মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন

বাজেট অধিবেশন বসছে কাল

আনিসুর রহমান
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ জুন, ২০১৯
  • ৪৩ বার পঠিত

জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন বসছে আগামীকাল মঙ্গলবার (১১ জুন)। ওই দিন বিকেল ৫টায় সংসদ ভবনে এ অধিবেশন শুরু হবে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট পেশ করা হবে ১৩ জুন বৃহস্পতিবার।

বাজেট উত্থাপনের পর ২৭ বা ২৯ জুনের মধ্যে সাধারণ আলোচনা শেষ করে অর্থ বিল পাস হবে। এরপর ৩০ জুন প্রস্তাবিত বাজেট পাস হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন অর্থবছর কার্যকর হবে।

এ অধিবেশন কতদিন চলবে তা কার্য-উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে। মঙ্গলবার অধিবেশন শুরুর একঘণ্টা আগে এ কমিটির বৈঠক হবে।

জানা গেছে, ১৩ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আসছে বাজেট আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। এ বাজেটে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দুই দিককে সমান গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নির্বাচনী ইশতেহার আর অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আয়-ব্যয় তথা প্রবৃদ্ধির সুষম বণ্টনে বিশেষ নজর দেয়া হচ্ছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের নতুন বাজেটের আকার কিছুটা বাড়িয়ে পাঁচ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বাজেট করা হয়েছে।

তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দেয়ার আগে এর আকারেও পরিবর্তন আসতে পারে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ইতিহাস সৃষ্টিকারী। যার পরিমাণ তিন লাখ ৭২ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছর ছিল তিন লাখ ৩৯ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে ৩২ হাজার কোটি টাকা। আয়-ব্যয়ের বিশাল লক্ষ্যমাত্রায় ঘাটতিও হবে এ যাবতকালের সবচেয়ে বড়। যার পরিমাণ দেড় লাখ কোটি টাকারও বেশি।

চলতি অর্থবছরের বাজেট চার লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা। বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তার ওপর নির্ভর না করে ধীরে ধীরে নিজস্ব অর্থায়নে বাজেট প্রণয়নের কথা ভাবছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী বাজেটে আয়কর ও ভ্যাটের আওতা বাড়ানো হচ্ছে।

বাজেট অধিবেশন সম্পর্কে জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী  বলেন, ‘বাজেট অধিবেশন হওয়ায় সংসদ সচিবালয় নানা প্রস্তুতি নিয়েছে। বাজেট পেশের দিন রাষ্ট্রপতি, প্রধান বিচারপতিসহ বিশিষ্টজনরা সংসদে উপস্থিত থাকেন। এ জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হয়। এবারও তা করেছে সংসদ। প্রস্তুত রাখা হয়েছে বাজেট ইনফরমেশন হেল্প ডেস্ক। এ ডেস্ক থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাবেন এমপিরা।’

জানা গেছে, এটি চলমান একাদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। এর আগে দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়েছিল ২৪ এপ্রিল। মাত্র পাঁচ কার্যদিবস চলা এ অধিবেশন শেষ হয় ৩০ এপ্রিল। সংবিধান অনুযায়ী একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার পর ৬০ দিনের মধ্যে আরেকটি অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির বিপরীতে দলের নেতাকর্মীদের ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় বাংলা’ বলার নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এ নির্দেশনার সমালোচনা করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএম) নেতা মহম্মদ সেলিম বলেছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেটাই নকল করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। চন্দ্রকোনায় মমতার গাড়ি বহরের সামনে ‘জয় শ্রী রাম’ জয়ধ্বনি ঘিরে সূত্রপাত হয় বিতর্কের। এরপর নির্বাচনী প্রচারেও ‘জয় শ্রী রাম’ ইস্যুকে ব্যবহার করে বিজেপি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিমবঙ্গ এসে মমতার উদ্দেশে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম দিদি। আমায় জেলে ঢোকান’। মমতা এর জবাবে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম’ বাংলার সংস্কৃতি নয়। বিজেপির স্লোগান তিনি মুখে তুলবেন না। এরপরই ‘জয় শ্রী রাম’র বিপরীতে পাল্টা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হিন্দ’ স্লোগানের প্রচার শুরু করেন মমতা। মমতার জয় বাংলা স্লোগান প্রসঙ্গে রায়গঞ্জের সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘জয় বাংলা’ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্লোগান। মুজিবুর রহমান দিয়েছিলেন। এরা (মমতার তৃণমূল) আসলে নকল করতে অভ্যস্ত।’ নিমতায় মৃত দলীয় নেতার পরিবারকে দেখতে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও এই স্লোগান ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে তিনি এ-ও বলেছেন, প্রথম জয় বাংলা স্লোগান তুলেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মমতার দাবি, বিষয়টা দেশ না, বাংলা ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত।

© All rights reserved © 2019 sorejominbarta.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com