• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারী ২৭, ২০২০ , ফাল্গুন - ১৫ , ১৪২৬

গোবিন্দগঞ্জে নারী উদ্যোক্তা মীর শারমিন শিমুর মেহুলী বুটিকের কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে গ্রামের নারীরা

news-details
বাংলাদেশ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বন্যাকবলিত প্রতন্ত অঞ্চল নাকাই ইউনিয়নের নারী উদ্যোক্তা মীর শারমীন শিমু গড়ে তুলেছেন মেহুলী বুটিক ওয়ান লাইন ব্যবসা। এতে কুঞ্জ নাকাই ও পলাশবাড়ীর  হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালুক কেয়া বাড়ী গ্রামের ৩০ জন নারী সংসারে ফিরে পেয়েছে অর্থনৈতিক ভাবে স্বচ্ছলতা। সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে তাদের হাতের তৈয়ারী ওয়ান পিচ, থ্রি পিচ, শাড়ী, বেডশীট, রেডিড্রেস, পাঞ্জাবী, ফতুয়া নকশী কাঁথা এ সব পণ্য দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তজার্তিক ভাবে রপ্তানী করা সম্ভব বলে জানান এলাকার শিক্ষিত মহল। মেহুলী বুটিকের কাজ করে স্বাবলম্বী হওয়া কুঞ্জ নাকাই গ্রামের মোছাঃ মিশু বেগম (২৫) জানান, নারী উদ্যোক্তা মীর শারমীন শিমু আপা হস্তশিল্পের এই বুটিকের কাজ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করায় মাসে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা আয় করতে পারছি। দিন দিন এ কাজের চাহিদা যে ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু প্রচার না থাকায় সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তালুক কেয়া বাড়ী গ্রামের সাধনা রানী বলেন, মেহুলী বুটিকের সুতার কাজ করে মাসে ৪ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। এ কাজের আয় থেকে ছেলে মেয়েদের ভাল ভাবে পড়া লেখা করাতে পারছি। নাকাইহাট ডিগ্রী কলেজের অধ্যাপক দিলীপ কুমার মহন্ত মেহুলী বুটিকের কাজ সম্পর্কে জানালেন, মীর শারমিন শিমু আমার গ্রামের মেয়ে, আমি তাকে ছোট বোন হিসেবে দেখি, তাকে অনেক দিন বলে ছিলাম, রাস্তা, ঘাটে ঘুরে বেড়াও কেন? এ প্রশ্নের কোন উত্তর সে দিত না। পরবর্তীতে জানতে পারি, গ্রামে গ্রামে ঘুরে অসহায় পরিবারের নারীদের এ সমাজে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য নারীদের একত্রিত করে তাদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মেহুলী বুটিকের কাজ করান। তার এই উদ্যোগ গ্রহণ করায় নারী উদ্যোক্তা হিসেবে সরকারী সহযোগিতা কামনা করছি। মেহুলী বুটিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর শারমিন শিমু বলেন, ছাত্র জীবন থেকেই তার চিন্তা চেতনা ছিল গ্রামের অসহায় নারীদের কি ভাবে স্বাবলম্বী করা যায়। তাই সরকারী, বেসরকারী চাকুরীর কথা না ভেবে, ২০০৭ সালে (অনার্স) প্রথম বর্ষের ছাত্রী থাকায় তার মাথায় আসে হস্তশিল্পের চেতনার কথা, পরিবারের কাজ থেকে হস্তশিল্পের ডিজাইনের কাজ তিনি শিখেন। এর পর নিজে এ কাজটার সাথে গ্রামের নারীদের উর্দ্বর্ত্ব করতে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ দেন। মাত্র ৫ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে তার এই ব্যবসার যাত্রা শুরু। বর্তমানে এ ব্যবসা করে মাসে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে কাজের অর্ডার আসতে থাকে। কাজ শেষে অর্ডার অনুযায়ী কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ঠিকানা অনুযায়ী মেহুলী বুটিকের মালামাল পাঠিয়ে দেন। তিনি আরো বলেন, সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে মেহুলী বুটিক গ্রাম ছেড়ে দেশের বিভিন্ন শহর পেরিয়ে আন্তজার্তিক ভাবে রপ্তানী করতে পারলে গ্রামের এসব অসহায় নারী অর্থনৈতিক ভাবে আরো স্বাবলম্বী হতে পারতো। 
এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মণ বলেন, কুঞ্জু নাকাই গ্রামে যে হস্ত শিল্প ব্যাক্তিগত উদ্যোগে গড়ে উঠেছে। আমরা শুনেছি, যে ওখানে বাজার জাত করার সমস্যা রয়েছে, অথবা প্রশিক্ষণের অভাব রয়েছে। আমি তাদের সাথে যোগাযোগ করবো। আমাদের বিআরডিবি অফিসের মাধ্যমে তাদেরকে আরো ভালো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবো। যাতে করে তাদের পণ্যের গুণগত মান বৃদ্ধি পায় এবং সেই সাথে বিভিন্ন কোয়ালিটি সম্পর্ণ  যে পণ্য রয়েছে, সে গুলো যাতে উৎপাদন করতে পারে। আমাদের উপজেলা প্রশাসনের একটি মার্কেট থাকবে, আমরা ওই সব পণ্য ক্রয় করতে পারবো।

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা