বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ০৬:৪১ পূর্বাহ্ন

মাতৃভাষায় বই আছে, নেই প্রশিক্ষিত শিক্ষক

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯
  • ৭০ বার পঠিত

শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ না থাকায় পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। ২০১৯ সালে এ পাঠ্যক্রম প্রাক-প্রাথমিক থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হলেও প্রশিক্ষিত শিক্ষক সঙ্কটে আলোর মুখ দেখছে না মাতৃভাষায় পাঠদান কার্যক্রম। ফলে সরকারের এ প্রশংসনীয় উদ্যোগটির কোনো সুফল পাচ্ছে না ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে ২০১৭ সালে স্ব-স্ব মাতৃভাষায় পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্ত হলেও খাগড়াছড়িতে কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ না থাকায় এ উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে টানা তৃতীয়বারের মতো খাগড়াছড়িতে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষায় রচিত পাঠ্যপুস্তক তুলে দেয়া হয় শিক্ষার্থীদের হাতে। স্ব-স্ব মাতৃভাষার বই পেয়ে শিক্ষার্থীরাও উচ্ছ্বসিত। কিন্তু শিক্ষক সঙ্কটে বঞ্চিত হচ্ছে এসব শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছর খাগড়াছড়ির ৭০৫টি বিদ্যালয়ের ৩০ হাজার ১২৯ জন শিক্ষার্থীর মাঝে স্ব স্ব মাতৃভাষায় প্রণীত বই বিতরণ করা হয়। বছরের প্রথম দিন স্ব-স্ব মাতৃভাষায় রচিত বই হাতে পেলেও প্রশিক্ষিত শিক্ষক না থাকায় পাঠদান কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত অনেকে।

শিক্ষানুরাগীরা মনে করছেন, প্রশিক্ষিত শিক্ষক সঙ্কটের ফলে এ শিক্ষা কার্যক্রম শিশুদের জন্য বোঝা হতে পারে।

প্রশিক্ষণ না থাকায় মাতৃভাষায় পাঠদান শুরু যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন ঠাকুরছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সায়েভাই অং চৌধুরী।

অন্যদিকে মাতৃভাষায় পাঠদানে শিক্ষক সঙ্কটের কথা জানিয়েছেন খাগড়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশাপ্রিয় ত্রিপুরা।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মতে, মাতৃভাষায় পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষিত শিক্ষক সঙ্কট নিরসন করা না হলে বড় ধরনের ঘাটতি থেকেই যাবে।

এদিকে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে স্ব-স্ব মাতৃভাষায় রচিত বই বিতরণ সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগ মন্তব্য করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) লেখক প্যানেল (ককরবক ভাষার) দলনেতা মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা মনে করেন, এ বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা না হলে এর সুফল পাওয়া যাবে না। পিটিআই বা উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের মাধ্যমে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি।

গেল বছর থেকেই প্রশিক্ষণ শুরু করার কথা থাকলেও পিইডিপি-৩ প্রকল্পের কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে থাকায় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা যায়নি জানিয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন জানান, পিইডিপি-৪ থেকে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ শুরুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। চলতি বছর প্রশিক্ষণের জন্য চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির বিপরীতে দলের নেতাকর্মীদের ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় বাংলা’ বলার নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এ নির্দেশনার সমালোচনা করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএম) নেতা মহম্মদ সেলিম বলেছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেটাই নকল করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। চন্দ্রকোনায় মমতার গাড়ি বহরের সামনে ‘জয় শ্রী রাম’ জয়ধ্বনি ঘিরে সূত্রপাত হয় বিতর্কের। এরপর নির্বাচনী প্রচারেও ‘জয় শ্রী রাম’ ইস্যুকে ব্যবহার করে বিজেপি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিমবঙ্গ এসে মমতার উদ্দেশে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম দিদি। আমায় জেলে ঢোকান’। মমতা এর জবাবে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম’ বাংলার সংস্কৃতি নয়। বিজেপির স্লোগান তিনি মুখে তুলবেন না। এরপরই ‘জয় শ্রী রাম’র বিপরীতে পাল্টা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হিন্দ’ স্লোগানের প্রচার শুরু করেন মমতা। মমতার জয় বাংলা স্লোগান প্রসঙ্গে রায়গঞ্জের সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘জয় বাংলা’ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্লোগান। মুজিবুর রহমান দিয়েছিলেন। এরা (মমতার তৃণমূল) আসলে নকল করতে অভ্যস্ত।’ নিমতায় মৃত দলীয় নেতার পরিবারকে দেখতে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও এই স্লোগান ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে তিনি এ-ও বলেছেন, প্রথম জয় বাংলা স্লোগান তুলেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মমতার দাবি, বিষয়টা দেশ না, বাংলা ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত।

© All rights reserved © 2019 sorejominbarta.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com