মঙ্গলবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৪:৪২ অপরাহ্ন

মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে স্কুলছাত্রীর সর্বনাশ

শরীয়তপুর প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ আগস্ট, ২০১৯
  • ৯৮ বার পঠিত

শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ছাতিয়ানি এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় গত ৭ আগস্ট ডামুড্যা থানায় মামলা করেছেন ওই ছাত্রীর মা।

মামলায় উপজেলার ধানকাঠি ইউনিয়নের চরধানকাঠি গ্রামের জয়নাল ব্যাপারীর ছেলে মোমিন ব্যাপারীকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ, ওই ছাত্রীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ডামুড্যা উপজেলার ছাতিয়ানি এলাকার এক কৃষকের মেয়ে ও কনেশ্বর এস.সি এডওয়ার্ড ইনস্টিটিটিউশনের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী গত ৩০ জুলাই সকাল ৯টার দিকে বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যায়। এ সময় পথে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা মোমিন ব্যাপারী পেছন থেকে ওই ছাত্রীকে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে নৌকায় তুলে নিয়ে চরধানকাঠি গ্রামের হাসান ব্যাপারীর পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। মেয়েটি চিৎকার করলে সাহিদা বেগমসহ স্থানীয় কয়েকজন নারী তাকে উদ্ধার করে। ঘটনার পর মোমেন পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় বিচার পেতে গত ৩১ জুলাই স্থানীয় মাতব্বরদের বিষয়টি জানায় ছাত্রীর পরিবার। কিন্তু স্থানীয় মাতব্বররা থানায় মামলা করবে বলে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছ থেকে ৭ হাজার টাকা নেন। টাকা নেয়ার পর তারা মামলা করা নিয়ে তালবাহানা শুরু করেন। পরে মেয়ের মা শরীয়তপুর আদালতে মোমেন ব্যাপারী ও সহযোগী তার চাচাতো ভাই আবু ব্যাপারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। আদালতে মামলা হওয়ার পর গত ৭ আগস্ট ডামুড্যা থানায় আরেকটি মামলা হয়। ১৭ আগস্ট পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্তে আসে।

কনেশ্বর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য সাজ্জাৎ আলী সাজু বলেন, ঘটনা আরও আগে ঘটেছে। স্থানীয় মাতব্বরদের জন্য মামলা করতে দেরি হয়েছে। পরে ওই মেয়ের পরিবার আমার কাছে আসে, আমি কোর্টে মামলা করার কথা বলি। মেয়েটির যে ক্ষতি করেছে তার সঠিক বিচার হোক।

ওই ছাত্রীর বাবা বলেন, জয়নাল ব্যাপারীর ছেলে মোমেন ব্যাপারী আমার মেয়ের ক্ষতি করেছে। আমি একজন কৃষক। বিচার পেতে স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে গেলে তারা ৭ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু তাদের কাছে গিয়ে বিচার পাইনি। তাই মোমেন ও তার চাচাতো ভাই আবুর বিরুদ্ধে থানায় ও কোর্টে মামলা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমার একটা মাত্র মেয়ে। ওর ক্ষতি হয়ে গেল। আমি গ্রামে মুখ দেখাবো কীভাবে?

ওই ছাত্রী বলেন, মোমেন ব্যাপারী গামছা দিয়ে পেছন থেকে আমার চোখ-মুখ বেঁধে নৌকায় তোলে। পরে একটি ঘরে নিয়ে আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করে। আমি চিৎকার করলে গলা টিপে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।

ডামুড্যা থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) ইমারত হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলার পর মেয়েটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 sorejominbarta.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com