বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

স্বপ্নের প্রবাসে এসেই স্বপ্নভঙ্গ হাজার তরুনের।

মোঃরফিকুল ইসলাম, আলহাসা প্রতিনিধিঃসৌদি আরব।
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
  • ১৫৯ বার পঠিত

মোঃরফিকুল ইসলাম, আলহাসা প্রতিনিধিঃসৌদি আরব।

কৈশোর পেরিয়ে লাখো তরুন স্বপ্ন দেখেন উজ্জল ভবিষ্যতের। নিজের পায়ে দাড়িয়ে পরিবারের সবার স্বচ্ছল আগামীর স্বপ্ন দেখে হাজারো যুবক।কিন্তু বর্তমান পরিস্তিতিতে চাকরি নামক সোনার হরিণ সবার কপালে জুটেনা।কিংবা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি হয়না অনেকের। তাই হতাশাগ্রস্ত হয়ে যায় অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক।এ সুযোগে এক শ্রেনীর অসাধু দালাল চক্র তাদের কে ভাল বেতনের লোভ দেখিয়ে বিদেশ যাওয়ার প্রলোভন দেখায়।পেছনে পরিবার আর সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এই হাতাশাগ্রস্ত যুবকরা এসব দালালদের ফাঁদে পা দেয়।এ সুযোগে এসব দালালরা লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে অনেক পরিবার তাদের জমিজমা এবং ভিটেমাটি বিক্রি করে টাকা তুলে দেয় দালালের হাতে।বর্তমানে প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত আছেন।এর সিংহ ভাগই আছেন মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে।অভিবাসন প্রত্যাশী বাংলাদেশিদের পছন্দের তালিকায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব সব সময় শীর্ষে।ধর্মীয় অনুভূতি আর ভাল বেতনের আশায় অনেকেই কর্মক্ষত্র হিসেবে সৌদি আরব কে বেছে নেন।লোহিত সাগর এবং আরব সাগরের কোলঘেষা সৌদি আরবে দীর্ঘদিন বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ধ থাকার পর ২০১৬সালের শুরুতে আবার চালু করা হয় বাংলাদেশী শ্রমিক নিয়োগ।বাংলাদেশ সরকারের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্রী ডাঃ দীপু মনি এবং সৌদি আরবের শ্রম মন্ত্রনালয়ের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর ধাপে ধাপে শুরু হয় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগ।ভিসা চালু হওয়ার খবরে বিভিন্ন এজেন্সির অফিসে হুমড়িখেয়ে পড়েন বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষ।দালালদের মাধ্যমে এসব মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এসব এজেন্সি গুলো।অতঃপর এসব মানুষ গুলো পাড়ি জমান স্বপ্নের প্রবাসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে।এক সূত্র অনুযায়ী ২০১৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সত লক্ষ বাংলাদেশি শ্রমিক সৌদি আরব এসেছে।এদের অধিকাংশই অদক্ষ শ্রমিক।অনেকই আবার এখানে আসার পর কফিল(সৌদি আরবে তাদের স্পন্সর) খুজে পাননি।কেউবা আবার নাম সর্বস্ব কিছু কোম্পানীতে এসেছেন।এসব কোম্পানীর বাংলাদেশী এজেন্টরা শ্রমিকদের থাকা খাওয়া এবং আকামা(সৌদি আরবে থাকার অস্থায়ী অনুমতি) স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার নিশ্চয়তা দিলেও বাস্তবে হয়েছে তার উল্টো।অনেক কোম্পানি এসব শ্রমিকদের এয়ারপোর্ট থেকে আনার লোকও পাঠায় নি।ফলে প্রবাসে এসেও তারা এক প্রকার অনিশ্চিত জীবন যাপন করছেন।বাড়িতে মা বাবা শুনলে কষ্ট পাবে এমন চিন্তা করে অনেকে এসব কথা পরিবারে জানান নি বলেও জানান।এমনই কয়েক জন ভুক্তভোগির সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। কথা হয় পাবনার ঈশ্বরদির মাসুদ রহমানের সঙ্গে।তিনি জানান,দেশে মোটামুটি কাজ করে সংসার চালাতেন।একদিন তার সাথে কথা হয় পুরাতন ঈশ্বরদীর ভিসার দালাল রবিউলের সাথে।রবিউল জানায় তার কাছে ভাল ভিসা আছে।সৌদি আরব গেলে মাসে প্রায় এক লক্ষ টাকা রোজগার করা যাবে।তার কথায় প্রভাবিত হয়ে ধার দেনা করে তার হাতে প্রায় সাড়ে ছয়লক্ষ টাকা তুলে দেই।কথা ছিল সে আমার আকামা বানিয়ে দেবে।কিন্তু এখানে আসার পর সে আমার সাথে চিটারি করে।আমাকে যে কাজের কথা বলে আনছে সে কাজের ভিসা সে আমাকে দেয় নাই।আমাকে অন্যপেশার একটি কমদামের ভিসা দিয়েছে।এখন আমি সে পেশার কাজ খুজে পাইতেছিনা।কাজ না পাওয়ার কারনে আমি খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতেছি।দেশেও আমার পরিবার অনেক কষ্টে দিন যাপন করতেছে।এদিকে এপ্রতিবেদকের সাথে কথা হয় লক্ষীপুরের সাহিন এর সাথে। সে জানায়, দালালের মাধ্যমে আল মানাজিল নামের একটি কোম্পানীতে আসছি।গত তিনমাস যাবত কোম্পানি আমাদের কাজ দেয়না এবং খাওয়ার জন্যও কোন পয়সা দেয়নি।আমরা কয়েকজন বাংলাদেশী এখানে না খেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।প্রায় একই রকম কথা আরো জানান, বাগের হাটের জলিল,নরসিংদীর আওলাদ হোসেন,টাংগাইলের দেলোয়ার হোসেন সহ আরো অনেকে।সকলের একটাই দাবি আর যেনো কোন শ্রমিক দালালের খপ্পরে পড়ে প্রতারনার শিকার না হয়।এ ব্যাপারে প্রবাসীকল্যান মন্ত্রনালয়ের কঠোর নজরদারির জন্য তারা সকলে সরকারের নিকট আবেদন জানিয়েছেন।পাশাপাশি সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের নিকট এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন এসব ভুক্তভোগিরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

© All rights reserved © 2019 sorejominbarta.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com