সিংড়া বাসীর আতংক কুখ্যাত সন্ত্রাসী ভোলা ও তার পান্ডাদের লাগাম ধরবে কে ? পর্ব ১

news-details
অপরাধ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাহিদুল ইসলাম ভোলা, নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে যতটা না নন্দিত তার চেয়ে অনেক বেশি নিন্দিত। এলাকাবাসী তাকে মানুষ মারার কারিগর বলে অভিহিত করে থাকে। মানুষ খুন করার মত ঘৃন্যা অপচেষ্টা, অন্যের জায়গা-জমি জবর দখল, দুশ্চরিত্র, মাতাল, অশ্রাব্য ভাষায় মানুষকে গালিগালাজ সহ এমন কোন অপকর্ম নাই, যা সে করে না। সরেজমিনে জানা যায় ভোলা তরুন বয়স থেকেই উশৃঙ্খল এবং মানুষ খুন করার অপচেষ্টায় মেতে উঠে। যুব বয়সে নিজ গ্রামের আত্মীয় মোঃ ইসমাইল, পিতা-মৃত বাবু কে পেটের মধ্যে টেটা ঢুকিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এতে ইসমাইলের নাড়ি-ভূড়ি বেরিয়ে আসে।

কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে ইসমাইল বেঁচে গেলেও আজও উক্ত ঘটনার জন্য সে আতংকগ্রস্ত হয়ে দিন যাপন করছে। সবচেয়ে ঘৃন্য ও লজ্জাজনক অপকর্ম করে ২০০৩ সালে। বঙ্গবন্ধুর সহচর বীর মুক্তিযোদ্ধা সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও তিন বারের আওয়ামীলীগের নৌকা মনোনীত প্রার্থী মরহুম জননেতা শাহজাহান আলীকে ২০০৩ সালের ১০ অক্টোবর সিংড়ার জয় বাংলা মোড়ে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যার উদ্দেশ্যে রডের এ্যাঙ্গেল দিয়ে একের পর এক আঘাত করে। কথিত আছে ভোলা শাহজাহান আলীর বুকে লাথি মারে। সেই সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বেঁচে গেলেও মানসিক ভাবে তিনি প্রচন্ড ভেঙ্গে পড়েন। এর কয়েক মাস পরে শাহাজান আলী মৃত্য বরন করেন এই ঘটনায় মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভোলা দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। সিংড়ার আওয়ামী রাজনীতি থেকে বহিস্কারও করা হয়। জেল-জরিমানা, সাধারণ মানুষের ঘৃনা, সিনিয়র নেতাদের বিমূখকতা ভোলাকে তো শুধরাতে পারেনি বরং দিনে দিনে মানুষের রক্ত ঝরিয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠে। শুধু তাই নয় এক সময় বর্তমান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধাচরণ করেছে প্রকাশ্যে।

একাধিকবার আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জনগণ প্রতিবার ভোলাকে ঘৃনাভরে প্রত্যাখান করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিংড়ার বেশ কিছু সিনিয়র নেতা-কর্মী বলেছেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের জনপ্রিয়তা ও কেন্দ্রীয় ভাবে শক্ত অবস্থানের কারণে সন্ত্রাসী ভোলা কিছুটা কোণঠাসা হয়ে প্রতিমন্ত্রী পলকের সাথে সু-সম্পর্কের ভান করলেও সুযোগ পেলে সে মন্ত্রী সাহেবের বড় ধরণের ক্ষতি করতেও দ্বিধা করবে না। ২০১৫ সালে ভোলা সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম কবিরকে মারধর করে জখম করে। ২০১৭ সালের ২৪ জানুয়ারী ক্ষিন্দ্র বড়িয়া হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিককে ক্লাস চলাকালীন সময়ে স্কুলের মধ্যে ঢুকে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারাত্মক ভাবে জখম করে। রক্তাক্ত অবস্থায় প্রধান শিক্ষক রফিককে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। উক্ত ঘটনায় প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে মামলা করে, মামলা নং-২০/২০১৭ যা এখনও চলমান। চলনবিল সেট সংলগ্ন আকাশ (৩৫), পিতা-মেহের আলীকে ভোলা ও তার পান্ডারা মেরে গুরুতর জখম করে। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে স্থাপন দিঘির সাবেক সেনা সদস্য বর্তমান সার্ভেয়ার আওয়ামীলীগ নেতা ইমরানকে ভোলা ও তার বাহিনী হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হবার জন্য ইমরানকে ফোন করা হলে তিনি এর সত্যতা স্বীকার করেন।

ক্ষিন্দ্রবাড়িয়ার শেখ পাড়ার মো. শহিদের ছেলে রানাকে গ্রাম থেকে উঠিয়ে নিয়ে ভোলা ও তার বাহিনী রানার মাথায় গুরুতর আঘাত করে তাকে প্রায় পাগলের মত করে দিয়েছে। রানার অপরাধ ভোলা বাহিনীর সদস্য মিদুল পারভেজ জয় বিবাহিত, এ কথা কমিটি হওয়ার আগে রানা বলে দিয়েছিল, তারপরও জয়কে সাধারণ সম্পাদকের পদ দিয়েছে সিংড়া উপজেলা ছাত্রলীগ। ১০নং চৌগ্রাম ইউনিয়নের নমিনেশন পাওয়ার পর চরম হতাশ হয়েছিল চৌগ্রামবাসি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক আওয়ামীলীগ নেতা বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধুর সহচর, দলের বিরুদ্ধে একাধিক বার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ করেও কিভাবে নমিনেশন পেল সেটা আমরা জানি না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে পূঁঁজি করে তার সকল কর্মকান্ডে হাইব্রীডদের সঙ্গী করে আওয়ামী পরিবারের উপর হামলা ও আঘাত করেই যাচ্ছে এ নিয়ে দলের সবাই বিব্রত, মর্মাহত।

