মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০১৯, ০৭:২৯ পূর্বাহ্ন

রাঙামাটিতে মালবাহী ট্রাকে সন্ত্রাসীদের আগুন

আনিসুর রহমান
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১০ জুন, ২০১৯
  • ৪৭ বার পঠিত

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলায় একটি মালবাহী ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। আজ সোমবার সকাল ৬টার দিকে উপজেলার বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা সড়কের রাবার বাগান এলাকায় ট্রাকে এ আগুন দেয় সন্ত্রাসীরা।

গাড়ির হেলপার ও স্থানীয়রা জানান, আজ সকাল ৬টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে বাঘাইছড়িগামী একটি মালামাল বোঝাই ট্রাক অস্ত্রের মুখে থামিয়ে চালক ও হেলপারকে নামিয়ে পেট্রোল ঢেলে গাড়িতে আগুন দেয় চার সন্ত্রাসী। এসময় চারজনের হাতেই অস্ত্র ছিল। আগুনে গাড়িতে থাকা ১০ লাখ টাকার মুদিমালসহ ট্রাকটি পুড়ে যায়।

এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ ঘটনার পরপরই বাঘাইহাট জোন ও হাজাছড়া ৫৪ বিজিবির টহলদলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে চালক ও হেলপারকে উদ্ধার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালায়। পরে দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে এ ঘটনায় অভিযোগের তীর রয়েছে প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেট্রিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) দিকে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকের মালিক ও বাঘাইছড়ি পৌরসভার সাবেক কমিশনার মো. আলী হোসেন ইউপিডিএফকে দায়ী করে বলেন, আমার গাড়িতে পাহাড়ের আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ আগুন দিয়েছে। আগুন দেয়ার আগে শুকনাছড়া নামক জায়গায় ১ হাজার টাকা চাঁদাও নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি, এটাই আমার বড় অপরাদ। এজন্য ইউপিডিএফ আমার গাড়িতে আগুন দিয়েছে। না হয় দুইটি গাড়ি একইসঙ্গে আসছিল। একটি ছেড়ে দিয়ে আমার গাড়িতে কেন আগুন দেবে?

মারিশ্যা বাজারের ব্যবসায়ী ও মালামাল পরিবহনকারী সাহাব উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন যাবত বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল ইউপিডিএফ। কিন্তু সময়মতো চাঁদা না দেয়ায় রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়সহ নানা রকম হয়রানি করত তারা। কিছুদিন আগেও গাড়িতে ঢিল ছুড়ে গ্লাস ভেঙে দেয় এবং আজ সকালে গাড়িতে আগুন দেয়।

তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে ইউপিডিএফের প্রচার ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান নিরন চাকমার মুঠোফোনে কল করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

অপরদিকে এ ঘটনার পর সীমানা জটিলতায় নানা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দিচ্ছে পুলিশ। এ প্রসঙ্গে বাঘাইছড়ি থানা পুলিশের ওসি আবুল মনজুর বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। ঘটনাস্থল সাজেক থানার আওতাধীন হওয়ায় সাজেক থানার ওসি বিষয়টি দেখছেন।

তবে সাজেক থানা পুলিশের ওসি নুরুল আনোয়ার বলেন, ঘটনাস্থলটি আমার থানায় পড়েনি। কবাখালি দিঘিনালা থানায় পড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনির বিপরীতে দলের নেতাকর্মীদের ‘জয় হিন্দ’ ও ‘জয় বাংলা’ বলার নির্দেশ দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার এ নির্দেশনার সমালোচনা করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিএম) নেতা মহম্মদ সেলিম বলেছেন, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তুলেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেটাই নকল করছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। চন্দ্রকোনায় মমতার গাড়ি বহরের সামনে ‘জয় শ্রী রাম’ জয়ধ্বনি ঘিরে সূত্রপাত হয় বিতর্কের। এরপর নির্বাচনী প্রচারেও ‘জয় শ্রী রাম’ ইস্যুকে ব্যবহার করে বিজেপি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদি পশ্চিমবঙ্গ এসে মমতার উদ্দেশে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম দিদি। আমায় জেলে ঢোকান’। মমতা এর জবাবে বলেন, ‘জয় শ্রী রাম’ বাংলার সংস্কৃতি নয়। বিজেপির স্লোগান তিনি মুখে তুলবেন না। এরপরই ‘জয় শ্রী রাম’র বিপরীতে পাল্টা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হিন্দ’ স্লোগানের প্রচার শুরু করেন মমতা। মমতার জয় বাংলা স্লোগান প্রসঙ্গে রায়গঞ্জের সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘জয় বাংলা’ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের স্লোগান। মুজিবুর রহমান দিয়েছিলেন। এরা (মমতার তৃণমূল) আসলে নকল করতে অভ্যস্ত।’ নিমতায় মৃত দলীয় নেতার পরিবারকে দেখতে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বীকার করেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামেও এই স্লোগান ব্যবহৃত হয়েছিল। তবে তিনি এ-ও বলেছেন, প্রথম জয় বাংলা স্লোগান তুলেছিলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। মমতার দাবি, বিষয়টা দেশ না, বাংলা ভাষার সঙ্গে সম্পর্কিত।

© All rights reserved © 2019 sorejominbarta.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com