যুবলীগে অনুপ্রবেশকারী নুরু ব্যস্ত চাঁদাবাজিতে!

news-details
অপরাধ

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী যুবলীগে অনুপ্রবেশকারী নুরুল ইসলাম চৌধুরী নুরু। অভিযোগ আছে, তিনি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক ৩২ নং ওয়ার্ডের (বর্তমানে ৯ নং ওয়ার্ড) জাতীয়তাবাদী যুবদলের সহ-সভাপতি। যুবদল পাল্টিয়ে আওয়ামী যুবলীগে যোগ দেওয়ার পর এখন তিনি ওই ওয়ার্ডের যুবলীগের সহ সভাপতি! আর যার আশির্বাদ মাথায় নিয়ে তিনি দল পাল্টিয়েও পদ ঠিক রাখতে পেরেছেন, তিনি হলেন যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূইয়া, যিনি এরই মধ্যে 'ক্যাসিনো খালেদ' উপাধি নিয়ে কারাগারে আছেন। কিন্ত নুরুল ইসলাম চৌধুরী নুরুর বিরুদ্ধে ব্যাপক  চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রমান থাকলেও তিনি এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

সাড়াশি অভিযানে কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকলেও এখন অবাধে চলছে তার চাঁদাবাজি ও অবৈধ ব্যবসা। গত ৩০ ডিসেম্বর নুরুল ইসলাম চৌধুরী নুরু আনুমানিক ৫০ জনের বেশী গুন্ডা বাহিনী নিয়ে মতিঝিল এলাকায় ব্যবসায়ীদের নিকট চাঁদা নিতে আসে এবং বিভিন্ন রকম ভয় ও হুমকি ধামকি দিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঁদাবাজদের কবলে পরা ব্যবসায়ী মোবারক হোসেন সরেজমিন বার্তাকে জানান, '১২ দিলকুশা বা/এ, জায়গার মালিক নবাব এষ্টেট সাবি আহমেদ। তার কাছ থেকে আম-মোক্তারনামা দলিল মূলে ভাড়া আদায় সহ উক্ত সম্পত্তির যাবতীয় মামলা মোকাদ্দমা পরিচালনার জন্য আমি নিযুক্ত আছি। বর্ণীত সম্পত্তিতে ২০ টি বিভিন্ন দোকানপাট আছে। নুরুল ইসলাম চৌধুরী নুরু, পুতুল ও তাদের পোষা গুন্ডা বাহিনীসহ বিভিন্ন সময় আমার উল্লেখিত দোকানগুলোতে এসে ভাড়াটিয়া দোকানীদের কাছে টাকা-পয়সা দাবি করে। ভাড়াটিয়ারা তাকে টাকা দিতে অস্বীকার করলে সে ভাড়াটিয়াদের বিভিন্ন রকম ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে।

নুরুর গুরু 'ক্যাসিনো খালেদ' জেলে থাকলেও এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নুরু ইসলাম চৌধুরী নুরু ও তার বাহিনী। রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকা দিলকুশায় প্রকাশ্যে ওয়াসার লাইনে পাম্প লাগিয়ে পানি নিয়ে অবৈধ ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে তার বিরদ্ধে। হোটেল, রেঁস্তোরা, বাণিজ্যিক অফিস ও ফুটপাতের দোকানগুলোতে এই পানি নগদ দামে বিক্রি করা হয়। এটি এখন 'নুরুর পাম্প' নামে পরিচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক লোকজন অভিযোগ করেছেন, ঢাকা ওয়াসার কয়েক অসাধু কর্মকর্তা ও স্থানীয় একটি চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে বছরের পর বছর ধরে এই অবৈধ পানির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন নুরু ও তার লোকজন।

আরো অভিযোগ আছে, যুবদল থেকে যুবলীগের নেতা হওয়ার পর থেকে তার ভাই পুতুলের মাধ্যমে ইয়াবা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন নুরু। ফুটপাতের দোকানে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে প্রতি লাইট বাবদ প্রতিদিন ৩০-৪০ টাকা নেন এবং যদি কেউ লাইট না জ্বালায় তাহলেও টাকা দিতে হয়। দিলকুশায় অবৈধ পানির সংযোগের মাধ্যমে ড্রামে ড্রামে পানি বিক্রি করে দৈনিক হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। একই এলাকায় রাস্তার জায়গা দখল করে অন্তত ৪০-৫০টি দোকান বসিয়ে মাসে ভাড়া নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। তার এই সকল কাজের অন্যতম সহযোগী সাহেব আলী আকন ও আবুল কাশেম মন্টু নামে দুইজন।

এছাড়াও নুরুর নামে বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকির মামলা রয়েছে। মোবারক হোসেন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে হুমকি দেয়ায় ওই ব্যক্তি গত ২৫ (মার্চ) তারিখে মতিঝিল থানায় নুরুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হত্যা বিষয়ক একটি জিডি করেন, জিডি নং-১৭১১। একই থানায় নুরুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হত্যার হুমকি বিষয়ক আরেকটি জিডি করেন মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি, জিডি নং ১৭১২। 

এদিকে ভুক্তভোগী মোবারক হোসেন লিখিত অভিযোগ দায়ের করার জন্য মতিঝিল থানায় গেলে তাকে আশ্বস্ত করা হয় অভিযোগ গ্রহণ করা হবে কিন্ত তার অভিযোগ গ্রহন করা হয়নি। কিন্ত মোবারক হোসেনের উল্লেখিত জমি নিয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট চলমান থাকার পরেও মতিঝিল থানার এসআই শফিক স্পটে এসে মোবারক হোসেনকে হয়রানি করেছেন বলে জানিয়েছেন মোবারক।

নুরুর বিষয়ে অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, অবৈধভাবে রাতারাতি অর্থ বিত্তের মালিক হয়েছেন নুরু। তার বিভিন্ন জায়গায় অঢেল সম্পত্তি রয়েছে। মুগদায় ২টা ফ্ল্যাট, মান্ডায় ৪ কাঠা জমি, জালকুড়িতে ৪ কাঠার ওপর বাড়ি ও ব্যক্তিগত গাড়ী রয়েছে নুরুর।

এছাড়া ফরিদপুরে ফুলসুতি গ্রামে নুরুর মার্কেট, ফরিদপুর শহরে বাড়ী ও বস্তি ঘর আছে ৬০ টি। রাজধানীর দিলকুশায় শিল্প মন্ত্রণালয়ের পাশে ৬০ ফুট প্রশস্থ একটি সড়কের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এখানকার প্রবেশ মুখ আটকে পাকা স্থাপনা নির্মাণের পর পুরো রাস্তাটি দখলে নিয়ে টিন শেড ঘর বানিয়ে চলছে ভাড়া বাণিজ্য, যার নেপথ্যে রয়েছেন যুবলীগ দক্ষিনের নেতা নুরুল ইসলাম নুরু। দুদক তদন্ত করলে সবকিছু বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আরো বিস্তারিত জানার জন্য চোখ রাখুন দৈনিক সরেজমিন বার্তা পত্রিকায়। অভিযোগের বিষয়ে নুরুল ইসলাম চৌধুরী নুরুকে মোবাইলে কল করা হলে তিনি এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে অস্বীকার করেন।
 

You can share this post on
Facebook

0 Comments

© 2013 All Rights Reserved By সরেজমিনবার্তা