মানুষের রক্ত ঝরানোই শুধু নয় ভোলা একজন চরিত্রহীন, লম্পর্ট ও বটে। চৌগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবার পর উক্ত পরিষদের মহিলা সদস্য তাসলিমা, স্বামী-সবুজ, তাকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করে নন্দি গ্রামে ভাড়া থাকে বলে মহিলার স্বামী সবুজ সরেজমিনকে জানায়। দুইটি শিশু বাচ্চাকে নিয়ে এহেন ঘটনার জন্য সবুজ এখন সমাজে মুখ দেখাতে লজ্জাবোধ করে। ঘটনার সত্যতা জানতে সবুজকে ফোন করা হলে, তিনি এর সত্যতা স্বীকার করেন। ভোলা ও তার সন্ত্রাসী ভাগিনারা জবর দখলকারীও বটে। শেখ বাড়িয়ার একটি বিরোধীয় জমি যেটা নিয়ে মামলা এখনও চলমান। উক্ত বিরোধীয় জমির ধান সাবেক চৌগ্রাম ইউনিয়নের পরিষদ চেয়ারম্যান ও বর্তমান সিংড়া উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রোজীকে প্রতি বছর জমা দেবার কথা। যে পক্ষ মামলা জিতবে সে পক্ষকে রোজী ধান বা সমমূল্যের টাকা বুঝিয়ে দেবে। পক্ষগণ এতদিন সেটাই করে আসছিল। কিন্তু এখন বিবাদমান সেই জমির ধান ভোলা ও তার ভাগিনারা জোর করে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে। পক্ষগণকে বলছে ধান বা টাকা তাদের দিতে হবে। যার দরুন পক্ষদ্বয় মহাবিপাকে পড়েছে।

এদিকে ২০২০ সালের শুরুটা সন্ত্রাসী ভোলা ও তার সকল কুকর্মের সহচর ভাগিনারা মানুষের রক্ত দিয়ে হাত রাঙ্গিয়ে শুরু করেছে। মুক্তিযোদ্ধা মৃত গোলজার হোসেনের নাতী দামকুঁড়ি বে-সরকারি প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষক উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি মতিয়ার রহমান মিলন ও তার বড় ভাই ৩নং ইটালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভপতি আতাউর রহমান চান্দুর উপর কালিগঞ্জ স্কুল রোড ও মাঠের দক্ষিণ পাশে ভোলা ও সন্ত্রাসী মাসুদ, মিঠুন, জয়, ফারুক, রবি মন্ডল, সাব্বির সহ ১৫/২০ জনের দল ধারালো ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বর্বরভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রধান শিক্ষক মিলনকে ভোলা নিজে গলাটিপে হত্যার চেষ্টা করে। বাধা দিতে গেলে বড় ভাই আতাউর রহমান চান্দুকে মাথা ও বুকে এলোপাথারী ভাবে আঘাত করে, হাত পা মোচড়ে ভেঙ্গে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আতাউর রহমান চান্দু মুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উক্ত ঘটনায় প্রধান শিক্ষক মিলন বাদী হয়ে মামলা করলে ঘটনার দিন রাতেই সন্ত্রাসী ভোলা ও মাসুদকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। পরের দিন দুপুরে জামিনে মুক্ত হয়। জামিন পেয়েই সন্ত্রাসী ভোলা প্রধান শিক্ষক মিলনকে মামলা তুলে নেবার জন্য প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে। মিলন ও তার পরিবার এখন নিরাপত্তহীনতায় ভুগছে।

এ ব্যপারে চৌগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম ভোলার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ ভিত্তিহিন একটি মহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে 

সিংড়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. অহিদুর রহমান বলেন, জাহিদুল ইসলাম ভোলা একজন ভালো মানুষ যে কারণে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন শাহাজান আলীর বিষয়টি মিমাংসিত হয়েছে অন্য বিষয় বলতে গেলে মোবাইল ফোন কেটে দেন এব্যপারে শাজাহান আলীর ছেলে সরফরাজ নেওয়াজ বাবু সরেজমিনকে জানান, জাহিদুল ইসলাম ভোলা একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী আমার পিতাকে মেরে খেন্ত হননি অনেক আওয়ামী লীগ নেতাকে সে মেরেছে একথা সবাই জানেন।   

সন্ত্রাসী ভোলা জন প্রতিনিধি নামের কলংক। জনগণের সেবা, কল্যাণ করাতো দূরে থাক মানুষের রক্ত নিয়ে হলি খেলা যেন তার নেশা ও পেশা। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গর্ব বীর মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষক, আওয়ামীলীগের বহু নেতা কর্মী ও সাধারণ মানুষদের হত্যার উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী ভোলা ও তার পান্ডারা রক্ত ঝরিয়েছে। কার বা কাদের মদনে সন্ত্রাসী ভোলা মানুষের প্রাণ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে ? সিংড়ার মানুষ ভোলার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। আর কতদিন অত্যাচার সহ্য করবে ? এর শেষ কোথায় সেই প্রশ্ন সাধারণ মানুষের। 

দ্বিতীয় পর্বে চোখ রাখুন, জাতীয় দৈনিক সরেজমিন বার্তায় 

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা