নেই পর্যাপ্ত ট্রাক টার্মিনাল, বুড়িমারি স্থলবন্দরে যানজটের ভোগান্তি

news-details
যোগাযোগ

 

বুড়িমারি স্থলবন্দরে এ কারণে যেখানে সেখানে রাস্তায় ট্রাক পার্কিংয়ের কারণে ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা পড়েন নানা অসুবিধায়। ক্রমশ এ নিয়ে বাড়ছে ভোগান্তি।
জানা যায়, প্রথম দিকে এ বন্দরের আমদানি-রফতানি ভালো না হলেও বর্তমানে স্থল বন্দরটিতে প্রতিদিন সহস্রাধিক  ট্রাকে পাথরসহ অন্যান্য পণ্য আমদানি হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে রাইস বেন্ড, ঝুট কাপড়, প্রাণ আরএফএল কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য  রফতানি হয়ে থাকে ভারতে। সড়ক ও রেল যোগাযোগ ভালো হওয়ায় কারণে এ বন্দরটি অল্প সময়ের মধ্য বৃহত্তম স্থলবন্দর হিসেবে পরিচিত লাভ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন হাজার - হাজার ট্রাক আসে বুুুড়িমারি স্থলবন্দর এলাকায়। এসব ট্রাক রাখার পর্যয জায়গা না থাকায় বন্দর এলাকার বিভিন্ন রাস্তার পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। আর এতে করে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।
এছাড়াও এসব মালবোঝাই ট্রাকের কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় পথচারী ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের। বন্দরের এই রাস্তা দিয়ে উপজেলার একমাত্র স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী নিয়ে যেতে হয়। যে কারণে যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগীদেরও।
বন্দরের ব্যবসায়ীদের দাবি এই বন্দরে একটি স্থায়ী ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ করা হলে কমবে যানজট।

ঢাকা থেকে বুড়িমারি স্থলবন্দরে পাথর নিতে আসা একজন ট্রাক ড্রাইভার বলেন, ‘বন্দরের চাহিদার তুলনায় টার্মিনালে পর্যাপ্ত জায়গা নেই ট্রাক রাখার জন্য। তাই আমরা রাস্তার পাশে ট্রাক দাঁড় করায়  রাখি। পাথর লোড করার পর পাটির চালানের জন্য রাস্তায় দাঁঁড়িয়ে আছি। যতক্ষণ চালান না মিলবে ততক্ষণ ট্রাক নিয়ে রাস্তার পাশে এভাবে আমাদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এটা আমাদের জন্যও ভোগান্তির।’

বগুড়া থেকে পাথর নিতে আসা আরেক ট্রাক ড্রাইভার মানিক মিয়া বলেন, আমরা পণ্য লোড করার পর  সামান্য সময়ের জন্য রাস্তায় অপেক্ষা করি। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই আমরা রাস্তার পাশে গাড়ি দাঁড় করায়ে রাখি। রাতের আঁধারে চলতি ট্রাক এসে যদি ধাক্কা দেয় তাহলে তো আমরাও শেষ। আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে অনুরোধ করবো দেশের বড় এই স্থলবন্দরে দ্রুত একটি বড় ট্রাক টার্মিনাল স্থাপনের।’
স্থানীয় রাবিউল নামে একজন বলেন, এই কয়দিন আগেও ভারতীয় একটি পাথর বোঝাইকৃত ট্রাক রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলো, যাত্রী বোঝাই একটি মাহিন্দা সিএনজি জায়গা না পেয়ে রাস্তায় থাকা ট্রাকটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে দুজন যাত্রী নিহত হয়।

মকবুল হোসেন নামের একজন বলেন,  আমাদের প্রতিনিয়িত যানজটের কারণে কষ্ট করতে হয়। আমরা চাই বুুুড়িমারি স্থলবন্দরে সরকারি একটি ট্রাক টার্মিনাল হউক। তাহলে আমরা" এই ভোগান্তি থেকে আমরা মুক্তি পাবো।’

বুড়িমারি কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের এর একজন সদস্য বলেন, ‘জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু করে বন্দরের ঘুন্টি পর্যন্ত রাস্তাটি প্রশস্ত ও একটি বড় ট্রাক ট্রামিনাল নির্মাণ করা হলে এই বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি আরও বৃদ্ধি পাবে। আমরাও ব্যবসা-বাণিজ্য করে একটু শান্তি পাবো। তাই আমি সরকারের কাছে অনুরোধ করবো আমাদের এই বুড়িমারি স্থলবন্দরের দিকে একটু নজর দেওয়ার জন্য। যাতে আমরা ভালোভাবে ব্যবসা করতে পারি,  পাশাপাশি জনগণও ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে। তবে তিনি বলেন বুড়িমারি স্থলবন্দর থেকে পাটগ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। এটি সমাপ্ত হলে যানজট কমবে বলে তিনি আশা করেন।   
 

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা