• ঢাকা
  • শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০২০ , ফাল্গুন - ১৬ , ১৪২৬

ডিএনসিসি নির্বাচন, ওয়ার্ড-৪০, আচরণ বিধির তোয়াক্কা করছে না নজরুল ইসলাম ঢালী 

news-details
রাজনীতি

“টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, পোস্টার ছিনতাই, প্রচার মাইক ভাঙচুর, কর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে মারধরের বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়েছে। ৪০ নং ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঢালী,তার দুই ছেলেসহ কর্মী-সমর্থকরা ”

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৪০নং ওয়ার্ডে ‘ফ্রি স্টাইলে’ চলছে আওয়ামীলীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঢালীর আচরণবিধি লঙ্ঘন। নির্বাচন কমিশনের কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না তিনি ও তার কর্মী-সমর্থকরা। নজরুল ইসলাম ঢালীর গণসংযোগ থেকে পোস্টারিং কিংবা মাইকিং সব ক্ষেত্রেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশ্লিষ্টরা যেন এক রকম নির্বিকার হয়ে পড়েছে। আওয়ামীলীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঢালী ও তার ক্যাডার বাহিনী কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে আচরণ বিধি লঙ্গন করে গণসংযোগের ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও ইসির তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। তাদের এমন ভূমিকায় আচরণবিধি লঙ্ঘনে সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে সর্বত্র। যদিও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘন কারী প্রার্থীদের দেখার জন্য দুই সিটিতে ৪৩ জন ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে মাঠ পর্যায়ে তথা ডিএনসিসির ৪০নং ওয়ার্ডে তাদের তেমন তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

সরেজমিনে গিয়ে সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৪০ নং ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঢালী,তার দুই ছেলেসহ কর্মী-সমর্থকরা মিলে বিএনপি সমর্থিত টিফিন ক্যারিয়ারের কাউন্সিলর প্রার্থী আতাউর রহমানের কর্মী-সমর্থকদের কোন প্রকার গণসংযোগ করতে দিচ্ছে না। গণসংযোগে বের হলেই নজরুল ইসলাম ঢালীর পেটুয়া বাহিনী হামলা করে। এমনকি মহিলা কর্মী-সমর্থকরাও কোন ভোটারের কাছে যেতে পারছে না। মহিলা কর্মীদেরর উপর ও হামলা চালিয়ে লাঞ্চিত করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। 

জানা গেছে,প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে বিএনপি সমর্থিত টিফিন ক্যারিয়ারের কাউন্সিলর প্রার্থী প্রচার-প্রচারণায় নামতে না নামতেই ক্ষমতাসীন দলের সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঢালীর বিরুদ্ধে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর প্রচারে হামলাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রাণ নাশের হুমকী ও দিচ্ছে বিভিন্ন  এ্যাংগেলে। 

সূত্রে আরো জানা গেছে, টিফিন ক্যারিয়ার প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, পোস্টার ছিনতাই, প্রচার মাইক ভাঙচুর, কর্মীদের উপর হামলা চালিয়ে মারধরের বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়েছে। এসব ঘটনা আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঢালী অকপটে অস্বীকার করে বিদ্রোহী প্রার্থীর উপর চাপানোর চেষ্টা করছে। এসব ঘটনার বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী কর্তৃক লিখিত অভিযোগ করা হলেও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের তরফ থেকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। 

বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীর প্রচারে বাঁধা : বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে,আওয়ামীলীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঢালী ঢাক ঢোল পিটিয়ে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে জমজমাট প্রচার প্রচারণা চালিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করছে। অথচ বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর কোন কর্মী-সমর্থক প্রকাশ্যে প্রচার প্রচারণায় অংশ গ্রহণ করতে পারছে না। প্রচারে বের হলেই কর্মী-সমর্থকদের উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে নির্বাচনী প্রচারে বাধা সৃস্টি করছে আওয়ামীলীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঢালীর কর্মী সমর্থকরা। অথচ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আইনে প্রচারের ক্ষেত্রে সমান-সুযোগ সুবিধা থাকার কথা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুরোদমে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্গন করছে আওয়ামীলীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঢালীর কর্মী সমর্থকরা।

ভোটারদের বিভিন্ন ধরনের হুমকী : নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে কমিশন নিশ্চিত করেছে। অন্য দিকে আওয়ামীলীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঢালীর কর্মী সমর্থকরা বিএনপি সমর্থিত ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে বিভিন্ন হুমকী দিচ্ছে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য। কেউ ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে গেলে পরিস্থিতি ভাল হবে না বলে হুশিয়ারী দিচ্ছে। অথচ নির্বাচন কমিশন প্রত্যেক ভোটারকে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্গন করে প্রচারণা : ডিএনসিসি ৪০নং ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঢালীর নির্বাচনী প্রচারে ১০টি রিক্সায় ২টি করে মোট ২০টি মাইক ব্যবহার করতে দেখা গেছে। পোষ্টারের সংখ্যাও প্রায় লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়াও ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পুরো ৪০নং ওয়ার্ডের অলি-গলি। আচরণবিধির ৮-এ উল্লেখ আছে, পোস্টার সাদাকালো এবং এর আয়তন ৬০ বাই ৪০ সেন্টিমিটারের অধিক হতে পারবে না। কিন্তু নজরুল ইসলাম ঢালী এ বিধি মানছেন না। নির্ধারিত আয়তনের পাশাপাশি তিনি বড় আকারের ব্যানার ফেস্টুনও টানিয়েছেন। ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের আপ্যায়নের জন্য কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ৯৮টির কম হবে না। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রচার মাইক ব্যবহার করে আচরণ বিধি লঙ্গন করে ক্ষমতা অপব্যবহার করছে নজরুল ইসলাম ঢালীর কর্মী-সমর্থকরা। 

জানা গেছে, আচরণবিধি লঙ্ঘন প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির বিধানও রয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচন-পূর্ব সময়ে বিধিমালার কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে অনধিক ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

পত্রিকা অফিসে হুমকী : আচরণ বিধি লঙ্গনের সংবাদ প্রকাশ করায় জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তা পত্রিকার হেড অফিসে হুমকি দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার একটি রবি নাম্বার থেকে পত্রিকা অফিসে ফোন করে আওয়ামীলীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম ঢালীর কর্মী পরিচয় দিয়ে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে আর যেন কোন সংবাদ প্রকাশ না করা হয়। সংবাদ প্রকাশ করলে অফিস উড়িয়ে দেওয়া হবে বলে এবং তথ্য মন্ত্রীকে দিয়ে পত্রিকার অনুমোদন বাতিল করার হুশিয়ারী দেওয়া হয়েছে। যত হুমকিই আসুক তবে সত্য ঘটনা প্রকাশ করা থেকে বিচ্যুত হবে না দৈনিক সরেজমিন বার্তা কর্তৃপক্ষ। 

বিশ্লেষকদের ধারণা : এভাবে চলতে থাকলে সামনে নির্বাচনী পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে পরিস্থিতি- এমন শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।


রিটার্নিং কর্মকর্তা যা বললেন : জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম বলেন, আচরণবিধি প্রতিপালন ভালোভাবেই হচ্ছে। তবুও কিছু জায়গায় লংঘনের ঘটনা ঘটছে। ৪০নং ওয়ার্ডের বিষয়টি ভালভাবে ক্ষতিয়ে দেখা হবে এবং যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযোগ পাওয়ার মাত্রই তা ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। আমি নিজেও সরেজমিন পরিদর্শন করছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে, আর তা জানার পর ব্যবস্থা নিচ্ছি না এমন অভিযোগ সত্য নয়।

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা