মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন

২০০ টাকার ভাড়া ছয়শ’ টাকা নিচ্ছে লোকাল বাসগুলো

আনিসুর রহমান
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ জুন, ২০১৯
  • ৪৯ বার পঠিত

রাজশাহী থেকে ঢাকায় ফেরার পথেও ভোগান্তি পিছু নিয়েছে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের। সকাল থেকেই ট্রেনে-বাসে লক্ষ্য করা গেছে বাড়তি ভিড়। আসন না পেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে গন্তব্যে পাড়ি দিচ্ছেন লোকজন।

আজও শিডিউল বিপর্যয় ছিল ট্রেনে। দুই ঘণ্টা ৩৬ মিনিট দেরিতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন ছেড়েছে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ট্রেন সিল্কসিটি এক্সপ্রেস। ফলে রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মে অপেক্ষমাণ মানুষের দুর্ভোগের অন্ত ছিল না। সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল ট্রেনটির। অনেকেই আগাম টিকিট কেটে চেপেছেন ট্রেনে। কিন্তু অনেকেই অতিরিক্ত যাত্রী হয়েছেন। কর্মস্থলে ফেরার তাড়ায় ভোগান্তির কথা মাথায় রাখছে না লোকজন।

ট্রেনের পাশাপাশি বাসেও বেড়েছে ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ। দীর্ঘ অপেক্ষার পর গন্তব্যে পাড়ি দিতে হচ্ছে বাসযাত্রীদের। নগরীর শিরোইল-ঢাকা বাসস্ট্যান্ড ও ভদ্রা বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা গেছে, অপেক্ষমাণ মানুষের সারি। প্রতিদিন দুই শতাধিক বাস ছেড়ে যাচ্ছে ঢাকার উদ্দেশ্যে। টিকিট না পেয়ে অনেকেই লোকাল বাসে চেপে পাড়ি দিচ্ছেন গন্তব্যে। তবে এসব বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীরা।

যাত্রীরা বলছেন, ঢাকা যেতে লোকাল বাসে ৬০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। অথচ অন্যান্য সময় সর্বোচ্চ ২০০ টাকায় নিয়ে যেত বাসগুলো। আসন না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাড়তি ভাড়া গুনছেন যাত্রীরা।

রাজশাহী মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন পরিচালিত চেকপোস্টে থাকা মোহাম্মদ মোমিন জানান, বাসের ছাদে কোনো যাত্রী পরিবহন করতে দেয়া হচ্ছে না। তবে সকাল থেকে বাসের চাহিদা বেশি থাকায় লোকাল বাসের সংখ্যা বেড়েছে।

জানতে চাইলে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের সুপারিনটেনডেন্ট আবদুল করিম জানান, রাজশাহী থেকে সব ট্রেন সময়মতো ছাড়লেও দুই ঘণ্টা ৩৬ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে সিল্কসিটি এক্সেপ্রেস। প্রতিটি ট্রেনই যাত্রী বোঝাই করে সময়মতো রাজশাহী থেকে ঢাকা যাচ্ছে।

তবে আর কোনো ট্রেন যাতে শিডিউল বিপর্যয় না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। লাইনের ধীরগতি এবং বাড়তি চাপে যাত্রীদের স্টেশনে নামতে দেরি হচ্ছে। এটা শিডিউল বিপর্যয় বলে জানান তিনি।

ট্রেনের ছাদে যাত্রীরা যাত্রা করলেও কোনো বাধা দিতে দেখা যায়নি রেলওয়ের নিরাপত্তাকর্মী ও জিআরপি পুলিশকে। তারা ছিলেন নীরব ভূমিকায়। এমনকি ট্রেন প্লাটফর্মে আসার পরও তাদের সেখানে দেখা যায়নি। তবে ট্রেনের ছাদে যাত্রীদের ওঠার খবর তাদের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন রাজশাহী জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ ইকবাল।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির বিপরীতে দলের নেতাকর্মীদের ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় বাংলা’ বলার নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এ নির্দেশনার সমালোচনা করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএম) নেতা মহম্মদ সেলিম বলেছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেটাই নকল করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। চন্দ্রকোনায় মমতার গাড়ি বহরের সামনে ‘জয় শ্রী রাম’ জয়ধ্বনি ঘিরে সূত্রপাত হয় বিতর্কের। এরপর নির্বাচনী প্রচারেও ‘জয় শ্রী রাম’ ইস্যুকে ব্যবহার করে বিজেপি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিমবঙ্গ এসে মমতার উদ্দেশে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম দিদি। আমায় জেলে ঢোকান’। মমতা এর জবাবে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম’ বাংলার সংস্কৃতি নয়। বিজেপির স্লোগান তিনি মুখে তুলবেন না। এরপরই ‘জয় শ্রী রাম’র বিপরীতে পাল্টা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হিন্দ’ স্লোগানের প্রচার শুরু করেন মমতা। মমতার জয় বাংলা স্লোগান প্রসঙ্গে রায়গঞ্জের সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘জয় বাংলা’ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্লোগান। মুজিবুর রহমান দিয়েছিলেন। এরা (মমতার তৃণমূল) আসলে নকল করতে অভ্যস্ত।’ নিমতায় মৃত দলীয় নেতার পরিবারকে দেখতে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও এই স্লোগান ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে তিনি এ-ও বলেছেন, প্রথম জয় বাংলা স্লোগান তুলেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মমতার দাবি, বিষয়টা দেশ না, বাংলা ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত।

© All rights reserved © 2019 sorejominbarta.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com