বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মোবাইলে পেমেন্ট করলেই বাড়িতে পৌঁছে যাচ্ছে ইলিশ মাছ সপ্তম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় যুবক গ্রেফতার সাভারে একটি বাড়ির ছাদে উঠে কুপিয়ে গাছ কেটে ফেলা সেই নারী গ্রেপ্তার রেলের জায়গা দখল করে পার্ক নির্মাণ করায় কাজ বন্ধ করে দিলেন রেলমন্ত্রী দুর্বৃত্তদের কোপে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে পৌর কাউন্সিলর পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ১২ বছরের এক কিশোর গ্রেফতার ভুলে এক নয়নের পরিবর্তে আরেক নয়নকে কারাগারে, অতঃপর ২৭ দিন পর মুক্ত পারিবারিক বিরোধের কারণে ঘুমন্ত চাচাতো ভাইকে কুপিয়ে হত্যা ফ্রিতে সিগারেট নিতে গিয়ে পুলিশের কাছে ভুয়া এসআই আটক পদ্মা নদীতে ইলিশ ধরতে গিয়ে দুই স্পিডবোটের সংঘর্ষে এক জেলে নিহত

ভিক্ষা করতে চাই না, প্রতিবন্ধী কোটায় চাকরি চাই

ভোলা প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৭ আগস্ট, ২০১৯
  • ১৫৬ বার পঠিত

ভোলার চরফ্যাশন আবদুল্লাপুর ইউনিয়নের খোরশেদ আলমের ছেলে বরিশাল সরকারি কলেজের এমএ প্রথম বর্ষের ছাত্র পঙ্গু আবু জাফর। সে রিকশা চালক অসহায় বৃদ্ধ বাবার প্রথম সন্তান। একাধিক দালাল চক্র ভিক্ষা বৃত্তিতে তার পরিবারকে উৎসাহ যোগালেও বাবা-মা রাজি হয়নি। তাদের স্বপ্ন ছেলেকে পড়ালেখা করাবে। পড়ালেখা শেষে সরকারি চাকরি করবেন আবু জাফর। বিএ পাস করে যখন এমএ অধ্যায়নরত ঠিক তখনই অসুস্থ্য বাবা-মাসহ ছোট তিন ভাইকে নিয়ে অভাবের কারণে চরম দুর্বিষহ যন্ত্রণার মধ্যে জীবন যাপন করছেন। পরিবারের এই দুঃসময়ে পঙ্গু আবু জাফর মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রীর নিকট প্রতিবন্ধী কোটায় একটি চাকরি পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করেছেন।

পঙ্গু আবু জাফর জানান, ‘৪ বছর বসয়ে আমার টাইফয়েড জ্বর হয়। দীর্ঘ ৬ মাস চিকিৎসা করার পর জ্বর ভাল হলেও দুটি পা নষ্ট হয়ে যায়। সেই থেকে আমি হাঁটতে পারি না, দাঁড়াতে পারি না, দুই হাতে জুতা পরে হাঁটু দিয়ে চলাফেরা করি। আমাকে ভিক্ষা বৃত্তিতে নেয়ার জন্য একাধিক দালাল এসেছে। আমি ভিক্ষাবৃত্তি করে যা উপার্জন করব তার অর্ধেক আমার পরিবার পাবে আর অর্ধেক দালালরা নিবে। আমার বাবা-মা রাজি হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দালালদের যন্ত্রণায় আমি প্রাথমিক শিক্ষা শেষে আমিনাবাদ খালার বাড়ি চলে আসি। তারপর আমিনাবাদ এ. মোতালে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১০ সালে এসএসসি পাশ করে দুলারহাট আদর্শ ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হই। সেখান থেকে এইচএসসি ও বিএ পাস করি। আমি বর্তমানে বরিশাল সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে এমএ ১ম বর্ষে অধ্যায়নরত। আমার বাবা পূর্বে রিকশা চালাতেন। বর্তমানে বাবা ও মা দুজনই অসুস্থ, ছোট ভাইদেরকে অভাব অনটনের কারণে স্কুলে পাঠাতে পারেনি। এক ভাই রাজ মিস্ত্রীর কাজের যুগালী, অন্য ভাই রং মিস্ত্রী কাজ শিখতেছে। সংসারের বড় সন্তান হিসেবে বাব-মার ওষুধ তো নাই এক মুঠো খাবার যোগাতে ব্যর্থ আমি।’

ইতোমধ্যে খাদ্য অধিদপ্তর ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রতিবন্ধী কোঠায় চাকরির জন্য আবেদন করেছি। আমি খুবই চিন্তিত, আমার মতো গরীব ও পঙ্গু ছেলের যেকোন মাধ্যম ছাড়া চাকরি পাওয়া কি সম্ভব?

আবু জাফর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার অসহায় পরিবারের খাবার যোগানো এবং আমার অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসা ও ওষুধ কেনার জন্য আমাকে প্রতিবন্ধী কোটায় চাকরি দেওয়ার প্রয়োজনীয় সু-ব্যবস্থা গ্রহণে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা প্রার্থনা করছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 sorejominbarta.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com