বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন খাগড়াছড়ি

আনিসুর রহমান
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ জুন, ২০১৯
  • ৫৬ বার পঠিত

আবহমান বাংলার প্রকৃতিক সৌন্দর্যের নৈসর্গিক লীলাভূমি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বকোণে এর অবস্থান। খাগড়াছড়ির উঁচু নিচু অসংখ্য পাহাড় আর পাহাড়ের বুকে নাম না জানা হাজারো গাছের সবুজ পাতায় সজ্জিত পাহাড়কে মনে হয় যেন সবুজের অভয়ারণ্য। উঁচু-নিচু ঢেউ তোলা সবুজ পাহাড়ের বুক চিরে কালো পিচের সর্পিল রাস্তা আর পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য যে কোনো পর্যটকের মন কাড়বে এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। পাহাড়, ঝর্ণা আর চা বাগান মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে এখানকার সৌন্দর্য। সবুজে ঘেরা খাগড়াছড়ির প্রবেশমুখেই রামগড় চা বাগান। আরেকটু এগুলেই   রিছাং ঝর্ণা। তারপরেই রয়েছে আলুটিলার রহস্যময় সুরঙ্গ। মনকাড়া এসব পর্যটন কেন্দ্র যেমন আপনাকে আন্দোলিত করবে তেমনি ঈদে এনে দেবে বাড়তি আনন্দ। ৪০ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে এসব পর্যটন স্পট ঘুরে আপনি যেতে পারবেন জেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে নয়নাভিরাম জেলা পরিষদ পার্ক, মায়াবীনি লেক, হেরিটেজ পার্ক। জেলা শহর ছাড়িয়ে পানছড়িতে রয়েছে শান্তিপুর অরণ্য কুটির। দীঘিনালার তৈদুছড়া আর হাজাছড়া হতে পারে এবারের ঈদে আপনার বিনোদনের জন্য সেরা পছন্দ। খাগড়াছড়ি ছাড়িয়ে আরও বিনোদনের প্রত্যাশায় আপনি পাড়ি জমাতে পারেন পাশের জেলা রাঙ্গামাটির সাজেকেও।  গড়াছড়ির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মোহিত করবে যেকোনো পর্যটককে। পাহাড়ের অবারিত সৌন্দর্যের পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৈচিত্রময় জীবন আচার আপনাকে নিয়ে যাবে ভিন্ন এক জগতে। দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ খুব সহজেই আপন করে নিবে প্রকৃতিপ্রেমী ও ভ্রমণ পিপাসুদের। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে সবুজে আবৃত খাগড়াছড়ির সতেজ প্রকৃতির হাতছানি। পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় পাহাড়ি কন্যা খাগড়াছড়ি যেন মুখিয়ে আছে পর্যটকদের অপেক্ষায়। ঈদকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে জেলা শহরের প্রায় সকল হোটেলেই অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে বলে জেলা হোটেল মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে। এবার ঈদের লম্বা ছুটিতে প্রচুর পর্যটকের আগমনে মুখরিত হবে পাহাড়ি কন্যা খাগড়াছড়ি এমনটাই মনে করছে হোটেল কর্তৃপক্ষ। বছরজুড়ে পর্যটকের আনাগোনা থাকলেও ঈদকে কেন্দ্র করে সেই সংখ্যা কয়েকগুণ বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলের ব্যবস্থাপক এ কে এম রফিকুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে ঈদের বুকিং শুরু হয়েছে। আশা করছি অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারের ঈদের ছুটিতে খাগড়াছড়িতে পর্যটকের ঢল নামবে। ঈদকে কেন্দ্র করে ভালো ব্যবসা করবে হোটেল ব্যবসায়ীরা।  ঈদকে সামনে রেখে খাগড়াছড়িতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের পাশাপাশি কাজ করছে জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশ। পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই টহল জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা ট্যুরিস্ট পুলিশের ইনচার্জ সন্তোষ ধামাই জানান, ঈদের পরের তিনদিন পর্যন্ত এ টহল চলবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির বিপরীতে দলের নেতাকর্মীদের ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় বাংলা’ বলার নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এ নির্দেশনার সমালোচনা করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএম) নেতা মহম্মদ সেলিম বলেছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেটাই নকল করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। চন্দ্রকোনায় মমতার গাড়ি বহরের সামনে ‘জয় শ্রী রাম’ জয়ধ্বনি ঘিরে সূত্রপাত হয় বিতর্কের। এরপর নির্বাচনী প্রচারেও ‘জয় শ্রী রাম’ ইস্যুকে ব্যবহার করে বিজেপি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিমবঙ্গ এসে মমতার উদ্দেশে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম দিদি। আমায় জেলে ঢোকান’। মমতা এর জবাবে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম’ বাংলার সংস্কৃতি নয়। বিজেপির স্লোগান তিনি মুখে তুলবেন না। এরপরই ‘জয় শ্রী রাম’র বিপরীতে পাল্টা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হিন্দ’ স্লোগানের প্রচার শুরু করেন মমতা। মমতার জয় বাংলা স্লোগান প্রসঙ্গে রায়গঞ্জের সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘জয় বাংলা’ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্লোগান। মুজিবুর রহমান দিয়েছিলেন। এরা (মমতার তৃণমূল) আসলে নকল করতে অভ্যস্ত।’ নিমতায় মৃত দলীয় নেতার পরিবারকে দেখতে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও এই স্লোগান ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে তিনি এ-ও বলেছেন, প্রথম জয় বাংলা স্লোগান তুলেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মমতার দাবি, বিষয়টা দেশ না, বাংলা ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত।

© All rights reserved © 2019 sorejominbarta.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com