোদন না নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগ চালু করেন।
পরবর্তী দু বছর ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে একাধিক শিক্ষার্থী অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হয়।বর্তমানে ইতিহাস বিভাগে ৪১৩ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে।

সাবেক ভিসি বিরুধি আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রথম জানতে পারে তাদের এ বিভাগটি ইউজিসির অনুমোদন ব্যাতিরেকে খোলা হয়েছে।
ফলশ্রুতিতে দাবি আদায়ে তারা একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দ্বারস্থ হলে কোন আশানুরূপ ফল না পেয়ে আন্দোলনে নামে।

শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে 
গত ৬ ফেব্রুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসির)এক সভায়,অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যয়নরত ইতিহাস বিভাগের ৪১৩ জন শিক্ষার্থীকে মৌখিক ভাবে অনুমোদন দিলেও পরবর্তী ব্যাচ থেকে যেন আর কোন শিক্ষার্থী এ বিভাগে ভর্তি হতে না পারে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। 
ইউজিসির এমন বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে  শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে টানা ১৫ দিন যাবত আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
লাগাতার আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ আছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি)সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,
সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। মুহুর মুহুর স্লোগানে তারা দাবিগুলো তুলে ধরছেন.
এ প্রসঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী
মুক্তি মন্ডল বলেন;

জাতির পিতার পূন্যভূমিতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের কোন অস্তিত্ব থাকবেনা তা মানা যায়না।আমরা ছাত্রসমাজ তা মেনে নিবনা।ইতিহাস না থাকলে আমরা বাংলাদেশের ইতিহাস,স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে জানতে পারবনা।আমরা ৪১৩ জন শিক্ষার্থী, আমরা ৪১৩ টা পরিবার আজ অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে পা বাড়াচ্ছি।আমাদের নেই কোন অনুমোদন। আমরা চাই,অতি দ্রুত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস বিভাগের স্থায়ী অনুমোদন এবং বিভাগ পুর্নবহাল থাকে যাতে পরবর্তীতে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারে।
যতদিন পর্যন্ত আমাদের দাবি মেনে নেওয়া না হবে,ততদিন পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
আমরা প্রয়োজনে মরে যাবো,তবু  দাবি আদায়ে পিছ পা হবোনা।
এদিকে চলমান এ আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক সকল কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
অনেকে সেশনজটের আশংকা ও সার্টিফিকেট সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তুলতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে 
বিশ্ববিদ্যালয়ের চলতি দায়িত্বে থাকা উপাচার্য প্রফেসর ড শাহজাহান বলেন ;
আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য। আমি শুধুমাত্র রুটিন দায়িত্ব পালন করছি।আমার সীমাবদ্ধতা আছে।ইতিহাস বিভাগ পূর্নবহালের জন্য আমরা ইউজিসি বরাবর কয়েকবার চিঠি দিয়েছি।আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি তাদেরকে বিষয়টি বুঝানোর জন্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান এ সংকট থেকে উত্তরনের জন্য ইউজিসি ৭ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছে।কমিটিতে আমি সহ অত্র বিশবিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক রয়েছেন।
আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করব,বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে আমাদের সাহায্য করার জন্য।

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা