বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন

ইফতার পার্টি না দিয়ে এতিমদের দান করতেন আবদুল কালাম

আনিসুর রহমান
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০১৯
  • ৬৯ বার পঠিত

রমজান মাসে দেশে দেশে ইফতার পার্টি যেন রীতিতে পরিণত হয়েছে। ধনী-গরিব, আমির-ফকির সবার মধ্যেই ছোট-বড় ইফতার পার্টি দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি এ পি জে আবদুল কালাম ছিলেন এর উল্টো। তিনি বিরল এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তিনি ইফতার পার্টি না দিয়ে এতিমদের দান করতেন। জানা যায়, তারই সাবেক সচিব অবসরপ্রাপ্ত আইএস কর্মকর্তা পি এম নায়ারে চমকপ্রদ এ তথ্য জনগণের সামনে উপস্থাপন করেছেন। নায়ারের একটি লেখা ও সাক্ষাৎকারে এ তথ্য পাওয়া গিয়েছে। ‘দি কালাম এফেক্ট, মাই ইয়ার্স উইথ দি প্রেসিডেন্ট’ শিরোনামে লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল ২০০২ সালে। সেটি প্রচার হয়েছিল দূরদর্শনের তামিলভাষী আঞ্চলিক একটি চ্যানেলে।   পি এম নায়ারে সেখানে উল্লেখ করেন, ২০০২ সালে আবদুল কালাম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন। তখন জুলাই-আগস্টে রমজান মাস ছিল। সে সময় ভারতীয় রাষ্ট্রপতির জন্য নিয়মিত ইফতার পার্টি দেওয়ার রীতি ছিল। ফলে নায়ারে ইফতার পার্টির উদ্যোগ নেন। কিন্তু এ উদ্যোগ নেওয়ার পর ড. আবদুল কালাম তাকে ডাকলেন। ড. কালাম তার সচিবকে প্রশ্ন করলেন, ‘কেন আমি একটি পার্টির আয়োজন করব? কারণ পার্টিতে যারা আসবেন, তারা সবসময় ভালো খাবার খান।’ এরপর সাবেক এ রাষ্ট্রপতি আরও জানতে চান, ‘ইফতার পার্টিতে কত খরচ হয়?’ তখন তাকে বলা হয়, প্রায় ২২ লাখ রুপি। শুনে ড. কালাম নির্দেশ দেন, এ অর্থ দিয়ে খাবার, পোশাক ও কম্বল কিনে কয়েকটি এতিমখানায় দান করতে।  এরপর নির্দিষ্ট এতিমখানা বাছাই করতে রাষ্ট্রপতি ভবনের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়। এতিমখানা বাছাইয়ের পর ড. কালাম নায়ারেকে তার কক্ষে ডাকলেন এবং এক লাখ রুপির একটি চেক দিয়ে দিলেন। বললেন, ‘আমার ব্যক্তিগত সঞ্চয় থেকে কিছু অর্থ দান করেছি। এ তথ্য কারো কাছে প্রকাশ করা যাবে না।’ কিন্তু ব্যথিত হয়ে নায়ারে তার সামনেই বললেন, ‘স্যার, আমি এখনই বাইরে যাব এবং সবাইকে বলব। কারণ, মানুষের জানা উচিত—এখানে এমন একজন মানুষ রয়েছেন—তার যা অর্থ খরচ করা উচিত, তিনি সেটা শুধু দানই করেননি, সেইসঙ্গে নিজের অর্থও বিলিয়ে দিয়েছেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির বিপরীতে দলের নেতাকর্মীদের ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় বাংলা’ বলার নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এ নির্দেশনার সমালোচনা করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএম) নেতা মহম্মদ সেলিম বলেছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেটাই নকল করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। চন্দ্রকোনায় মমতার গাড়ি বহরের সামনে ‘জয় শ্রী রাম’ জয়ধ্বনি ঘিরে সূত্রপাত হয় বিতর্কের। এরপর নির্বাচনী প্রচারেও ‘জয় শ্রী রাম’ ইস্যুকে ব্যবহার করে বিজেপি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিমবঙ্গ এসে মমতার উদ্দেশে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম দিদি। আমায় জেলে ঢোকান’। মমতা এর জবাবে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম’ বাংলার সংস্কৃতি নয়। বিজেপির স্লোগান তিনি মুখে তুলবেন না। এরপরই ‘জয় শ্রী রাম’র বিপরীতে পাল্টা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হিন্দ’ স্লোগানের প্রচার শুরু করেন মমতা। মমতার জয় বাংলা স্লোগান প্রসঙ্গে রায়গঞ্জের সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘জয় বাংলা’ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্লোগান। মুজিবুর রহমান দিয়েছিলেন। এরা (মমতার তৃণমূল) আসলে নকল করতে অভ্যস্ত।’ নিমতায় মৃত দলীয় নেতার পরিবারকে দেখতে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও এই স্লোগান ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে তিনি এ-ও বলেছেন, প্রথম জয় বাংলা স্লোগান তুলেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মমতার দাবি, বিষয়টা দেশ না, বাংলা ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত।

© All rights reserved © 2019 sorejominbarta.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com