বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন

‘মৃত রোগী’র কিডনি জীবিতের দেহে প্রতিস্থাপন এ সপ্তাহে!

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৯
  • ৫৯ বার পঠিত

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ব্রেনডেড ঘোষিত (রোগীর হার্টবিট থাকলেও লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেললে মারা যাবে এমন রোগী) রোগীর কাছ থেকে সংগৃহীত কিডনি বিকল রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন হতে পারে আগামী সপ্তাহেই। দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশেষজ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে দেশীয় কিডনি বিশেষজ্ঞ সার্জনরা অস্ত্রোপচার কাজে অংশগ্রহণ করবেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের কিডনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন আহমেদ এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ কিডনি ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশেষজ্ঞ দল এক সপ্তাহের (১১-১৭ ফেব্রুয়ারি) জন্য বাংলাদেশে আসছেন।

বাংলাদেশে অবস্থানকালে তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), বারডেম, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) ও কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) পরিদর্শন করবেন।

এছাড়া তারা বাংলাদেশি কিডনি বিশেষজ্ঞদের জীবিত ও মৃত রোগীর দেহ থেকে কিডনি সংগ্রহ করে তা কিডনি বিকল রোগীদের দেহে প্রতিস্থাপন করা হয় এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।

এছাড়া কোনো আইসিইউতে ব্রেনডেড ঘোষিত রোগীর অভিভাবকদের সম্মতি সাপেক্ষে তাকে (রোগীকে) মৃত ঘোষণা করে ওই রোগীর দেহ থেকে কিডনি সংগ্রহ করে প্রতিস্থাপন করা হতে পারে।

তিনি বলেন, অনেক সময় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রোগীকে ব্রেনডেড ঘোষণা করা হয়। এ ধরনের রোগীর হার্টবিট চললেও মস্তিষ্কসহ অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কাজ করে না। এসব রোগী লাইফ সাপোর্ট নিয়ে নামেমাত্র বেঁচে থাকেন। লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেললে তারা মারা যান। এ ধরনের রোগী পাওয়া গেলে এবং অভিভাবকরা রাজি হলেই তবেই মৃত রোগীর দেহ থেকে দুটো কিডনি দুইজন রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হবে।

ইতোমধ্যেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই কিডনিই বিকল এমন কমপক্ষে ৭-৮ জন কিডনি রোগীকে ক্যাডাভেরিক ট্রান্সপ্লান্ট করতে তৈরি রাখা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৮২ সাল থেকে বাংলাদেশে কিডনি প্রতিস্থাপন হচ্ছে। কিন্তু আগে আইনি বাধা থাকায় মৃত রোগীর দেহ থেকে কিডনি সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু গত বছর বিদ্যমান অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আইনের সংশোধনীতে মৃত রোগীর দেহ থেকে কিডনি সংগ্রহ করে অস্ত্রোপচার করতে যাবে- এই মর্মে আইনের সংশোধনী হওয়ায় বর্তমানে মৃত রোগীর দেহ থেকে কিডনি সংগ্রহে আর কোনো বাধা নেই।

তবে আইনি বাধা না থাকলেও এখনও ব্রেনডেড ঘোষিত রোগীর দেহ থেকে কিডনি সংগ্রহ করতে পরিবারগুলোতে মানসিকতা তৈরি হয়নি। ব্রেনডেড ঘোষিত রোগীর অভিভাবকদের সম্মতি সাপেক্ষে দুটো কিডনি পাওয়া গেলে ঢামেক, বিএসএমএমইউ কিংবা কিডনি হাসপাতালের যেকোনো দুটিতে দুজন কিডনি রোগীর দেহে প্রতিস্থাপিত হবে।

অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দিন বলেন, মৃত রোগীর দেহ থেকে কিডনি সংগ্রহ যতটা সহজ মনে হচ্ছে ততটা সহজ হবে না। পরিবার থেকে বিরাট বাধা আসবে। তবে তারা সকলেই কামনা করছেন যেন আগামী সপ্তাহেই দেশের প্রথম ক্যাডাভেরিক কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট হবে এমনটা আশা করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির বিপরীতে দলের নেতাকর্মীদের ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় বাংলা’ বলার নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এ নির্দেশনার সমালোচনা করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএম) নেতা মহম্মদ সেলিম বলেছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেটাই নকল করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। চন্দ্রকোনায় মমতার গাড়ি বহরের সামনে ‘জয় শ্রী রাম’ জয়ধ্বনি ঘিরে সূত্রপাত হয় বিতর্কের। এরপর নির্বাচনী প্রচারেও ‘জয় শ্রী রাম’ ইস্যুকে ব্যবহার করে বিজেপি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিমবঙ্গ এসে মমতার উদ্দেশে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম দিদি। আমায় জেলে ঢোকান’। মমতা এর জবাবে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম’ বাংলার সংস্কৃতি নয়। বিজেপির স্লোগান তিনি মুখে তুলবেন না। এরপরই ‘জয় শ্রী রাম’র বিপরীতে পাল্টা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হিন্দ’ স্লোগানের প্রচার শুরু করেন মমতা। মমতার জয় বাংলা স্লোগান প্রসঙ্গে রায়গঞ্জের সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘জয় বাংলা’ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্লোগান। মুজিবুর রহমান দিয়েছিলেন। এরা (মমতার তৃণমূল) আসলে নকল করতে অভ্যস্ত।’ নিমতায় মৃত দলীয় নেতার পরিবারকে দেখতে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও এই স্লোগান ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে তিনি এ-ও বলেছেন, প্রথম জয় বাংলা স্লোগান তুলেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মমতার দাবি, বিষয়টা দেশ না, বাংলা ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত।

© All rights reserved © 2019 sorejominbarta.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com