মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন

‘মা ওরা আমাকে লাশ বানিয়ে পাঠাবে’

ভোলা প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ জুলাই, ২০১৯
  • ১৫৭ বার পঠিত

‘মাগো আমাকে আর জোর করে ঢাকায় পাঠিও না। আমার স্বামী প্রতিদিন আমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে। একা বাসায় কাঁদতে কাঁদতে চোঁখের জলও শুকিয়ে গেছে আমার। প্রতিদিন বলে- তুই মর। তুই মরলে আমি তোর চেয়ে সুন্দর মেয়ে পাবো। তোর বাবা মা আমার বাবার সম্পদ দেখে তোকে আমার কাছে বিয়ে দিয়েছে। আমি অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক করলে তাতে তোর কি?’ এভাবেই কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়েকে স্বামীর নির্যাতনের বর্ণনা দেন নিহত বর্ণালী মজুমদার বন্যার মা শিখা রানী সেন।

শেষ পর্যন্ত বর্ণালীর কথাই সত্য হল। লাশ হয়েই বাপের ভিটায় ফিরলেন বর্ণালী মজুমদার বন্যা। গত ২ জুলাই রাতে বনশ্রী এ ব্লকের ২ নম্বর সংলগ্ন একটি বাসা থেকে রাত ১১ টার দিকে অচেতন অবস্থায় বর্ণালীর স্বামী মিথুন তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, ৫ বছর পূর্বে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের বাবুল মজুমদার এর মেয়ে বর্ণালী মজুমদারের সাথে পৌর ৬নং ওয়ার্ডের চুনি লাল দে’র ছেলে মিথুন দে (রাহুলের) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে প্রায় প্রতিনিয়ত মিথুন ও মিথুনের পরিবার নিহত বর্ণালীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত। নির্যাতন করে কয়েকবার বাসা থেকেও বের করে দেয়। পরে বর্ণালী ঢাকায় স্বামীর বাসা থেকে চলে আসে বোরহানউদ্দিনে। এরপর বর্ণালীর স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি বর্ণালীর মা-বাবাকে অনুরোধ করে বর্ণালীকে অনেকটা জোর করেই ঢাকায় বনশ্রীতে স্বামীর বাসায় পাঠায়।

পাঠানোর সময় বর্ণালী তার মা-বাবা ও আত্মীয়স্বজনের উদ্দেশ্য করে বলেন, আমি আর ঢাকা যাবো না। আমার স্বামী ও শ্বশুর শাশুড়ি আমাকে লাশ বানিয়ে তোমাদের কাছে পাঠাবে।

গত ২ জুলাই রাতে বনশ্রী এ ব্লকের ২ নম্বর সংলগ্ন একটি বাসা থেকে রাত ১১ টার দিকে অচেতন অবস্থায় বর্ণালীর স্বামী মিথুন তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনার পর স্বামী মিথুনের খালাতো ভাই এসআই দিপক দে ঢাকা কমিশনার অফিসে কর্মরত থাকায় সে নিজেই মিথুনকে রামপুরা থানায় নিয়ে যায়। পরে মৃত বর্ণালীর পরিবার রামপুরা থানায় গিয়ে দেখেন, এসআই দিপক থানায় যাতে মামলা দিতে না পারে তার জন্য তদবির চালাচ্ছেন। বর্তমানে মৃত বর্ণালীর দেড় বছরের কন্যা সন্তান ও কাজের মেয়ে এসআই দিপকের বাসায় আছে বলে জানিয়েছেন দিপক।

নিহত বর্ণালীর পরিবার আরো জানান, তারা রামপুরা থানার অভিযোগে বর্ণালীর স্বামী মিথুন দে (রাহুল), শাশুড়ি দিপ্তি রানী দে, শ্বশুর চুনি লাল দে, প্রিতম দে ও কাজের মেয়েসহ মামলা করতে গেলে ওসি মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি
তাদেরকে জানান, শুধু মিথুন কে আসামি করে এজাহার দায়ের করলেই তিনি মামলা গ্রহণ করবেন।

এ ব্যাপারে ওসি আ. কুদ্দুস ফকিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কি কারণে বর্ণালীর মৃত্যু হয়েছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে পর প্রকৃত ঘটনা অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেব।

এদিকে বর্তমানে বর্ণালী কি কারণে মারা গেছেন তার সঠিক তদন্ত রামপুরা থানায় হবে কিনা তা নিয়ে সংশয়ে অছেন বর্ণালীর মা-বাবা। তারা মামলার সঠিক তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 sorejominbarta.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com