সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:৩৮ অপরাহ্ন

প্রাণসহ তিন কোম্পানির দুধ সংগ্রহ শুরু, স্বস্তিতে খামারিরা

পাবনা প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩১ জুলাই, ২০১৯
  • ৭৭ বার পঠিত

প্রাণসহ ১৪টি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধের উৎপাদন, সরবরাহ, কেনাবেচায় হাইকোর্টের পাঁচ সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞার আদেশ স্থগিত হওয়ার খবরে পাবনার খামারিদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।   আজ  বুধবার পাবনার খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে প্রাণ, মিল্কভিটা ও ব্র্যাক।  আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে বাকি কোম্পানিগুলো দুধ সংগ্রহ করবে বলে জানা গেছে।

খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত দুইদিন দুধ সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় খামারিরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এখন তারা মহাখুশি।

সূত্র মতে, স্বাধীনতার পর বৃহত্তর পাবনার বেড়া, সাঁথিয়া, ফরিদপুর, ভাঙ্গুরা, শাহজাদপুরে ব্যক্তিগত পর্যায়ে এবং বাণিজ্যিকভাবে অনেকগুলো দুগ্ধ উৎপাদন খামার গড়ে উঠেছে। দুগ্ধ উৎপাদন এবং ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এ অঞ্চলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এসব এলাকা এখন দেশের অন্যতম প্রধান দুগ্ধ উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত।

পাবনা জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন হোসেন মন্ডল জানান, পাবনায় প্রতিদিন ১০ লাখ লিটার দুধ উৎপাদিত হয়। জেলায় মোট গাভীর সংখ্যা এক লাখ ৭০ হাজার। মোট খামারির সংখ্যা সাড়ে ছয় হাজার।

খামারিরা জানান, বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি প্রতিদিন খামারিদের কাছ থেকে ৮৫ থেকে ৯০ ভাগ দুধ কিনে থাকে। কিন্ত গত দুইদিন ধরে দুধ সংগ্রকারী এসব প্রতিষ্ঠান খামারিদের কাছ থেকে দুধ না নেয়ায় দুধের বাজার নেমে আসে ২০-২৫ টাকা প্রতি লিটারে। এতে পাবনা জেলার প্রায় সাড়ে ছয় হাজার খামারি মহাবিপাকে পড়েন।

১৪টি কোম্পানির দুধ কেনা বন্ধ থাকায় পাবনায় দুধের রাজধানী খ্যাত ছয় উপজেলায় পানির দরে দুধ বিক্রি করতে বাধ্য হন খামারিরা। এতে ক্ষতির মুখে পড়েন দুগ্ধ খামারিরা। সোমবার থেকে দুধ সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান এসব এলাকার খামারিদের কাছ থেকে দুধ কেনা বন্ধ করে দেয়। পাবনার ডেমড়া, সোনাতলা, বেড়া, নাকালিয়া, আতাইকুলা, গোপালনগর, ভাঙ্গুড়া, চাটমোহরে যেসব দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানি দুধ কিনে থাকে সেসব কোম্পানিও তাদের ক্রয় কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে রাখে। ওইসব এলাকায় প্রতি লিটার দুধ ২০ থেকে ২৫ টাকা দরে নেমে আসে। প্রতিবাদে দুগ্ধ খামারিরা সড়কে দুধ ঢেলে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

গত তিনদিন ধরে পাবনার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, সাঁথিয়া, বেড়া এলাকার খামারিরা বাধ্য হয়ে ছোট বড় খোলাবাজারে বিক্রি করার জন্য প্রচুর দুধ নিয়ে আসেন। কিন্তু দুধের আমদানি পরিমাণের চেয়ে ক্রেতা কম হওয়ায় দুধ অবিক্রিত থেকে যায়। দুধ ফেরত নিয়ে যেতে বাধ্য হন খামারিরা। অবস্থায়  আজ বুধবার সব কোম্পানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় খামারিদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সাঁথিয়ার দুগ্ধ ব্যবসায়ী নব কুমার পাল জানান, এখন শুধু খামারি নয়, এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত সবাই খুশি। তারা স্বচ্ছন্দ্যে ব্যবসা করতে পারবেন।

ডেমরার শ্যামল ঘোষ বলেন, দুধ কেনার খবরে আমরা খুশি।

ভাঙ্গুড়ার খামারি হাসিনুর রহমান বলেন, আমার খামারে প্রতিদিন ৬০ লিটার করে দুধ উৎপাদন করা হয়। দুধ বিক্রির টাকার ওপর ভরসা করে আমি ব্যাংক থেকে তিন লাখ টাকা লোন নিয়ে তিন মাস আগে দুইটি গাভী কিনেছি। ব্যাংকে প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা কিস্তি দিতে হয়। কিন্তু এখন দুধ বিক্রি করতে না পারলে ব্যাংকের লোন পরিশোধ করবো কীভাবে? বাইরে দুধ বিক্রি করতে গেলে ছয়শ থেকে সাতশ টাকা মণ দরে দুধ বিক্রি করতে হয়। ওই টাকায় গাভী প্রতিপালন করবো, নাকি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করবো? এভাবে চলতে থাকলে গাভী বিক্রি করে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় ছিল না। এখন কোম্পানিগুলো দুধ সংগ্রহ করতে পারবে- এমন খবরে আমি আনন্দিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 sorejominbarta.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com